আল্যা সর্বব্যাপী – তিনি বরাহেও আছেন, বিষ্ঠাতেও আছেন # আল্যা সর্বব্যাপী – তিনি বোরখাতেও আছেন, বিকিনিতেও আছেন # আল্যা সর্বব্যাপী – তিনি জলাশয়েও আছেন, মলাশয়েও আছেন # আল্যা সর্বব্যাপী – তিনি উটমূত্রেও আছেন, কামসূত্রেও আছেন # আল্যা সর্বব্যাপী – তিনি আরশেও আছেন, ঢেঁড়শেও আছেন # আল্যা সর্বব্যাপী – তিনি হাশরেও আছেন, বাসরেও আছেন

বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৫

ইছলাম: ধর্মীয় রাজনীতি নাকি রাজনৈতিক ধর্ম? - ৪

লিখেছেন জর্জ মিয়া


হযরত আবু সাঈদ (রাঃ) বর্ণিত রাসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “কুরান ছাড়া আমার কোনো কথা লিখো না, যদি লিখে থাকো তবে তা নিশিহ্ন করে দাও।” - ইবনে হিশাম – পৃষ্ঠা দশ। এই উক্তির কারনেই কেউ লিপিবদ্ধ করার সাহস পায়নি। তাদের যুক্তি ও জোরালো দাবি ছিল এই যে, কুরান নাজিল হবার কালে মোহাম্মদের উক্তি লিখে রাখলে কোরানের সাথে তা মিলেমিশে একাকার হয়ে যেতে পারে - এরূপ আশংকা ছিল। ‘শুধুমাত্র এই মিশ্রণ এড়ানোর জন্যই যে এই নিষেধাজ্ঞা উচ্চারিত হয়েছিল এবং তা যে কোরান নাজিল-কালের জন্যই সীমাবদ্ধ ছিল, সে কথা না বললেও চলে।’

কোরান সম্বন্ধে নানা তথ্য পাওয়া যায়। যেমন, কোরানের আয়াত নিয়ে আছে এক অদ্ভুত মতভেদ। খোদ সৌদি আরব থেকেই কোরান দুই রকমের প্রকাশিত হয়ে থাকে। শিয়া সম্প্রদায় দাবি করে, শুরুতে কোরানের আয়াত সংখ্যা ছিল ১৭০০০, এবং কোরানের মধ্যে বেলায়েত নামে একটি সুরা ছিল, যে-সুরায় হযরত আলি, ফাতিমা ও হাসান-হোসেনের গুরুত্ব বিষয়ে লিখিত ছিল। পরবর্তী কালে আয়াত সংখ্যা হয় ৬৬৬৬ এবং সেখান থেকে কমে এ পর্যন্ত তা ৬২৩৬-এ দাঁড়িয়েছে। কমেছে ৪৩০ টি আয়াত। পূর্বে সুরা আনামের আয়াত-সংখ্যা ছিল ১৬৬ টি, কিন্তু বর্তমান কোরানে সুরা আনামের আয়াত সংখ্যা ১৬৫ টি।

আবার বিভিন্ন কোরানের আয়াতেও নানা রকম গরমিল লক্ষ্যণীয়। আমাদের দেশের সাধারণ মুছল্লি থেকে শুরু করে বিভিন্ন আলেমও দাবি করে যে, কোরান নাযিল কালের পরে থেকে নাকি একটা আয়াত দূরে থাক, একটা হরফেরও কম-বেশি ঘটেনি। এমনকি এমন কাজও কেউ করেনি। আসলেই কি তাই?

একটা সামান্য জিনিস দেখা যাক প্রথমেই। "পড় তোমার প্রভুর নামে যিনি তোমার পালনকর্তা" - এই আয়াতটি সুরা আলাকের ৫ নম্বরে বিদ্যমান। এখানে মজার বিষয় হলো যে, এই আয়াতটি কোরানের প্রথম সুরায় নেই। কেন নেই? জানতে হলে আমাদের আগে জানতে হবে কোরানের ইতিহাস। নবী মোহাম্মদ ও কোরান এই দুইয়ে মিলেই আজকের ইছলাম। হাদিস ও সিরাতও কম উল্লেখযোগ্য নয়। আর বর্তমান সময়োপযোগী করার জন্য কিছু নিয়ম কানুন বের হয়েছে যার নাম ইজমা কিয়াস। ইছলামের সব থেকে বেশি বিতর্কিত ব্যাপারগুলোর মধ্যে ইজমা কিয়াস অন্যতম। এক স্কলার একভাবে মত দেয়, তো অন্য স্কলার অন্যভাবে। সে যাই হোক, আজকে আলোচনার বিষয় এটি নয়।

কোরাইশ বংশের দুই গোত্র উমাইয়া ও হাশিমী। হাশিমি গোত্রে মোহাম্মদ জন্ম নেন। তিনি নবী হবার প্রথম পর্যায়ে দীর্ঘ ১০ বছর (২৪-৪০) তেমন কোনো সুবিধাই করতে পারেননি। তার নব্য ও একমাত্র সত্য (!) ধর্ম ইছলাম গ্রহণকারীর সংখ্যা সর্বমোট মাত্র শ দেড়েকের মত! অথচ এই সময়েই (যদি সবার কাছে সুগ্রহনযোগ্য মনে হতো) ইছলামের ছায়াতলে চলে আসার কথা ছিলো সমগ্র বিশ্বের মানুষের। আল্লা তথা স্রষ্টার অনুমোদিত একটা মাত্র ধর্ম, যার নাম ইছলাম ও মোহাম্মদ তার বার্তা বাহক। দুনিয়ার আর কোনো ধর্মই সত্য নয় ইছলাম ব্যতীত। সেই ইছলামের শুরুর দিকে গ্রহণকারীর সংখ্যা এত কম কেন, সে প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই যে কোনো মোহমুক্ত মানুষের মনে জাগ্রত হয়। যারা ইছলাম গ্রহণ করেছিল, সে সময়ে তারা প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে সুবিধাবঞ্চিত। এক্ষেত্রে বলা যায়, যেহেতু সমাজে সুবিধাবঞ্চিত, দরিদ্র, কিছু মানুষকে নতুন আশার আলো, সাম্যের গান [এখানে গান বলা যাবে না, কেননা ইহা শরিয়তে নিষিদ্ধ] শোনালেন, স্বভাবতই তার দলে ভিড়ে গেল কিছু মানুষ। প্রকাশ্যে তখনও ইছলাম প্রচার শুরু হয়নি।

“তোমরা একে অন্যের প্রতি জুলুম করিও না”, “অভাবীকে অন্ন দাও”, “যে ব্যক্তি অভাবীকে খাদ্য দিলো, সে ব্যক্তি আল্ল্যার নিকট অতি প্রিয়”, “যে ব্যক্তি একজন ক্রীতদাসকে আযাদ করে দিলো, সে যেন একখানা জান্নাত কিনে নিল আল্যার কাছ থেকে এরই বিনিময়ে” (তৃতীয়টি হাদিস, যা ওমর একবার এক দাসকে মুক্ত করায় মোহাম্মদ ওমরকে উদ্দেশ্য করে এই কথাটা কথা বলেছিলেন) - দেখা যাচ্ছে, কতই না ভালো ভালো কথাবার্তা!

তাও কেন সংখ্যায় এত কম মুছলিম তখন? কেউ রহস্যের জট খুলে দিয়ে যেতে পারলে বড়ই উপকৃত হতাম। যাই হোক, এরপরে একটু চোখ বোলাই ইছলামি ইতিহাসের দিকে। মোহাম্মদের প্রথম দিককার কোরান লেখক ছিলেন (কাতিবান) ইবনে সা’দ। আবার প্রথম গোমর ফাঁসকারীও হলেন এই ইবনে সা’দ। হযরত আল বাদাওয়ী র তফসির ‘আছরাবুত তানজিল ওয়া আছরাবুত তা’য়ীল’ গ্রন্থে বর্ণনা করেন:
একদিন মোহাম্মদ (দঃ) সুরা আলমুমিনুন এর ১২ থেকে ১৪ পর্যন্ত আয়াত লেখার জন্য আব্দুল্লাহ বিন সা’দকে বললেন: “আয়াতটা আর আমরা নিশ্চয়ই মানুষকে সৃষ্টি করেছি মাটির নির্যাস থেকে । অতঃপর আমরা তাকে বীর্যরূপে এক নিরাপদ অবস্থান স্কলে স্থাপন করি। এরপর আমরা বীর্যকে তৈরি করে, অতঃপর হাড়গুলোকে মানস দ্বারা আবৃত করেছি। অবশেষে তাকে নতুন রূপে দাঁড় করিয়েছি” রসুল মোহাম্মদ ১৪ নং বাক্যটুকু বলার পর আব্দুল্লাহ বিন সা’দ তাঁর সাহিত্যিক ভাষায় বলে উঠলেন ‘নিপুণ স্রষ্টা আল্লাহ কত মহান’! মোহাম্মদ বললেন এই বাক্যটাও লাগিয়ে দাও। আবদুল্লাহ বিন সা’দ হতবাক হয়ে গেলেন। মনে মনে বললেন বিষয়টা কি, আমার মুখের কথা আল্লাহর বাণী হয় কীভাবে?
আস্তে আস্তে আব্দুল্লাহ বিন সা’দ নিশ্চিত হয়ে গেলেন যে, কোরান মোহাম্মদ বানিয়ে বানিয়ে তৈরি করেছেন। এসব কোনো আল্লা বা স্রষ্টার বাণী নয়। এর পরেই তিনি ইছলাম ত্যাগ করেন।

এখানে আরও একটা উদাহরন দেয়া যেতে পারে। যেমন, ওকাজের মেলায় (তৎকালীন মূর্তি-উপাসকদের মিলনমেলা ও উৎসব) শ্রেষ্ঠ কবিদের কবিতা কাবার দরজায় দামি কাপড়ের ওপর সোনার অক্ষরে খোদাই করে ঝুলিয়ে রাখা হতো। খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী কিন্দার রাজপরিবারের যুবরাজ ইমরুল কায়েস প্রাক-ইসলামিক যুগের আরবের শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন। তাঁর কবিতাও ওকাজ মেলায় বিজয়ী হয়। কাবা ঘরের দরজায় তা ঝোলানো ছিল। এখানে একটা ব্যাপার খেয়াল রাখা জরুরি যে, কবি ইমরুল কায়েস নবী মোহাম্মদের জন্মের অনেক আগেই মারা গিয়েছিলেন। তবুও তাঁর জনপ্রিয় কবিতাগুলো তৎকালীন আরবীয়দের মুখে-মুখেই ছিলো। আমাদের দেশে যেমন রবীন্দ্রনাথ কিংবা নজরুল।

একদা নবী কন্যা ফাতেমা কোরানের কামার সুরার ৫৪ নং আয়াত বারে বারে আবৃত্তিকালে কবি ইমরুল কায়েসের মেয়ে সেখান উপস্থিন হন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, "কী বলছো, ফাতিমা?"

ফাতেমা জবাব দেন, তিনি আল্লাহর ওহি কোরানের আয়াত পাঠ করছেন। কায়েসের মেয়ে রাগান্বিত হয়ে বললেন, "সর্বনাশ! এ তো আমার বাবার লেখা কবিতার একটি পংক্তি। তোমার বাবা, দেখি, আমার বাবার কবিতা নকল করে বেহেশত থেকে আগত আল্লাহর বাণী বলে কোরানে ঢুকিয়ে দিয়েছেন।" ফাতিমা ও কায়েসের মেয়ের এই ঘটনাটি সারা আরব জুড়েই ব্যাপকভাবে প্রচলিত। (The Origins Of the Koran, page, 236) কোরানের সাথে ইমরুল কায়েসের কবিতার আরও মিল চাইলে এখানে ঢুঁ মেরে দেখতে পারেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন