বুধবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৪

কাসুন্দিমন্থন - ১৫

(ধর্মকারীর নতুন পাঠকদের কথা ভেবে নির্বাচিত কিছু পুরনো পোস্ট পুনঃপ্রকাশ করা হবে এই সিরিজে)


১. ভগবানেশ্বরাল্লাহর অফিসিয়াল FAQ পেইজ

যদু-মধুসহ যাবতীয় হেঁজিপেঁজিদের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট থাকলে সর্বশক্তিমান, সর্বক্ষমতাধরের থাকবে না, তা তো হয় না! এখন ভগবানেশ্বরাল্লাহ সম্পর্কে আপনার যা কিছু জ্ঞাতব্য, পাবেন তার অফিসিয়াল FAQ পেইজে

প্রথম প্রকাশ: ০৯.০১.১০

২. পাসপোর্ট কন্ট্রোল

মাত্র ছেচল্লিশ সেকেন্ডের এই ভিডিওটা না দেখা ঘোর অনুচিত হবে।

ভিডিও লিংক: http://youtu.be/39UtFWbqvS4

প্রথম প্রকাশ: ২০.০১.১০

৩. ধর্মাতুল কৌতুকিম – ০৬

১৬.
– ক্রুশবিদ্ধ যিশু ও ছবির যিশুর মধ্যে পার্থক্য কোথায়?
– ছবির যিশুকে ঝোলাতে দরকার একটি পেরেক।

১৭.
স্বর্গোদ্যানে হেঁটে বেড়াচ্ছে আদম আর হাওয়া। হাওয়া জিজ্ঞেস করলো:
– আদম, তুমি আমাকে ভালোবাসো?
দীর্ঘশ্বাস ফেলে উত্তর দিলো আদম:
– উপায় তো নেই!

১৮.
বিদেশের এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন ফরম পূরণ করবার সময় এক আরবীয় শেখ "সেক্স"-এর পাশে লিখলো: সপ্তাহে চারবার। ইমিগ্রেশন অফিসার তাকে বুঝিয়ে বললো:
– এখানে লিখতে হবে MALE বা FEMALE।
আরবীয় শেখ লিখলো: MALE, FEMALE এবং মাঝেমধ্যে CAMEL.


প্রথম প্রকাশ: ১৫.০১.১০

কে যিশু (ঈসা)?

লিখেছেন জসীম উদদীন

ইসলামে বর্ণিত ঈসা আর খ্রিষ্টধর্মের প্রধানতম ব্যক্তি যিশু একই ব্যক্তি, যার জন্ম হয়েছিল অলৌকিক পবিত্র আত্মার দ্বারা। তিনি খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক হিসেবে বেশি পরিচিত। ইসলামের মতে, ইজ্ঞিল বিকৃত বলে কোরান তার বর্তমান অস্তিত্বের কথা স্বীকার করে না। কিন্তু এই ধর্মীয় ইতিহাসগুলো ব্যতীত অন্য কোনো নিরপেক্ষ ইতিহাসে যিশুর অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। 

যিশু বা ঈসা নামের কেউ কি সত্যিই ছিল বা পৃথিবীতে তার জন্ম হয়েছিল কোনো অলৌকিক ক্ষমতা বলে? প্রশ্নটা মনে হওয়ার কারণটা হল - যিশুর জীবনচরিত রচনাকারী চার ব্যক্তি মার্ক, মথি, লূক ও ইউহেন্না তাঁদের বর্ণনায় কেবল অলৌকিকভাবে যিশুর জন্মের কথা জানায়। তার জন্মপরবর্তী তিরিশ বছর সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না। তবে তার ৩০ বছর বয়সে তার ধর্মপ্রচারের কথা সম্পর্কে জানা যায়। মাঝের বছরগুলো বা যিশুর বাল্যকাল সম্পর্কে কোথাও কোনোকিছুর উল্লেখ নেই। Dan Browen তার Da Vincie Code বইতে বলেছিলেন যে, প্রথম খ্রিষ্টান গির্জা প্রতিষ্ঠিত হয় গলে (বর্তমান ফ্রান্স)। যিশুর মৃত্যুর প্রায় ৮০ বছর পরে। কিন্তু যিশুর সমসাময়িক কোনো ইতিহাসে (ধর্মীয় ইতিহাস ব্যতীত) যিশুর অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।

হেরোডোটাসের মতে ইতিহাসর লেখা শুরু হয় প্রায় খ্রি:পূ: ৫ম শতাব্দী থেকে। এই দীর্ঘ সময়ের বিবরণীতে কোথাও যীশুর অস্তিত্বের কথা বা প্রমাণ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় না। খ্রি:পূ: ৩২০০ অব্দে মিশরীয় ফারাও রাজবংশের সৃষ্টি হয়, খ্রি:পূ: ৪০০০ অব্দে মিশরে চাষাবাদ শুরু হয়, খ্রি:পূ: ৭০০০ অব্দে সিরিয়ার উত্তর উপকূলে ‘বাস সামরাতে’ জনবসতি ছিল তার প্রমাণ মেলে। তারও কোটি কোটি বছর আগে ডাইনোসর নামে একটি প্রজাতি যে পৃথিবী কাপিঁয়ে বেড়াত, তারও প্রমাণ আছে, কিন্তু যিশুর অস্তিত্ব সম্পর্কে কোনো প্রমাণ বা তথ্য নাই। 

তবে খ্রিষ্টধর্ম সম্পর্কে সম্ভবত সর্বপ্রথম জানা যায় ইতিহাসের সবথেকে কুখ্যাত যোদ্ধা জাতি ভাইকিংসদের বিভিন্ন বর্নণা থেকে। এদের নর্থম্যান বা নর্সম্যানও বলা হয়, ভাইকিংরা পূর্বদিকে রাশিয়া ও কনষ্ট্যন্টিনোপল পর্যন্ত অন্যদিকে পশ্চিমে গ্রীনল্যান্ডে পৌছে গিয়েছিল। ভাইকিংরা ৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম ইউরোপীয় অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে। আইসল্যান্ড ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার সাহিত্যে ভাইকিংদের শৌর্য-বীর্যের কথা বলা হয়েছে, স্কান্ডিনেভিয়ার মানুষরা খ্রিষ্টর্ধমে ধর্মান্তরিত হতে শুরু করলে ভাইকিংরা ধীরে ধীরে হ্রাস পেয়ে শেষ হয়ে যায়। 

ভাইকিংদের ভাবা হতো ইউরোপীয় অঞ্চলের ত্রাস, দস্যুতার জন্য বিখ্যাত এই জাতিটি যুদ্ধবাজ মনোবৃত্তির জন্যও ইতিহাস বড় একটি স্থান দখল করে আছে। তাদের ঐ সময়ের রচিত বীরগাথা থেকে জানা যায় যে, “দেবতা থরের আদেশে তারা ইংগোল্যান্ড আক্রমণ করে। কিন্তু থর তাদের সাথে প্রতারণা করেছে। এই জাতি আমাদের (ভাইকিংস) থেকেও গরীব। এখানে কিছু মঠ আর কিছু সন্ন্যাসী আছে। তারা তাদের পিতা ও তার পুত্রের প্রার্থনায় ব্যস্ত। এ জাতি নিতান্ত অসহায়। এরা কিছুই জানে না।” 

রোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, ইহুদী ধর্মনেতাদের উদ্যোগে রোমান সম্রাটগণ খ্রিষ্টধর্ম প্রচার বন্ধে নানারকম পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। ৩১১ খ্রি: রোমান সম্রাট গ্যালেরিয়াস খ্রিষ্টানদের ওপর নির্যাতন বন্ধের নির্দেশ দেন এবং পরে ৩১৩ খ্রি: সম্রাট কনস্টান্টাইন খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় অধিকার দেন। ৩৯৫ খ্রি: সম্রাট প্রথম থিউডোসিয়াস খ্রিষ্টধর্মকে রোমান সাম্রাজ্যের একমাত্র বৈধ ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দান করে। রোমান সম্রাটদের পৃষ্ঠপোষকতায় খ্রিষ্টধর্মের প্রসার ঘটে। ৪৭৬ খ্রি: জার্মানদের হাতে রোমান সাম্রাজ্যের চূড়ান্ত পরাজয় ঘটে। র্জামান যোদ্ধারা ঐ সময়ে প্রচুর গির্জা ভাঙে, সাথে সাথে পুরোহিতদেরও হত্যা করা হয়। 

মূলত ঐ সময়ে পুরোহিতসহ শিক্ষানবিশ পুরোহিতেরা ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। এই কৃতিত্বের একজন বড় দাবীদার পোপ প্রথম গেগরীর (৫৯০-৬০৪), যার হাত ধরে পোপতন্ত্রের বিকাশ হয়। যিনি র্জাযিমান দুর্ধর্ষ জাতিদের খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত করেছেন। তিনি কয়েকবার লম্বর্ডদের আক্রমণ থেকে গির্জা-পুরোহিতদের রক্ষা করে শাসনকার্যে ধর্মের ব্যবহার শুরু করেন। এরপরে পোপ লিও, সেন্ট অগাস্টিন, সেন্ট টমাস একুইনাস, সেন্ট অ্যানাটনী, সেন্ট প্যাকোমিয়াস প্রভৃতি ব্যক্তির প্রচারণার কারণে খ্রিষ্টধর্ম সম্প্রসারিত হতে থাকে। এই সকল ব্যক্তিবর্গই খ্রিষ্টধর্মের সাথে লৌকিক ব্যাপারগুলো যোগ করেন। 

এ তো গেল খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের ব্যাপার। কিন্তু সত্যিই যে যিশু বা ঈসা জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সে ব্যাপারে কোনো তথ্যই পাওয়া যায় না। এমনকি তার চার প্রধান শিষ্য হিসেবে কথিত যারা ইজ্ঞিল লিখেছে, তারাও কেউ যিশু/ঈসাকে দেখেছে,  তারও কোন প্রমাণ মেলে না। এখন প্রশ্ন থেকেই যায়: যিশু কে? সত্যিই কি তিনি অলৌকিক কোনো ক্ষমতাবলে জন্মেছিলেন? এর প্রমাণসহ উত্তর কেউই আজ পর্যন্ত দিতে পারেনি। তাহলে ধরে নেয়াই যায় যে, যিশু/ঈসা কোনো বাস্তব ব্যক্তি নয়, একটি কাল্পনিক চরিত্র মাত্র। এটা বলাই কি সঙ্গত নয়?

আবু জাহেলীয় তালিম সমগ্র - ১

লিখেছেন আবু জাহেল (Version 2)

১. ধর্মান্ধ অপেক্ষা কটূক্তিকারী নাস্তিক হাজার গুণে উত্তম, কারণ কটূক্তিকারী শুধু ধর্মকে উষ্টানি মারে আর ধর্মান্ধ ধর্মের দোহাই দিয়ে হাজারো মানুষ হত্যা করেও নিজেকে অপরাধী ভাবে না!

২. বিসমিল্লাহের অনেক বরকত শুনেছি! হুজুরদের কাছে এমন গল্প অনেক শুনেছি যে, বিসমিল্লাহ্ পড়ার কারণে শত্রু দ্বারা খাদ্যে মিশানো বিষ খেয়েও ওই মুমিন বান্দার কিছুই হয় নাই!... হুজুর ভাই, থাম! পারলে তুই একটু বিসমিল্লাহ পড়ে বিষ খা! 

৩. মোনাজাত কবুল হলে সকল কৃতিত্ব উপরওয়ালার! আর না হলে এইটা আপনার আমলের সমস্যা!

৪. ঢাকায় গাছের নিচে একটু আরাম করেও বসা যায় না! উপরওয়ালারা খালি মাথার উপর হাইগা দেয়!!! উপরওয়ালাদের এই অত্যাচার সহ্য করার মতো না!

৫. আল্লাহ মেয়েদেরকে একটা বিশেষ সুবিধা দান করেছেন! আর তা হলো... শুক্রবারেও মেয়েদের নামাজে যাওয়া লাগে না! 

৬. প্রতিদিন নামাজের পর বৃষ্টির জন্য দোয়া করা!
তারপর যে দিন বৃষ্টি হইবো সেদিন সব কৃতিত্ব মোনাজাতের!
অন্ধকারে ১০০ টা ঢিল মারল একটা-দুইটা তো লাগবই!

৭. শান্তির ধর্ম প্রতিষ্ঠায় যদি কয়েক কোটি মানুষকেও হত্যা করতে হয়, তবে তাতে দোষের কী আছে?

৮. ধর্ম মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি করে! সাম্প্রদায়িকতার জনক হইলো ধর্ম। এরপরও আপনি বলবেন, ধর্ম নৈতিকতার উৎস?

৯. আসুন, আমরা নিজে কুরআন বাংলায় পড়ি এবং অন্যকে বাংলায় পড়তে উৎসাহিত করি!!

১০. রোগী ভাল হলে, শোকর আলহামদুলিল্লাহ! আর ভাল না হলে সব হালা ডাক্তারের দোষ!

মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১৪

নিঃসীম নূরানী অন্ধকারে - ৭৭

লিখেছেন কবীর উদ্দীন

৩৮১.
বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা ছালাউদ্দীন বলেছে, বাংলাদেশে আল্লার গজবের কারণেই এতো গরম পড়ছে দোজখের মত। তার যুক্তি অনুযায়ী নবীর জন্মস্থান সৌদি আরবে আল্লার গজব সবচেয়ে বেশি ও তা চিরস্থায়ী। তাই সেখানে বাংলাদেশের চাইতে অনেক বেশি গরম পড়ে।

৩৮২.
মানুষের গায়ের রঙ সাদা, কালো ও বাদামি হয়ে থাকে বলে জানি। আপনারা কেউ কি কখনো কোনো মানুষের গায়ের রঙ ঘননীল হতে দেখেছেন? শ্রী কৃষ্ণ নামে হিন্দুদের এক দেবতা আছে। তার গায়ের রঙ ঘননীল। সে খুব অস্বাভাবিক চর্মরোগে আক্রান্ত ছিল। সে যুগে তার কোনো চিকিৎসা হয়নি। আহারে বেচারি! এ যুগে হলে চিকিৎসা করিয়ে তার সে ভয়াবহ চর্মরোগ সারান যেতো হয়ত।

৩৮৩.
আল্যার হুকুমে উহুদের যুদ্ধে এক কাফেরের প্রস্তরাঘাতে নবীজির একজন দন্ত মোবারক ন্যাক্কারজনকভাবে শহীদ হন। আমীন।

৩৮৪.
পৃথিবীতে ধর্মের সংখ্যা অগণিত। সে অনুযায়ী ধর্মগুলির প্রবর্তকদের দ্বারা স্রষ্টার সংখ্যাও অগণিত। স্রষ্টাদের পারস্পরিক সম্পর্ক আবার খালেদা-হাসিনার মত। প্রতিটি ধর্মের স্রষ্টা ও তার অনুসারীরা অন্য ধর্ম, তার অনুসারী ও স্রষ্টাকে পেলে চিবিয়ে খায়। কেউ নাস্তিক হলে তখন তাদের পিত্ত জ্বলে যায়। নাইকে নাই বললে নাই-র অনুসারী ও পূজকদের তামাশা দেখার মত হয়ে দাঁড়ায়। তবুও পৃথিবীতে নাস্তিকের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। স্রষ্টারা সবাই সমবেতকণ্ঠে বলতে থাকে, হইস না, হইস না। তাদের সেই প্যানপ্যানানি অগ্রাহ্য করেই মানুষ নিত্য নাস্তিক হয়ে চলেছে।

৩৮৫.
ফাতেমাকে মা ফাতেমা ডাকে মমিনরা। ফাতেমার স্বামী কাম কাকা আলিকে আব্বা আলি বা নানা আলি ডাকে না কেন ওরা?

হুদাই হাদিস - ০৬

[ধর্মকারীতে হাদিস সংক্রান্ত দুটো সিরিজ ('হা-হা-হাদিস' ও 'হরর হাদিস') ইতোমধ্যেই আছে। প্রথমটি হাস্যকর হাদিস বিষয়ক, আর দ্বিতীয়টি ভীতিজাগানিয়া হাদিস নিয়ে।

এর বাইরেও আরও এক ধরনের হাদিস আছে, যেগুলোর না আছে বিশেষ কোনও অর্থ, না আছে কোনও তাৎপর্য। সেই ধরনের হাদিসগুলো নিয়ে বর্তমান সিরিজ - 'হুদাই হাদিস'। ]

কোরান যাঁরা বাংলায় পড়েছেন, তাঁরা জানেন, কী ভয়াবহ বিরক্তি-উৎপাদক বই সেটা! থেকে থেকেই একই জাতীয় কথার (আমিই শ্রেষ্ঠ, আমি সবজান্তা, আমি মহান, আমার প্রশংসা করো, আমারে ডরাও... ইত্যাদি) পুনরাবৃত্তি আর ধারাবাহিকতাহীনতা তো আছেই, আর আছে ভীষণ আকস্মিকভাবে একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক বাণীর অবতারণা।

হাদিস পড়তে গিয়েও এই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এই যেমন, নিচের হাদিসটি পড়ে তার অর্থ কোনওমতে বুঝে ওঠা সম্ভব হয় - শেষ বাক্যটি হিসেবে না আনলে। ওটি এসে সব গুবলেট করে দেয়। শেষের ওই বাক্যটির অর্থই বা কী এবং কেনই বা এখানে এ কথার অবতারণা, আমি, সাধারণ এক পাঠক, একেবারেই বুজতারি নাই।
আদম রহ ……… আবূ হুরায়রা রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলে, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: প্রত্যেক নবজাতক ফিতরতের উপর জন্মগ্রহণ করে। এরপর তার মাতাপিতা তাকে ইয়াহুদী বা খৃস্টান অথবা অগ্নি উপাসকরূপে রুপান্তরিত করে, যেমন চতুষ্পদ জন্তু একটি পূর্ণাংগ বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাকে (জন্মগত) কানকাটা দেখেছ?
সহীহ বুখারি, অধ্যায়: জানাযা, হাদিস নাম্বার: ১৩০২

লুক্স লিখিত সুসমাচার - ৪৪

লিখেছেন লুক্স

৩৮৯.
১০০% মুসলমান মানেই টেরোরিষ্ট - এইটা বিশ্বের সবাই মাইনা নিছে। কিন্তু মুসলমান হইলেই দুই নাম্বারী করতে হবে কেন, বুঝি না। হিন্দুগো বাড়ি-ঘরে হামলা করবি, তো ডাইরেক্ট কর, এতো নাটক সাজানোর কী আছে? আল্লাহ (মুহম্মদ) তো আর অমুসলমানগোরে আদর-যত্ন করতে বলেন নাই, হেগোরে মাইরের উপরেই রাখতে বলেছেন, হেগো বাড়ি-ঘর পোড়াইতেই বলেছেন। তার জন্য মুহম্মদরে কটূক্তির ওজর দেখাইতে বলেন নাই। মুসলমান হইলে কোনো কথা ছাড়াই অমুসলমানগোরে কোপাইতে হবে, বেশি কথা আল্লাহ পছন্দ করেন না। আল্লাহ বলেছেন, মুমিনরা বানাইয়া কথা বলো না, এমনি কোপাও। 
(ফেইসবুকে মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (সা:) নিয়ে কটাক্ষ করা হয়েছে- এমন গুজবে জেলার হোমনায় ১টি মন্দির ও কমপক্ষে ৩০/৩৫টি বাড়ি-ঘরে হামলা এবং ব্যাপক ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রবিবার বিকালে হোমনা উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নের বাঘসিতারামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।)

৩৯০.
সৌদি আরবের পতাকায় তলোয়ারের ছবি থাকলেও আসলে ইসলামের সঙ্গে তলোয়ারের কোনো সম্পর্ক নাই। ইসলাম মোটেও তলোয়ারের মাধ্যমে প্রসার লাভ করে নাই। তবে কেউ ইসলামের বিরুদ্ধে আর আমাগো নবীজীর বিয়া-শাদী ও দাসী সংক্রান্ত কথা-বার্তা কইলে তার কল্লা ফালাই দেওয়া ফরজ।

৩৯১.
মানবসন্তান কখনো অবৈধ হতে পারে না। একটি নবজাতক শিশু এই পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে তার পিতা-মাতার ইচ্ছায়, তার নিজের ইচ্ছায় নয়। আর সন্তান জন্ম দেয়া মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং অধিকার। অতএব পৃথিবীর সব শিশুই সমান বৈধ এবং পবিত্র। 

লিভ-টুগেদার এর ফলে জন্মানো সন্তানকে বৈধতা দিয়েছে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট। ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে বসবাস করছেন কিন্তু বিবাহিত নন, এমন জুটির সন্তান হলে তা হবে বৈধ। একই সঙ্গে ওই জুটি পাবেন স্বামী-স্ত্রীর মর্যাদা। 

মানুষে-মানুষে প্রেম আর মানবশিশুর জন্মের মহত্ত্ব খ্রিষ্টানরা বুঝলো, হিন্দুরাও বুঝলো, মুসলমানরা বুঝবে কবে? জাগো, মুমিন, জাগো। জেগে জেগে ঘুম আর কত দিন?

৩৯২.
রাজধানীসহ দেশের অসহনীয় তাপমাত্রাকে আল্লাহ প্রদত্ত গজব বলে দাবি করেছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব প্রফেসর (?) মাওলানা মো সালাহউদ্দিন। 

যে দেশে মুসলমান যতো বেশি, সেই দেশে আল্লাহর গজবও ততো বেশী, হুজুররা এইটা বুঝতে শুরু করেছেন। নাস্তিকগো দেশে আহা কী ঠাণ্ডা আর হিমেল বাতাস! গা জুড়াইয়া যায়! 

বাংলাদেশরে ১০০% মুসলমানের দেশ বানাইয়া দেশে নরকের মতো গরম বাড়াইবেন, নাকি ১০০% নাস্তিকের দেশ বানাইয়া ঠাণ্ডা বরফের বাতাস খাইবেন, সেইটা দেশের মানুষ সময় থাকতে চিন্তা কইরা দেখেন।

৩৯৩.
রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার জন্য সৌদি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ আবদুল্লাহর গৃহবন্দি এক মেয়ে ৪২ বছর বয়সী সাহার। খুবই ভালো কথা।

সাহার বলেন, ''আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রেখে অদূর ভবিষ্যতে আমরাই বিজয়ী হব।'' আর এখানেই কবি ধরা খাইয়া বইস্যা রইছে গত দেড় হাজার বছর। আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রেখে মানুষের মুক্তি আর গণতন্ত্র আসে না; আসতে পারে না। অন্য কথা বলুন।

সোমবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৪

ইসলামী ইতরামি

১.
[সম্পাদিত: এখানে একটি ভুল খবর প্রকাশিত হয়েছিল। বিভ্রান্তি এড়াতে খবরটি সরিয়ে ফেলা হলো। অনিচ্ছাকৃত ভুল সংবাদ প্রকাশের জন্য ধর্মকারী আন্তরিকভাবে দুঃখিত।]

২.
'ইরান বেশিমাত্রায় ইছলামী' বলে ফেসবুকে মন্তব্য করে ইরানী মেয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে। 

৩.
হায়, নবীর দেশ চৌদি আজবেরও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াইসে নাস্তিকেরা। আর তাই আধুনিক চৌদি আইন অনুযায়ী, নাস্তিক্যবাদ = সন্ত্রাসবাদ

৪.
ইছলামের ত্রানকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়ে ইমাম মেহদী পশ্চিমা ইহুদি-নাছারা নেতাদের কতল করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের অন্যতম আয়াতুল্লাহ। আসলে নিজেরা অক্ষম বলেেই ঐশী সহায়তার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়।

৫.
এক স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক, সম্ভবত, নিজেকে মহাম্মক ও দ্বিতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীকে আয়েশা কল্পনা করে ছুন্নত পালনের লক্ষ্যে নিজের খাড়াদণ্ড ব্যবহার করতে উদ্যত হয়ে কারাদণ্ড উপহার পেয়েছে।
(লিংক: নিলয় নীল)

৬.

৭.
নবী মহাম্মকের আরেক খাছ উম্মত ৭৫ বছর বয়সে ৯ বছর বয়সী বালিকাকে ধর্ষণ ছুন্নত পালন করেছে। এহেন ঈর্ষণীয় ঈমানদণ্ডের মালিক - এক মসজিদের ইমাম। গুগল-অনুবাদ।

৮.
ঢাকার এক আরবি শিক্ষক মহাম্মককেও ছাড়িয়ে গেছে। সে ধর্ষণ করেছে পাঁচ বছরের মেয়েকে

৯.
পরকালে প্রতিশ্রুত মদের অপেক্ষায় না থেকে ছহীহ ইছলামী দেশ ইরান ইহকালেই অ্যালকোহল-বহুল হয়ে পড়ছে? 

১০.
কোরানে লেখা আছে, আল্যাফাক সর্বক্ষমতাবান, অতএব প্রমাণিত হয় যে, সে সর্বক্ষমতাবান। এই ইছলামী জুক্তি প্রয়োগ করে বলা যায়: যেহেতু কমিক বই 'আলট্রাম্যান'-এ নায়ককে দেখানো হয়েছে মহাক্ষমতাধর হিসেবে, তাই সে-ও মহাক্ষমতাধর। ফলে শিশুরা তাকে আল্যার সাথে গুলিয়ে ফেলতে পারে। তাই এই কমিক নিষিদ্ধ করা হয়েছে মালয়েশিয়ায়।
(লিংক: দাঁড়িপাল্লা)

১১.
চৌদি আজবের মতো রক্ষণশীল দেশের জন্য হুমকির কারণ হতে পারে বলে সে দেশে শয়ে শয়ে বই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। খ্যাতনামা প্যালেস্টাইনী কবির বইও বাদ পড়েনি।

১২.
মেয়েদের জন্য বিয়ের সর্বনিম্ন বয়সের ব্যাপারটি ইছলামে কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। তবে ঋতুমতী হয়নি, এমন মেয়ের বিয়েও কোরান অনুমোদন করেছে। সুরা ৬৫, আয়াত ৪-এ বলা আছে: "তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যাদের ঋতুবর্তী হওয়ার আশা নেই, তাদের ব্যাপারে সন্দেহ হলে তাদের ইদ্দত হবে তিন মাস। আর যারা এখনও ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি, তাদেরও অনুরূপ ইদ্দতকাল হবে।" আর তাই আইন করে মেয়েদের বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স বেঁধে দেয়াটা নিশ্চয়ই অনৈছলামিক

১৩.
এদিকে ইরাকে নয় বছর বয়সী মেয়ের বিয়ে আইনসম্মত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

১৪.
দ্বিতীয় শাদীর জন্য প্রথম বিবির অনুমতি নেয়াটাও অনৈছলামিক। নারীকে সর্বোচ্চ সম্মান দিতে চাইলে এ ছাড়া আর উপায় কী!

১৫.
মুছলিম পিতা তার মেয়েকে হত্যা করেছে। মেয়েটি ছিলো সমকামী। পিতার শোবার ঘরে একটি কোরান পাওয়া গেছে খোলা অবস্থায়। সেই পৃষ্ঠায় বর্ণনা করা আছে, ইছলামে সমকামিতা গুনাহ্। 

১৬.
রেস্টুরেন্ট বা ক্যাফেতে একটি নির্দিষ্ট মূল্যের বিনিময়ে all you can eat পদ্ধতির বুফে ইছলামসম্মত নয় বলে ফতোয়া জারি করা হয়েছে।

১৭.
কেউ ইছলাম ত্যাগ করলে মৃত্যুদণ্ডই তার প্রাপ্য - ছহীহ বুখারিতে (৯.৮৪.৫৭) ইছলামের নবীই দিয়ে গেছে এই ঘোষণা। আর তাই ইছলাম ত্যাগ করে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ (অর্থাৎ মাদকের ব্র্যান্ড পরিবর্তন) করায় কন্যাকে হত্যা ইছলামের দৃষ্টিতে অপরাধ নয়। ঘটনা নাইজেরিয়ায়। ঠিক একই রকম আরেকটি ঘটনা ঘটেছে উগান্ডায়: মেয়ে ইছলাম ত্যাগ করে খ্রিষ্টান হওয়ায় পিতা তাকে হত্যা করেছে।

১৮.

১৯.
ঠাণ্ডা পানির শাওয়ারের নিচে তিন বছর বয়সী শিশুকে দাঁড় করিয়ে পিতা তাকে জেরা করছে: "তুমি কি মানো একমাত্র আল্লাহকে?" অবুঝ, অবোধ শিশু উত্তর দিলো, "না।" তখন পিতা শিশুর চোখ জোর করে খুলে ধরলো, যাতে শাওয়ারের শীতল পানিতে তার চোখ পূর্ণ হয়ে যায়। শিশুর ওপরে শয়তানের আছর হয়েছে ধরে নিয়ে পিতা বাড়িয়ে দেয় অত্যাচারের মাত্রা। এক সময় শিশুটি মারা যায়।

২০.
ফাকিস্তানে এক লাইব্রেরির নাম বদলে দিয়ে রাখা হয়েছে 'ওসামা বিন লাদেন লাইব্রেরি'; শুনে আপনি খুব অবাক হয়েছেন? আমি হইনি। বিন লাদেন - অসংখ্য মুছলিমের আদর্শ।

২১.
চৌদি আজবের স্কুলবালিকাদের জন্য শরীরচর্চার ক্লাস চালু করার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নারীজাতির সম্মানহানির ব্যবস্থার প্রতিবাদ জানিয়েছে কিছু খাছ মুছলিম।

২২.
ইহুদি-নাছারাদের দেশে গিয়ে সুউচ্চ গম্বুজসম্পন্ন অতিকায় মসজিদ নির্মাণ করাটা মুছলিমদের অধিকার, তাই বলে মুছলিম দেশে অমুছলিমরা এমন দাবি করে কোন মুখে? 

২৩.
নবী মহাম্মক লেখাপড়া করেনি। আর তাই লেখাপড়া না করা মুছলিমদের জন্য ছুন্নত। ইছলামী জঙ্গিরা তাই স্কুলে হামলা করে ১০৩ জন ছাত্রীকে ধরে নিয়ে গেছে। গনিমতের মাল হিসেবে? কে জানে!

২৪.
কার্টুনে চুমুর দৃশ্য দেখানোর কারণে চৌদি আজবে কার্টুন নেটওয়ার্কের প্রচার বন্ধ করে দেয়ার দাবি উঠেছে। এসব দেখলে শিশুদের নৈতিকতা ধ্বসে পড়বে। কারণ টিভিতে হত্যা, ধর্ষণসহ অন্যান্য সহিংসতার দৃশ্য, বাস্তব জীবনে শিরশ্ছেদ, পাথর ছুঁড়ে হত্যা, ফাঁসি, পশু-জবাই বা বেত্রাঘাতের দৃশ্যের চেয়ে চুম্বনদৃশ্য অ-নে-ক বেশি ভয়ঙ্কর। 

২৫.
ফাকিস্তানে প্রতি বছর গড়ে এক হাজার হিন্দু ও খ্রিষ্টান মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করে মুছলিম বানিয়ে বিয়ে করতে বাধ্য করা হচ্ছে। খোদ ফাকিস্তানের পত্রিকাই এ কথা লিখছে। 

২৬.
নাইজেরিয়ায় ইছলামীরা মসজিদে আক্রমণ করে ৫ জনকে হত্যা করেছে। সর্বমোট মৃতের সংখ্যা ১৭। 

২৭.
সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পরিকল্পনা করা ও বোমা বানানোর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান হচ্ছে মসজিদ - আদর্শগতভাবে তো বটেই! কিন্তু আফগানিস্তানের এক মসজিদে তালিবানরা বোমা বানাতে গিয়ে নিজেরা তো মরেইছে, ধ্বংস করেছে মসজিদের দালানও। তাই মান্না দে'র গানের মতো করে গাওয়া যেতে পারে: "বোম বানাতে গিয়ে আমি শহীদ হয়ে গিয়েছি..."

২৮.
চৌদি আজবে জেলখানার মসজিদের নিযুক্ত ইমাম ও কোরান শিক্ষক কোরান শিক্ষার ক্লাসের পরই কয়েদিদের ড্রাগস চালান দিতে গিয়ে ধরা পড়েছে।

২৯.
চেক প্রজাতন্ত্রের Organized Crime Detection Unit-এর গোয়েন্দারা স্থানীয় এক ইছলামিক সেন্টার থেকে ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক বাণীসমৃদ্ধ কিছু বই উদ্ধার করেছে। বইগুলোয় বর্ণবাদ, ইহুদিবিদ্বেষ, জেনোফোবিয়া (বহিরাগতদের সম্পর্কে অহেতুক ভীতি বা ঘৃণা) ও 'নিচুশ্রেণীর' জাতিদের প্রতি সহিংসতা ছড়ানোর কথা বলা আছে। হায়! গোয়েন্দারা জানে না, ইছলামের প্রধানতম বই কোরানই তো এই ধরনের বাণী প্রচার করে সবচেয়ে বেশি।

৩০.
নাইজেরিয়ায় একটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ ও দুটি গ্রামে হামলা চালিয়ে ইছলামী জঙ্গিরা হত্যা করেছে ১৩৫ জনকে। নবীজির খাছ উম্মত এই জঙ্গিরা নবীজি স্টাইলে কয়েকজন নারীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
(লিংক: টোস্টার)

৩১.
দাঁড়িপাল্লা সাধেই লেখেননি: "বাংলাদেশে মুসলমান ছাড়া অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মানুনুভোদা নাই; তাগো খালি 'পূর্ণিমা' আছে।" মসজিদে, খুতবায়, ওয়াজ মাহফিলে, ইছালে ছওয়াবে বা অন্য যে কোনও মোল্লাস্থানে বিশেষ করে হিন্দুধর্ম সম্পর্কে অহোরাত্র  কুৎসিত মন্তব্য করা হচ্ছে মাইক লাগিয়ে, তাতে হিন্দুদের ধর্মানুভূতি আহত হবার প্রশ্ন নেই। কিন্তু ইছলামী ঈমানদণ্ড সদাউত্থিত। নবী মহাম্মক সম্পর্কে কটূক্তির গুজব ছড়িয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ৩৫টি বাড়িঘর ও একটি মন্দির ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ লোকজন ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

৩২.
নাইজেরিয়ায় গত তিন মাসে ইছলামী জিহাদীদের হাতে নিহত হয়েছে মাত্র ২৫৯৬ জন।

চিত্রপঞ্চক - ৬০

পূর্ণাকারে দেখতে ছবিগুলোর ওপরে ক্লিক করতে হবে।






দাঁড়িপাল্লার ঝাড়ি - ১০

লিখেছেন দাঁড়িপাল্লা

২৮. 
ছয় বছরের মাইয়া বিয়া না করাটা আসলে একটা কুসংস্কার ছিল। এর লাইগা তখনকার দিনের কুসংস্কারাচ্ছন্ন আরবেরা ছয় বছরের মাইয়া বিয়া করত না। প্রখ্যাত কুসংস্কার সংস্কারক নিজে ৬ বছরের মাইয়া বিয়া কইরা সেই কুসংস্কার দূর কইরা দিল।

আবার পালিত পুতের বউরে ভাগাইয়া নিয়া বিয়া না করাটাও ছিল কুসংস্কার। তাই প্রখ্যাত কুসংস্কার সংস্কারক ছলে বলে কৌশলে আল্যার নামে আয়াত ফায়াত নাজিল করে নিজের পালিত পুতের বউরে ভাগাইয়া নিয়া বিয়া কইরা সেই কুসংস্কার দূর কইরা দিল।

বউয়ের সম্পত্তিতে অন্যরা ভাগ বসাবে, এইটাও কুসংস্কার। তাই বউয়ের মাইয়ারে (এই মাইয়া সেই সংস্কারকের নিজের ঔরসজাত কি না, সে বিষয়েও সন্দেহ আছে) বিয়া দিতে হবে নিজেগো সাথে। ভাগ্যিস ক্ষমতাধর বউ তখনো বাঁইচা আছে, তাই সেই মাইয়ারে নিজে বিয়া করতে পারে না। তয় নিজে না করতে পারলেও আপন চাচাতো ভাইয়ের লগে বিয়া দিল, যাতে বউয়ের সম্পত্তিতে বাইরের কেউ এসে ভাগ বসাইতে না পারে। সেই সাথে বউয়ের মাইয়ারে আপন চাচাতো ভাইয়ের লগে বিয়া না দেয়াটাও ছিল কুসংস্কার, সেইটাও দূর হইলো।

২৯.
যে ধর্মপ্রচারক যত বেশি চালাক-চতুর, তার অনুসারীরা তত বেশি ভোদাই-বেকুব।

৩০.
হিন্দুদের নামের শেষে যে পদবীগুলা থাকে, সেগুলা একই সাথে তাদের ধর্ম-বর্ণ-জাত-পাত-গোত্র-মূত্র-পায়খানা-আবর্জনা সবকিছুর পরিচয় বহন করে। এত পরিচয় ঠেইলা এরা কোনোদিন মানুষের কাতারে আইসা দাঁড়াইতে পারবে, সেইটা বিশ্বাস করা খুব কঠিন।

নাস্তিকদের কটূক্তির দাঁতভাঙা জবাব - ১২

লিখেছেন ওয়াশিকুর বাবু

আসুন, নাস্তিকদের কটূক্তির বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দেই...


কটূক্তি ২৩:
মুহাম্মদ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করার কারণে আসমা বিনতে মারোয়ানকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন, বর্তমানে মুসলিমরাও মুহাম্মদকে ব্যঙ্গের জবাবে ফাঁসির দাবি করে। যত বড় মহামানবই হোক না কেন, তার সম্মানের মূল্য কি মানুষের জীবনের চেয়ে বেশি হতে পারে?

দাঁত ভাঙা জবাব:
দেখুন, মুহাম্মদ শুধুই একজন মহামানব ছিলেন না, তিনি ছিলেন রাহমাতুল্লিল আলামিন; যাকে সৃষ্টি না করলে আসমান-জমিন, গ্রহ-নক্ষত্র, চন্দ্র-সূর্য, প্রাণীজগৎ কিছুই সৃষ্টি হত না। বলা যায় মুহাম্মদের জন্যই মানুষ। তাই তাকে ব্যঙ্গ করা কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়...


কটূক্তি ২৪:
তার মানে, সব মানুষের আগমন হয়েছিল মুহাম্মদের কারণে। তাহলে মুহাম্মদের আগমন হয়েছিল কেন?

দাঁত ভাঙা জবাব:
দেখুন, মুহাম্মদ আসার আগে সমগ্র মানবজাতি জাহেলিয়াতের আঁধারে ডুবে ছিল। তিনি না আসলে মানব জাতি আজো বর্বর রয়ে যেত। মানুষকে রক্ষা করতেই মুহাম্মদের আগমন। তাই বলা যায়, মানুষের জন্যই মুহাম্মদ...

[বি.দ্র. কটূক্তির বদলে দাঁত ভাঙা জবাব গুলো আমার নয়। বিভিন্ন সময়ে ভার্চুয়াল মুমিনগণ যে জবাব দিয়েছেন তা কপি করে ছড়িয়ে দিচ্ছি শুধু। আপনারাও সবাই শেয়ার করে নাস্তিকদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জবাব দিন, ঈমান পোক্ত করুন...]















এক জোড়া পোস্টার

পাঠিয়েছেন তরী 

পাঠিয়েছেন কাফের নাস্তিক

রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৪

পাঁচ ফোড়ন - ০৯

লিখেছেন সাদিয়া সুমি

৪১.
ঈশ্বর যদি একজনই হবেন, তবে তার ধর্ম কেন ৪৩০০ টি? তার মানে তিনি একটি কথাকে ৪৩০০ প্রকারে ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে ৪৩০০ জনকে বলেন?

৪২.
বাইবেল ও কুরআন অনুযায়ী, সৃষ্টিকর্তা আদমকে সৃষ্টি করার পরে তাকে সবকিছুর নাম শিখিয়ে এনজেল/ফেরেশতাদের সাথে বস্তুর নাম বলার পরীক্ষা নেন। ফেরেশতারা ফেল করে, ফলে আদম মানবজাতির যোগ্যতা প্রমাণ করে। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা এই পরীক্ষায় আদমকে আগে থেকে সবকিছুর নাম শিখিয়েছিলো, ফেরেশতাদের শেখায়নি। সে আদমকে একটি অসম সুবিধা বা unfair advantage দিয়ে পরীক্ষাটিকে শুরু থেকেই সেট করে রাখে মানুষের পক্ষে যাবার। এরকম প্রতারক ও চাতুরিময় ঈশ্বরের বিশ্বাসীরা কেনে তার প্রতি বিশ্বাস রেখে এত হিংস্র হয়, সেটা চিন্তা করার মত ব্যাপার।

৪৩.
সত্য ও মিথ্যা যেমন কোনদিন মেলে না, তেমনি ৰিজ্ঞান ও ধর্মের সহাবস্থান কখনো সম্ভব নয়।

৪৪.
মোহাম্মদের ক্রীতদাসী স্ত্রী মারিয়া একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেছিলেন। যার নাম দেয়া হয়েছিল ইব্রাহিম। হিসেব করে দেখা গেছে, ইব্রাহিম যখন মারিয়ার পেটে আসেন, তখন তার সাথে সম্পর্ক চলছিল এক ছেলেবন্ধুর। মোহাম্মদের সাথে তখনও তার বিয়ে হয়নি। মোহাম্মদ এটা জানতে পেরে ঐ ছেলে বন্ধুকে লোক দিয়ে হত্যা করান।

৪৫.
ঈশ্বর কি তাহলে মানুষকে ভয় পান? তিনি মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলতে পারেন না। তার মাধ্যম বা নবীর দরকার পড়ে। আমার মনে হয় নবীদের 'ঈশ্বর' ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই এই মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবস্থা।

আরবীয় বইবিদ্বেষ: ব্যবচ্ছেদ

১.
আধুনিক শিল্প-সাহিত্য-বিজ্ঞানে আরবীয় মুছলিমদের বিস্ময়জাগানিয়া অগাধ অবদানের কারণটা কী, জানেন? এরা ভয়াবহ রকমের বইপড়ুয়া। 'আল-আরবিয়া নিউজ' থেকে জানা যাচ্ছে, একজন আরব গড়পড়তাভাবে এক বছরে পড়ে এক পৃষ্ঠার এক-চতুর্থাংশ! না, ভুল পড়েননি - এক বছরে এক পৃষ্ঠার এক-চতুর্থাংশ। একজন আমেরিকান পড়ে এগারোটি বই।

২.
এখন দেখা যাক, আরবীয়দের এহেন অদম্য পাঠপ্রীতির রহস্যটা কী: সারা আরব জাহানে গত এক হাজার বছরে যতো বই অনূদিত হয়েছে, পুঁচকে স্পেনেই ততোগুলো অনূদিত বই প্রকাশিত হয় মাত্র এক বছরে।

আসলে গুচ্ছের বই পড়ার প্রয়োজনও এদের নেই। কারণ কোরান নামের একখানা কিতাবই তো ধারণ করে বিশ্বের সমস্ত গ্যান-বিগ্যান।

ফাল দিয়া ওঠা কথা - ০৭

লিখেছেন ওয়াশিকুর বাবু

১৮.
'ইসলাম তরবারির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়নি' - এই দাবীর সাথে দ্বিমত পোষণ করলেই তরবারি দিয়ে কল্লা ফেলে দেওয়া হবে।

১৯.
ধর্মানুভূতির স্বার্থে বাকস্বাধীনতা রূদ্ধ নয়, বাকস্বাধীনতার স্বার্থেই ধর্মানুভূতিকে উদার করতে হবে... 

মডারেট মুসলিমরা, পারলে তোমাদের জঙ্গি ভাইদের মানুষ কর। ওদের ধ্বংসযজ্ঞকে ধর্মানুভূতির দোহাই দিয়ে আড়াল করে নিজেরা বাঁচতে পারবা না। ভবিষ্যতে 'ইহা সহী ইসলাম নহে' তোমাদের এই বহুল চর্বিত বাণীও ধর্মানুভূতিধারীদের কোপানলে পড়বে।

২০.
খুব স্বল্প সংখ্যক অসৎ ব্যক্তি ধর্মের কারণে সৎ হয়; কিন্তু অধিকাংশ অসৎ ব্যক্তিই ধর্মকে মোড়ক হিসেবে ব্যবহার করে...

বেদ্বীনবাণী - ০২

পাঠিয়েছেন ছাগলনাইয়ার বনলতা সেন


শনিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৪

কাসুন্দিমন্থন - ১৪

(ধর্মকারীর নতুন পাঠকদের কথা ভেবে নির্বাচিত কিছু পুরনো পোস্ট পুনঃপ্রকাশ করা হবে এই সিরিজে)


১. গড উইল ফাক য়্যু আপ

খুবই মজাদার লিরিকস আর চটকদার সুরের গান। অবশ্যদ্রষ্টব্য।

ভিডিও লিংক: http://youtu.be/wAB5ZZWpxnc

লিরিকস

Oh, sinner, do not stray
From the straight and narrow way
For the Lord is surely watching what you do
If you approach the Devils den
Turn round don't enter in
Lest the hand of the almighty fall on you.

Hell fuck you up (hell fuck you up)
Yes, God will fuck you up
If you dare to disobey his stern command.
Hell fuck you up (hell fuck you up)
Don't you know hell fuck you up
So you better do some prayin' while you can.

Long ago a man named Lot
Had a wife he thought was hot
But she could not stop her black and sinful ways.
You know it was her own damn fault
When God turned that bitch to salt.
That's the way he used to work back in those days:

He fucked em up (he fucked em up)
He really fucked em up
When the people went and turned their backs on him
He can fuck you up (hell fuck you up)
No shit hell fuck you up
Just like he fucked the people up back then.

I used to have a friend named Ray
Who walked that evil way
He cursed and drank and broke his neighbors fence
You know Ray was full aware
That some sheep were over there
And he knew them in the Biblical sense.

God fucked him up (he fucked him up)
He went and fucked Ray up
Went and paid him back for all his wicked sins.
He fucked him up (he fucked him up)
Fucked that boy completely up
Now hes married to a Presbyterian.

প্রথম প্রকাশ: ১৯.০১.১০

২. ঈশ্বর অপেক্ষা ইন্টারনেট উত্তম

কারণ:

১. অনলাইনে নরকে পোড়ার সম্ভাবনা নেই।

২. কেউ প্রোভাইডার বদল করলে তাকে আগের প্রোভাইডারের লোকজন হত্যা করে না।

৩. সেলেব্রেটিদের ন্যাংটো ছবি পাওয়া যায় নেটে।

৪. ইন্টারনেট উদ্ভট নীতিকথা ঝাড়ে না।

৫. ইচ্ছে করলেই পিসি বন্ধ করে ফেলা যায়। কিন্তু আজান, গির্জার ঘণ্টা, তবলিগের অত্যাচার, ধর্মপ্রচারকদের আগ্রাসন থামানোর উপায় নাই।

৬. ইন্টারনেট মানুষদেরকে ঘনিষ্ঠ করে।

৭. দিনে পাঁচবার উঠ-বস করা, সপ্তাহে একদিন গির্জায় যাওয়ার মতো কোনও বাধ্যবাধকতা ইন্টারনেটে নেই।

৮. ইন্টারনেট বাস্তব।

৯. ইন্টারনেট ঈশ্বরের চেয়েও বেশি জানে। ধর্মবিশ্বাসীরাও তাদের অনেক প্রশ্নের উত্তর ধর্মগ্রন্থগুলোয় না খুঁজে ইন্টারনেটের শরণ নেয়।

১০. পর্নো।

প্রথম প্রকাশ: ১৭.০১.১০

বৌদ্ধশাস্ত্রে পুরুষতন্ত্র: নারীরা হল উন্মুক্ত মলের মতো দুর্গন্ধযুক্ত - ১২



নারীনিয়ন্ত্রণ পুরুষতন্ত্রের জন্য অন্যতম দুশ্চিন্তার কারণ। বোধিসত্ত্বের প্রতিটি উপদেশের মধ্যে নারীকে নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি প্রকট ভাবে দেখা যায়। কিন্তু তারপরও ‘নারী হলো দুর্নিবার, তাকে কখনোই নিয়ন্ত্রণ করা যায় না’ এই উপদেশও দিয়েছেন স্বয়ং বোধিসত্ত্ব। 

মৃদুপাণি জাতকের (২৬২ নম্বর জাতক) বর্তমানবস্তুতে কোনো এক উৎকণ্ঠিত ভিক্ষুকে উদ্দেশ্য করে বোধিসত্ত্ব বলেন, “রমণীরা স্বীয় প্রবৃত্তির অনুসরণ আরম্ভ করিলে তাহাদিগকে রক্ষা করা অসম্ভব। পুরাকালে পণ্ডিতজনেও নিজের কন্যা রক্ষা করিতে পারেন নাই। পিতা কন্যার হাত ধরিয়াছিলেন, তথাপি সেই কন্যা প্রণোদিত হইয়া পিতার অজ্ঞাতসারে পুরুষান্তরের সহিত পলায়ন করিয়াছিলো।” 

এই জাতকের অতীত বস্তুতে জানা যায়, বোধিসত্ত্ব পুরাকালে বারানসীর রাজপদে অধিষ্ঠিত হন। তার কন্যা ও ভাগিনেয় পরস্পর প্রেমাসক্ত হয়ে পড়ে। পুরুষের প্রেমে নারীটি এতোই উদ্বেলিত ছিল যে, সংকেতস্থলে মিলনের জন্য কৌশলে পলায়ন করে। এজন্যই বোধিসত্ত্ব বলেছেন, ‘হাত ধরিয়া বেড়াইলেও কেহ রমণীদিগকে রক্ষা করতে পারে না। রমণীরা এমনই অরক্ষণীয়া।’ এ বিষয়ে বোধিসত্ত্ব যে গাঁথাটি বলেন তা হলো: 
কে পারে তুষিতে বল রমণীর মন
সাবধানে বলি সদা মধুর বচন!
নদীতে ঢালিলে জল,
কে কবে লভিবে ফল?
ললনার বাসনার অন্ত নাহি পাই।
নিয়ত নরক পথে নারীর গমন
দূর হতে সাধু তারে করে বিসর্জন।
তুষিতে নারীর মন যে করে যতন,
ভালোবাসে দেয় তারে যত পারে ধন,
ইহা মুত্র নাশ তার
যেন নারী দুর্নিবার,
ইন্ধনে লভিয়া পুষ্টি তাহাই যেমন
মুহূর্তের মধ্যে নাশ করে হুতাশন,
তেমনি নারীগণে যেবা ভালোবাসে
তাহাকেই পিশাচীরা অচিরে বিনাশে। 
(চলবে)

হা-হা-হাদিস – ৯০

হে ঈমান্দার বান্দাসকল, তোমাদের জন্য অজস্র রসময় কথা গুপ্ত রহিয়াছে হাদিস শরিফে।
- সহীহ আল-ধর্মকারী
এখন গ্রীষ্মকাল, কী যে ফাটাইন্যা গরম পড়সে দেশে! প্রকৃতির এই লীলার প্রকৃত কারণটা জানতে হইলে একটা হাদিস জানা থাকতে হবে। ইছলামের মহামূর্খ নবীর গ্যানের পরিচয়ও পাওয়া যায় এতে।

সে বলসে, একবার দোজখের আগুন আল্যাফাকের কাছে গিয়া কমপ্লেইন করলো এই বইলা যে, তার আগুনের একাংশ আরেক অংশরে খাইয়া ফালাইতেসে (এখনই হইসেন না); তখন আল্যাফাকে তারে দুইবার শ্বাস (মনে হয়, নিঃশ্বাস ও প্রশ্বাস) টানা-ছাড়ার অনুমতি দিলো। দোজখের প্রশ্বাসের সময় দুনিয়ায় শীতকাল নামে, আর দোজখ নিঃশ্বাস ছাড়লে (পুরাই ড্রাগন!) গ্রীষ্মকাল নাজিল হয়।

অর্থাৎ দোজখে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়, আর তার প্রভাবে দুনিয়ায় ঋতু বদলায়!


দুম্বা চরাইন্যা বোকাচোদা নবী জানতো না, দুনিয়ার সব জায়গায় একসাথে শীত বা গ্রীষ্ম হইতারে না। আরব জাহানটাই গোটা দুনিয়া না। চৌদি আজবে যখন গরমকাল, তখন অষ্ট্রেলিয়ায় শীত, সেই জ্ঞান তার আল্যাফাকেরও আছিলো না।
Narated By Abu Huraira:
The Prophet said, "In very hot weather delay the Zuhr prayer till it becomes (a bit) cooler because the severity of heat is from the raging of Hell-fire. The Hell-fire of Hell complained to its Lord saying: O Lord! My parts are eating (destroying) one another. So Allah allowed it to take two breaths, one in the winterand the other in the summer. The breath in the summer is at the time when you feel the severest heat and the breath in the winter is at the time when you feel the severest cold."















ইছলামী বিগ্যানের আরেক অধ্যায়: ভ্রূণতত্ত্ব

নিশ্চয়ই বাল কুড়ান সকল গ্যানের উৎস!

পাঠিয়েছেন ছাগলনাইয়ার বনলতা সেন


অচিরেই প্রকাশিতব্য কমিক ইবুক থেকে নেয়া।

শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৪

ধর্ম ও নাস্তিকতা কী

লিখেছেন জসীম উদদীন

ধর্ম: ১. আভিধানিক অর্থে ধর্ম বলতে বস্তুর গুণ, বৈশিষ্ট্য, স্বভাব বোঝায়। যেমন, লবণের ধর্ম অম্লত্ব, আগুনের ধর্ম দহন ইত্যাদি। ২. দেব-দেবী উপাসনার পদ্ধতি। 

কিন্তু উৎপত্তিগত অর্থে সংস্কৃত √ধৃ (ধারণা) এর সাথে ম (কর্তৃ) প্রত্যয় যোগে ধর্ম শব্দের সৃষ্টি। উৎপত্তিগত অর্থে ধর্ম শব্দের অর্থ হচ্ছে “যাহা ধারণা বা পোষণ করে।” অর্থাৎ একটি ধারণা। সেই সূত্রে বলা যায় ধর্ম একটি মত বা ধারণা। দর্শন যেমন একটি ধারণা বা মত। 
নাস্তিক: আভিধানিক অর্থে নাস্তিক বলতে বোঝায় ১. নিরীশ্বরবাদী, ২. যে বা যারা বেদে অবিশ্বাস করে। এই অর্থে খ্রিষ্টান, ইসলাম ও ইহুদি ধর্মসমূহ সহ অন্যান্য ব্যক্তিই নাস্তিক। 

হিন্দু ধর্মের মনুসংহিতায় বলা আছে, “যে দ্বিজ হেতুশাস্ত্র অর্থাৎ অসৎ তর্ককে অবলম্বন করে ধর্মের মূল স্বরূপ এই শাস্ত্রদ্বয়ের (শ্রুতি ও স্মৃতি) প্রধান্য অস্বীকার করে সাধু ব্যক্তিদের কর্তব্য হবে তাকে সকল কর্তব্য, কর্ম এবং সমাজ থেকে বহিষ্কার করা। কারণ সে ব্যক্তি কেবল বেদের নিন্দাকারী। অতএব নাস্তিক।” (২:১১)

সেই সময়ে নাস্তিকতার দুটি ধারা ছিল - চরমপন্থী ও নরমপন্থী নাস্তিক। চার্বাক সম্প্রদায় ছিল চরমপন্থী নাস্তিক আর বৌদ্ধ দর্শন ও জৈন ধর্ম ছিল নরমপন্থী নাস্তিক। চার্বাক সম্প্রদায় ছিল চরমপন্থী নাস্তিক ছিল, কারণ সম্ভবত তারাই প্রথম প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক থেলিছের পূর্বে বলেছিল যে, প্রাণের উৎপত্তি জড় পদার্থ থেকে।

নাসারা: বাইবেলের নতুন নিয়ম বা ইজ্ঞিল শরীফে উল্লেখ আছে যে, গালীল প্রদেশের একটি গ্রাম নাসারা। রাজা হেরদ মারা যাবার পর দৈব আদেশক্রমে যীশু বা ঈসার পিতা শিশু যীশু ও তার মা ম্যারি বা মরিয়মকে নিয়ে মিশর থেকে ঐ গ্রামে যান। সেখানেই যীশু বেড়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে ধর্ম প্রচার শুরু করে। ঐ গ্রামের অধিবাসীগণ যীশুর প্রচারিত বাণীতে বিশ্বাস স্থাপন করেছিল এবং তৎকালীন ইহুদি ধর্মে অবিশ্বাসী ছিল বলে তৎসময়ের ইহুদি ধর্মীয় নেতারা তাদের নাসারা বলতেন অন্য ধর্মের বুঝানোর জন্য।

কাফের: ইসলামের মতে, যে ব্যক্তি ইসলাম বিশ্বাস করে না, সেই ব্যক্তিই কাফের। ইসলামের মতে হিন্দু, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ব্যক্তিই কাফের। 

ধর্মে অবিশ্বাসকারীর কোনো একক ও সার্বজনীন সংজ্ঞা নেই। অনেকেই ধর্ম অবিশ্বাসকারীদের ধর্মদ্রোহী বলে থাকেন। এখন ধর্মদ্রোহী কথাটা কতটা যৌক্তিক, সে বিষয়েও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কেননা দ্রোহ শব্দের অর্থ শত্রুতা, অপরের অনিষ্ট চিন্তা করা। এখন যারা ধর্মমতে বিশ্বাসী নয়, আসলেই কি ধর্মমতে বিশ্বাসীদের বা ধর্মমতের কোনো অনিষ্ট করেছেন? 

কোনো মত বা দার্শনিক মত গ্রহণের যেমন যুক্তি আছে, তেমনি তা বর্জনেরও যথেষ্ট কারণ আছে। যেমন বলা যেতে পারে যে, হেগেলের ভাববাদ ও হিন্দু মতের সাথে কেউ একমত নয় বিধায় সেগুলোকে বর্জন করা হল, ঠিক তেমনি কারোর কাছে কার্ল মার্কসের বস্তুবাদ ও বৌদ্ধ দর্শনকে যুক্তিসঙ্গত মনে হচ্ছে বিধায় তিনি তা গ্রহণ করছেন। এমনটা হওয়া কি স্বাভাবিক নয়? কিন্তু হচ্ছে না। সময়ের স্রোতে সবকিছুই পরিবর্তনশীল। আজকে যা বর্তমান, আগামীতে তা অতীত। এটি স্বাভাভিক নিয়ম। ঠিক তেমনি কোনো মতে পূর্বে যদি অপরিবর্তনীয়, শাশ্বত বা চিরন্তন এই ধরণের কথাগুলো যোগ করা হয়, স্বাভাভিকভাবেই তা সংঘাতের সৃষ্টি করে। 

মানুষের বন্যদশায় অসহায় মানুষ যে হিংস্র পশু ও প্রকৃতির রুদ্র রূপ দেখেছে, তা থেকে নিজেকে এবং নিজের দলকে রক্ষার জন্য এক অদৃশ্য রক্ষাকর্তার কাছে বিনীত নিবেদন করেছে। যখন মানুষ আগুন আবিষ্কার করলো, তখন তারা ঐ আগুনকে রক্ষাকর্তা জ্ঞানে প্রার্থনা করতে লাগল, কেননা আগুন দিয়ে তারা হিংস্র পশু থেকে নিরাপদ ছিল। অর্থাৎ ভয়কে কেন্দ্র করেই ধর্মের উৎপত্তি হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলতে হয়:

হায় রে নির্বোধ নর
কোথা তোর আছে ঘর
কোথা তোর স্থান।
শুধু তোর ঐ টুকু 
অতিশয় ক্ষুদ্র বুক
ভয়ে কম্পমান।

নিঃসীম নূরানী অন্ধকারে - ৭৬

লিখেছেন কবীর উদ্দীন

৩৭৬.
আমার কাফের হবার রহস্য:
আল্যার হুকুম ছাড়া কিচ্ছুই হওয়া সম্ভব না। আল্ল্যা বললো, 'হও'; আর আমি কাফের হয়ে গেলাম।

৩৭৭.
ইব্রাহিম আঃ তার পুত্রকে জবাই করতে নিয়ে গিয়েছিল পাহাড়ে। মুসা আঃ আল্যাকে দেখেছিল পাহাড়ে। মহাবদ সঃ নবুয়াত পেয়েছিল পাহাড়ে। এই সকল ঘটনা কেবল জনবিরল পাহাড়ে কেন ঘটত? লোকালয়ে কেন ঘটত না?

৩৭৮.
মুত্তাকীদের জন্য প্রতিশ্রুত জান্নাতের দৃষ্টান্ত হলো; তাতে রয়েছে নির্মল পানির নহর, রয়েছে স্বাদ পরিবর্তনহীন দুধের নহর, রয়েছে সুপেয় শরাবের নহর, আরো রয়েছে পরিষ্কার মধুপূর্ণ নহর। (কোরান ৪৭;১৫)

জান্নাতে এত রকম পানীয়ের নহর রয়েছে। তবে আজকালকার দিনের অনেক জনপ্রিয় পানীয়ের নহর কিন্তু নেই। কেন? যেমন; আপেল-কমলা ও অন্যান্য বিভিন্ন ফলের রসের নহর, কোক-পেপসি-ফানটা জাতীয় বিভিন্ন সফট ড্রিংকসের নহর, ডাবের পানির নহর, খেজুর গাছের রস, তাল গাছের রস, মেপল গাছের রস আখের রস ও অন্যান্য গাছের সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর রস, বিভিন্ন ফলের স্মুদির নহর আরো ইত্যাদি ইত্যাদি রকমের পানীয়ের নহর জান্নাতে নেই কেন? জায়গার অভাব? নাকি দ্রব্যসামগ্রীর অভাব? নাকি রক্ষণাবেক্ষণের অভাব? নাকি এসব পানীয় বানানোর রেসিপি জানেন না আল্যাপাক? নাকি বুদ্ধির অভাব?

৩৭৯.
নবিজি মানে - নয় (৯) বিবি নিয়ে বিজি।

৩৮০.
নাস্তিক হবার পর থেকে আমি কারুকে ছালাম দেই না। কারুর ছালামের উত্তরে ওয়ালাইকুমুচ্ছালাম না ব'লে বলি, আপনি ভালো আছেন তো? আমার এহেন অমানবিক আচরণের জন্য সেদিন একজন আমাকে বলল, আপনি যে গুরুজনদেরকেও ছালাম দেন না, এতে করে যে তারা মনে কষ্ট পান, তা কি বুঝতে পারেন? কারুর মন রাখার জন্য ছালাম দিলে বা ছালামের উত্তর দিলে ক্ষতি কী? আমি তাকে বললাম, আমি যদি কোনো মুছলমান গুরুজন বা কারুকে বলি শূকরেরর মাংস খেতে তাহলে কি তারা খাবে? লোকটি আঁৎকে উঠে উত্তর দিলো, ছি! ছি! শূকরের মাংস খেতে যাবে কেন? ওটা হারাম না? আমি হেসে বললাম, শূকর যেমন মমিনের জন্য হারাম, ছালামও তেমনি আমার জন্য হারামে মোয়াক্কাদা। আমার মন রাখার জন্য যদি একজন মুছলমান শূকর খেতে না পারে, আমি কেন তার মন রাখার জন্য ছালাম বিনিময় করতে যাবো?

কুরানে বিগ্যান (পর্ব-৩৪): বদর যুদ্ধ-৫: মুহাম্মদের বিজয় ও কুরাইশদের পরাজয়ের কারণ ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – সাত

লিখেছেন গোলাপ

বদর যুদ্ধে কুরাইশরা ছিলেন সংখ্যায় ও শক্তিতে স্বঘোষিত আখেরি নবী হয়রত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর অনুসারীদের তুলনায় অনেক বেশি। কুরাইশদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৯৫০ জন আর মুহাম্মদ অনুসারীদের সংখ্যা ছিল তাঁদের সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশেরও কম (প্রায় ৩১৩ জন)। এতদস্বত্বেও তাঁরা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের কাছে অত্যন্ত করুণভাবে পরাজিত হয়েছিলেন! কী কারণে তা সম্ভব হয়েছিল?

বিজয়ী মুহাম্মদের দাবী:

মুহাম্মদ তাঁর এই সফলতার পেছনের কারণ হিসাবে তাঁর কল্পিত আল্লাহর পরম করুণা ও অলৌকিকত্বের দাবি করেছেন।তিনি দাবি করেছেন যে, এই অলৌকিক সফলতার দৃষ্টান্তই হলো তাঁর সত্যবাদিতা আর কুরাইশদের মিথ্যাচারের প্রমাণ। তাঁর দাবি, "এই সত্য" প্রতিষ্ঠার জন্য মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ কুরাইশ কাফেরদের খুন করার জন্য বদর প্রান্তে আসমান থেকে জিবরাইল সহ প্রায় এক হাজার দুর্ধর্ষ সশস্ত্র বীর ফেরেশতার আগমন ঘটান! [1][2][3][4]

মুহাম্মদের ভাষায়,

৮:৭-৯ - "আর যখন আল্লাহ দু’টি দলের একটির ব্যাপারে তোমাদের সাথে ওয়াদা করেছিলেন যে, সেটি তোমাদের হস্তগত হবে, আর তোমরা কামনা করছিলে যাতে কোন রকম কণ্টক নেই, তাই তোমাদের ভাগে আসুক; অথচ আল্লাহ চাইতেন সত্যকে স্বীয় কালামের মাধ্যমে সত্যে পরিণত করতে এবং কাফেরদের মূল কর্তন করে দিতে,যাতে করে সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে দেন, যদিও পাপীরা অসন্তুষ্ট হয়। তোমরা যখন ফরিয়াদ করতে আরম্ভ করেছিলে স্বীয় পরওয়ারদেগারের নিকট, তখন তিনি তোমাদের ফরিয়াদের মঞ্জুরি দান করলেন যে, আমি তোমাদিগকে সাহায্য করব ধারাবাহিকভাবে আগত হাজার ফেরেশতার মাধ্যমে।"            

>>> পাঠক, আসুন আমরা মুহাম্মদের এই দাবিটিকে একটু মনোযোগের সাথে পর্যালোচনা করি। মুহাম্মদের স্ব-রচিত ব্যক্তি-মানসজীবনী গ্রন্থে (কুরান) তাঁর এই জবানবন্দিটি ভালভাবে বুঝতে হলে তাঁর এই দু'টি বাক্যের আগের দুটি বাক্য (৮:৫-৬) থেকে শুরু করতে হবে। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে যে, আবু সুফিয়ায়ের বাণিজ্য কাফেলার খবর পেয়ে মুহাম্মদ তাঁর অনুসারীদের ডেকে ঘোষণা দিয়েছিলেন,

"'এই সেই কুরাইশদের ধন-সম্পদ সমৃদ্ধ বাণিজ্য-বহর। যাও তাদের আক্রমণ কর, সম্ভবত: আল্লাহ এটি তোমাদের শিকার রূপে দান করবেন।' তাঁরা তাঁর ডাকে সাড়া দেয়; কিছু লোক আগ্রহের সাথে, কিছু লোক অনিচ্ছায়। কারণ আল্লাহর নবী যে যুদ্ধে যেতে পারেন তা তাঁরা চিন্তা করেন নাই।" [পর্ব ৩০]"

মুহাম্মদ সেই ঘটনারই বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে:

৮:৫-৬ – “যেমন করে তোমাকে তোমার পরওয়ারদেগার ঘর থেকে বের করেছেন ন্যায় ও সৎকাজের জন্য, অথচ ঈমানদারদের একটি দল (তাতে) সম্মত ছিল না। তারা তোমার সাথে বিবাদ করছিল সত্য ও ন্যায় বিষয়ে, তা প্রকাশিত হবার পর; তারা যেন মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে দেখতে দেখতে।"      

>>> অর্থাৎ মুহাম্মদের কিছু অনুসারী [আনসার] তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই মুহাম্মদের নির্দেশ ও পীড়াপীড়ির কারণে (‘তারা তোমার সাথে বিবাদ করছিল’) এই আগ্রাসী অনৈতিক লুণ্ঠনকর্মে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁদের ধারণা ছিল যে, এই লুণ্ঠনকর্মটি হবে ঝুঁকিহীন ('যাতে কোন কণ্টক নেই')।  ঝুঁকিহীন এই কারণে যে, তাঁরা ছিলেন সংখ্যায় ৩১৩ জন, আর আবু-সুফিয়ানের সাথে ছিল মাত্র ৭০ জন। কিন্তু তাঁরা বদর প্রান্তে এসে অপ্রত্যাশিতভাবে কুরাইশ দলের সম্মুখীন হন। বদর প্রান্তে পৌঁছার আগে তাঁরা এই কুরাইশ দলের ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। কুরাইশ দলটিকে দেখে মুহাম্মদ অনুসারীরা স্বভাবতঃই অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ [তাঁদের দলে ৩১৩ জন আর কুরাইশ দলে ৯৫০ জন] সংঘর্ষে জড়িত হতে চাননি। কিন্তু মুহাম্মদ চান কুরাইশদের সাথে যুদ্ধ করতে।

মুহাম্মদ তাঁর এই জবানবন্দির পরের দু'টি বাক্যে (৮:৭-৯) ঐ ঘটনারই বর্ণনা দিচ্ছেন, এবং দাবী করছেন:

ক) - "আর যখন আল্লাহ দু’টি দলের একটির ব্যাপারে তোমাদের সাথে ওয়াদা করেছিলেন যে, সেটি তোমাদের হস্তগত হবে, আর তোমরা কামনা করছিলে যাতে কোন রকম কণ্টক নেই, তাই তোমাদের ভাগে আসুক;"

>>> এখানে দু'টি দল বলতে মুহাম্মদ বুঝাতে চাচ্ছেন:
১) আবু সুফিয়ানের বাণিজ্য কাফেলা, ও
২) বদর অভিযানে সমবেত কুরাইশ দল

সুরা আনফাল ((৮ নম্বর সুরা) নাজিল হয় বদর যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর। যুদ্ধ শেষে ফলাফল মুসলমানদের অনুকূলে আসার পর বিজয়ী মুহাম্মদ দাবি করছেন যে, তাঁর আল্লাহ আগে থেকেই এই বিজয়ের “ওয়াদা’ করেছিলেন। সাক্ষী কে? বক্তা নিজেই! দাবিকারী নিজেই তাঁর দাবির "একমাত্র সাক্ষী"! 

খ) - "অথচ আল্লাহ চাইতেন সত্যকে স্বীয় কালামের মাধ্যমে সত্যে পরিণত করতে এবং কাফেরদের মূল কর্তন করে দিতে, যাতে করে সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে দেন, যদিও পাপীরা অসন্তুষ্ট হয়"

>>> মুহাম্মদ দাবি করছেন যে, তাঁর অনুসারীরা যদিও ঝুঁকিহীন লুটতরাজ [ডাকাতি] জনিত উপার্জন কামনা করেছিলেন, কিন্তু তাঁর আল্লাহ চাইতেন কাফেরদের 'মূল কর্তন' করে দিতে। আর তার জন্য মুহাম্মদের আল্লাহ সাহায্য পাঠিয়েছিলেন। কীভাবে?  

গ) - “তোমরা যখন ফরিয়াদ করতে আরম্ভ করেছিলে স্বীয় পরওয়ারদেগারের নিকট, তখন তিনি তোমাদের ফরিয়াদের মঞ্জুরি দান করলেন যে, আমি তোমাদিগকে সাহায্য করব ধারাবাহিকভাবে আগত হাজার ফেরেশতার মাধ্যমে।"        

>>> এই অনন্ত চমকপ্রদ মহাবিশ্বের কোনো স্রষ্টা আছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই। আলোচনার খাতিরে ধরে নেয়া যাক যে, এই অনন্ত বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের একজন স্রষ্টা আছেন, যিনি মহাক্ষমতাধর এক সত্তা। অন্যত্র মুহাম্মদ দাবি করেছেন যে, তাঁর ‘আল্লাহ যখন কোনো কিছু করতে ইচ্ছা করেন, তখন তাকে কেবল বলে দেন, ‘হও’ তখনই তা হয়ে যায় ["কুন ফা ইয়া কুন” (৩৬:৮২)]'। আর এই খানে মুহাম্মদ দাবি করছেন যে, সেই মহাক্ষমতাধর “আল্লাহ চাইতেন কাফেরদের মূল কর্তন করে দিতে"।  কোনো সত্তার "ইচ্ছা করার" সঙ্গে সঙ্গেই যদি তা কার্যে পরিণত হয়, তাহলে সঙ্গত কারণেই সে সত্তাটির পক্ষে একজন অতি সাধারণ মানুষের মত খুনি ক্যাডার বাহিনী পাঠানো অসম্ভব, অবাস্তব ও অপ্রয়োজনীয়। কারণ ইচ্ছা করার সঙ্গে সঙ্গেই তার সেই ইচ্ছার বাস্তবায়ন হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে তার ইচ্ছা = তার কর্ম। কর্ম সম্পাদনের জন্য তার কোনো কিছুরই সাহায্যের কোনোই প্রয়োজন নেই। [পর্ব-১১]

এর পরেও ধরে নেয়া যাক, যে কোনো কারণেই হোক, মুহাম্মদের দাবিকৃত মহা-মতাধর আল্লাহ আকাঙ্ক্ষা করেছেন যে, তিনি কাফেরদেরকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে কুপিয়ে খুন করবেন[৮:১২] আর সেই অভিপ্রায়ে আল্লাহ তাঁর প্রিয়পাত্র স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদকে সাহায্য করার জন্য আসমান থেকে ঢাল-তলোয়ার সজ্জিত দুর্ধর্ষ ফেরেশতাকে বদর প্রান্তরে পাঠিয়েছিলেন। এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে যে-প্রশ্নটি অত্যন্ত জরুরি, তা হলো,

“৯৫০ জন কুরাইশ কে শায়েস্তা করার জন্য ঠিক কত জন অতিরিক্ত সৈন্য প্রয়োজন?”

উচ্চ কর্তৃপক্ষ (Superior authority) যদি "নিশ্চিতরূপে জানেন" যে, তাঁর একজন ফেরেশতা একাই ৯৫০ জন কাফেরকে পরাস্ত করতে সক্ষম, তবে তিনি কেন দশ জন ফেরেশতা পাঠাবেন? যদি তিনি নিশ্চিতরূপে জানেন যে, ৯৫০ জন কাফেরকে পরাস্ত করার জন্য ৫০০ জন ফেরেশতার প্রয়োজন, তবে ১০০০ জন ফেরেশতাকে তিনি মাঠে নামাবেন কোন অজুহাতে?

অপরপক্ষে, উচ্চ কর্তৃপক্ষ যদি এই একান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি সম্পর্কে "সম্পূর্ণ অজ্ঞ"হন, তবে তিনি সফলকাম হওয়ার জন্য অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই যথাসম্ভব অধিক পরিমাণ সাহায্যকারী সৈন্য পাঠাবেন। যা হতে পারে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক অধিক। আর তা তিনি নির্ধারণ করবেন "তাঁর ধারণায়" শত্রু পক্ষের সৈন্যদলের এক একটি  সৈন্যের গড় শক্তির বিরুদ্ধে তাঁর সৈন্যদলের এক একটি সৈন্যের গড় শক্তির আনুমানিক তারতম্যের ওপর ভিত্তি করে। তবে যে কোনো মনুষ্য সন্তান [যেমন, মুহাম্মদ]এরূপ অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে বিজয় নিশ্চিত করার জন্য একজন কুরাইশের শক্তির পরিমাণ একজন ফেরেশতার শক্তির সমতুল্য জ্ঞানে ৯৫০ জন কুরাইশকে পরাস্ত করার জন্য কমপক্ষে সমপরিমাণ অথবা তার অধিক সংখ্যক অস্ত্রসজ্জিত সাহায্যকারী সৈন্য মাঠে নামাবেন।

মুহাম্মদ দাবী করেছেন যে, তাঁর আল্লাহ ৯৫০ জন কাফেরকে পরাস্ত করার জন্য ১০০০ জন ফেরেশতাকে মাঠে নামিয়েছিলেন!

অর্থাৎ, স্বঘোষিত আখেরি নবী মুহাম্মদের বর্ণিত এই দাবীটি “হুবহু” একজন মনুষ্য সন্তান অনিশ্চিত বিষয়ে ঠিক যেমনটি "ধারণা" করেন ঠিক তেমনই।

সেই ১০০০ জন বহিরাগত দুর্ধর্ষ স্পেশাল ফেরেশতা বাহিনীকে সাহায্য করার জন্য মুহাম্মদের নেতৃত্বে ছিল আরও ৩১৩ জন মানবসন্তান। অর্থাৎ, আল্লাহ ও মুহাম্মদের সম্মিলিত সৈন্যের পরিমাণ ১৩১৩ জন। যা কুরাইশদের সৈন্য সংখ্যার প্রায় দেড় গুণ! এই দেড় গুণ বেশী সৈন্য নিয়ে আল্লাহ ও মুহাম্মদের সম্মিলিত সৈন্যরা সারাদিন যুদ্ধ করে “মাত্র” ৭০ জন নরাধম কাফের কুরাইশকে খুন এবং ৭০ জনকে বন্দী করতে সফলকাম হয়েছিলেন। বাকি ৮১০ জন (৮৫ শতাংশ) কুরাইশ সফলভাবে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।

মুহাম্মদের দাবীর সার সংক্ষেপ:

(১) আল্লাহর অদ্ভুত বিবেচনাবোধ!
- ডাকাতি নয়, যুদ্ধ করে নিজেরই একান্ত পরিবার পরিজনদের খুন করার আকাঙ্ক্ষা

(২) অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানবসন্তানের মতই আল্লাহর অতি সাবধানতা!
- ৯৫০ জন যুদ্ধে অনিচ্ছুক কাফের মানবসন্তানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র ১০০০ ফেরেশতা প্রেরণ

(৩) মহা সফলতার এমন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত!
- তার ও তার নবীর সম্মিলিত চেষ্টার পরও ৮৫% শত্রুর সফল পলায়ন!

স্বঘোষিত আখেরি নবী মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহর ওপরোক্ত উদ্ভট (৮:৭-৯) দাবি স্রষ্টার শক্তিমত্তাকে নিয়ে চরম তামাশা ছাড়া অন্য কোনোভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই।

মুহাম্মদ ছিলেন সপ্তম শতাব্দীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত এক আরব বেদুইন। তাঁর এ সকল উদ্ভট দাবি ও উক্তিতে অবাক হওয়ার কোনোই কারণ নেই। অবাক হওয়ার বিষয় হলো, আজকের পৃথিবীর ঐ সকল ইসলাম বিশ্বাসীদের মানসিকতা ও কর্মকাণ্ড, যারা মুহাম্মদের এই সব অর্থহীন ও উদ্ভট দাাবিকে পরম সত্য জ্ঞানে প্রচার ও প্রতিষ্ঠার ব্রতে ব্রতী।

এই মহাবিশ্বের কোনো স্রষ্টা আছে এমন কোন প্রমাণ নেই; তা সত্ত্বেও বর্তমান পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ কোনো না কোনো স্রষ্টায় বিশ্বাসী। তাঁদের প্রায় প্রত্যেকেই তাঁদের সেই নিজ নিজ স্রষ্টার পরিচয় পেয়েছেন তাঁদের পিতা-মাতা, নিজ পরিবার-পরিজন, সমাজ-সংস্কৃতি ও পরিপার্শ্বিকতা থেকে। স্বাভাবিক পরিবেশে ধর্মান্তরিতের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। যারা এই সত্যকে হৃদয়ঙ্গম করতে অসমর্থ, তাঁদের কাছে আমার অতি সরল প্রশ্ন, "আপনি যে ধর্ম ও স্রষ্টায় বিশ্বাসী, তা আপনি কীভাবে পেয়েছেন? জন্মসূত্রে নাকি ধর্মান্তরিত হয়ে?" যদি আপনি ধর্মান্তরিত ব্যক্তিদের একজন হয়ে থাকেন তবে আপনার কাছে আমার প্রশ্ন, "আপনার পিতা-মাতা, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব এবং আপনার পরিপার্শ্বের প্রায় সকল লোক তাঁদের নিজ নিজ ধর্ম ও স্রষ্টার বিশ্বাস কোথা থেকে পেয়েছেন? ধর্ম ও ঈশ্বর বিশ্বাস যে মূলত: পরিবার থেকে প্রাপ্ত বিষয়, এই সত্যকে বুঝতে কোনো মহাজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নেই।

মুহাম্মদের বিজয় ও কুরাইশদের পরাজয়ের প্রকৃত কারণ:

আদি ও বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় আমরা অতি সহজেই বুঝতে পারি যে, কুরাইশদের এই করুণ পরাজয়ের পেছনে কোনো অলৌকিকত্ব লুকিয়ে নেই। মুহাম্মদের প্ররোচনায় যে সমস্ত কুরাইশ মুহাম্মদের মতবাদে দীক্ষিত হয়ে মুহাম্মদের আদেশে মদিনায় হিজরত করেছেন, তাঁরা সবাই ছিলেন মক্কাবাসী কোনো না কোনো কুরাইশদেরই একান্ত নিকটাত্মীয়, পাড়া-প্রতিবেশী অথবা বন্ধু-বান্ধব। তাঁরা এই সব পথভ্রষ্ট স্বজন ও আনসারদের বিরুদ্ধে কোনরূপ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়াতে চাননি - যা ছিল তাঁদের অন্তর্নিহিত মানবিক বৈশিষ্ট্যেরই বহিঃপ্রকাশ। (পর্ব- ৩১)

বদর যুদ্ধের প্রাক্কালে সহকারীদের উদ্দেশে মুহাম্মদের আদেশ,

৮:১২ -১৩ - "--আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায় যেহেতু তারা অবাধ্য হয়েছে আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের, সেজন্য এই নির্দেশ। --"।

সহি বুখারি: ভলিউম ৪, বই ৫২, নং ২২০

আবু হুরাইরা হইতে বর্ণিত: আল্লাহর নবী বলেছেন,
"--সন্ত্রাসের মাধ্যমেই আমি জয়যুক্ত হয়েছি ---[5]

>>> নিঃসন্দেহে, কুরাইশদের পরাজয়ের প্রকৃত কারণ হলো মুহাম্মদ ও তাঁর সহচরদের প্রতি তাঁদের মানবিক দুর্বলতা, স্বজনদের প্রতি তাঁদের সহিষ্ণুতা, অনুকম্পা ও মানবতাবোধ। আর মুহাম্মদের দীক্ষায় দীক্ষিত নব্য মুসলমানদের জয়লাভের প্রকৃত কারণ হলো কুরাইশদেরই প্রতি তাঁদের সীমাহীন ঘৃণা, আক্রোশ ও নৃশংসতা।

ইসলামের ইতিহাসের প্রথম রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধটিই ছিল বিরুদ্ধবাদীদের প্রতি মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের প্রচণ্ড ঘৃণা, আক্রোশ ও নৃশংসতার সর্বপ্রথম চরম বহিঃপ্রকাশ ও দৃষ্টান্ত। তাই স্বাভাবিকভাবেই কুরাইশদের পক্ষে কল্পনা করাও সম্ভব ছিল না যে, মুহাম্মদ ও তাঁর মতবাদে দীক্ষিত স্বজনরা কতটা ভয়ংকর ও নিষ্ঠুর।

বিরুদ্ধবাদীদের মনে ভীতি সঞ্চারের জন্য তাঁদেরকে নৃশংসভাবে জবাই করার আদেশ জারির প্রয়োজন মুহাম্মদের। আর সেই প্রয়োজনেই তাঁর এই নৃশংসতার আদেশ। এখানে এই "আমি" আর কেউ নয়, স্বয়ং মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ! কুরাইশদের মনে ভীতি সঞ্চার করার জন্য মাফিয়া স্টাইলে "সন্ত্রাসী খুনি বাহিনী" পাঠানোর প্রয়োজন হয় রক্ত মাংসের মানুষের; স্রষ্টার নয়। মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহর ওপরোক্ত হাস্যকর দাবী ও আদেশের সাথে স্রষ্টার কোনোই সম্পর্ক নেই।

মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা (যদি থাকে) কি এত ক্ষুদ্র ও নীচ হতে পারেন?

(চলবে) 

[কুরানের উদ্ধৃতিগুলো সৌদি আরবের বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ (হেরেম শরীফের খাদেম) কর্তৃক বিতরণকৃত বাংলা তরজমা থেকে নেয়া; অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর। কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট অনুবাদকারীর পাশাপাশি অনুবাদ "এখানে"।] 

তথ্যসূত্র:

[1] Tafsir Jalalayn:

[2] Tafsir Ibne Kathir:

[3] সহি বুখারি: ভলিউম ৫, বই ৫৯, নং ৩২৭
Narrated Rifaa: (who was one of the Badr warriors) Gabriel came to the Prophet and said, "How do you look upon the warriors of Badr among yourselves?" The Prophet said, "As the best of the Muslims." or said a similar statement. On that, Gabriel said, "And so are the Angels who participated in the Badr (battle)."

[4] সহি বুখারি: ভলিউম ৫, বই ৫৯, নং ৩৩০
Narrated Ibn 'Abbas: The Prophet said on the day (of the battle) of Badr, "This is Gabriel holding the head of his horse and equipped with arms for the battle.

[5]সহি বুখারি: ভলিউম ৪, বই ৫২, নং ২২০

Narated By Abu Huraira : Allah's Apostle said, "I have been sent with the shortest expressions bearing the widest meanings, and I have been made victorious with terror (cast in the hearts of the enemy), and while I was sleeping, the keys of the treasures of the world were brought to me and put in my hand." Abu Huraira added: Allah's Apostle has left the world and now you, people, are bringing out those treasures (i.e. the Prophet did not benefit by them).