সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০১৫

ওয়াশিকুর বাবু: ইছলামী ইতরামির আরেক শিকার

মাত্র গতকাল 'সেক্যুলার ফ্রাইডে'-র লেখা 'যুক্তির মোকাবেলায় অসমর্থ অন্ধবিশ্বাসীরা' নামের একটি নিবন্ধ ড্রাফট করছিলাম ব্লগে প্রকাশের জন্য। সেখানে একটি বাক্য ছিলো:
যুক্তির মোকাবেলায় অসমর্থ বলেই অন্ধ ধার্মিকেরা হয়ে ওঠে সহিংস আর প্রাণঘাতী।
ওয়াশিকুর বাবু নাস্তিক ছিলেন। তিনি ইছলামের বিরুদ্ধে লিখতেন। লেখার উত্তর লেখার মাধ্যমে দেয়ার ইচ্ছে, যোগ্যতা ও যুক্তি ইছলামীদের নেই, তাদের আছে চাপাতি আর অস্ত্র। কোরান-হাদিস-নবীর বাণী অনুসরণ করে তাঁকে খুন করা হয়েছে।

তবে মনে রাখতে হবে, তাঁর হত্যাকাণ্ডটি কিন্তু সম্পূর্ণভাবেই ফরজ ও সুন্নত বিধায় শতভাগ ইছলামসম্মত। অতএব যারা এই হত্যাকাণ্ড সমর্থন করে, তারা মানুষ পদবাচ্য না হলেও খাছ মুছলিম, আর যারা সমর্থন করে না, তারা কোনওভাবেই মুছলিম নয়।

কেন? জেনে নিন।

শান্তির ধর্মের আসমানী কিতাব কোরান থেকে কয়েকটি শান্তিকামী আয়াত:
আর তাদেরকে হত্যা কর যেখানে পাও সেখানেই
(২:১৯১)
খুব শীঘ্রই আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করবো
(৩:১৫১)
যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।
(৫:৩৩)
যুদ্ধ কর ওদের সাথে, আল্লাহ তোমাদের হস্তে তাদের শাস্তি দেবেন। তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জয়ী করবেন এবং মুসলমানদের অন্তরসমূহ শান্ত করবেন।
(৯:১৪)
তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম।
(৯:২৯)
হে নবী, কাফেরদের সাথে যুদ্ধ (ইংরেজি অনুবাদে - strive hard) করুন এবং মুনাফেকদের সাথে তাদের সাথে কঠোরতা অবলম্বন করুন।
(৯:৭৩)
হে ঈমানদারগণ, তোমাদের নিকটবর্তী কাফেরদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাও এবং তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা অনুভব করুক আর জেনে রাখ, আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন।
(৯:১২৩)
আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়।(৮:১২)
এবার দেখা যাক, কয়েকটি হাদিসে ইছলামের নবী কী বলেছে:
আমি সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিজয়ী হয়েছি।(বুখারি ৫২:২২০)
তরবারির ছায়ার নিচে বেহেশত।
(বুখারি ৫২:৭৩)
অবিশ্বাসীকে হত্যা করা আমাদের জন্য একেবারেই ছোট্ট একটি ব্যাপার।
(তাবারি ৯:৬৯)
এ ছাড়া, আল্যা-রসুলকে স্বীকার না করা পর্যন্ত অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার নির্দেশ দেয়া আছে বুখারী ৮:৩৮৭-এ ও মুসলিম ১:৩৩-এ।

ইবন ইসহাক/হিশাম ৯৯২-এ পাওয়া যাচ্ছে নবীজির নির্দেশনা:
যারা আল্লাহকে অবিশ্বাস করে, তাদেরকে হত্যা করো।
আসুন, এখন ইছলামের ইতিহাস থেকে জেনে নেয়া যাক কয়েকটি ঘটনা:
১. নবী ও তার অনুসারীদের আগ্রাসী নৃশংস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মৌখিক প্রতিবাদ ও সমালোচনা করেছিলেন বলে ১২০ বছর বয়সী অতি বৃদ্ধ ইহুদী কবি আবু আফাককে নবীর আদেশে হত্যা করে তার অনুসারীরা।
২. আবু আফাক-কে হত্যার পর আসমা-বিনতে মারওয়ান তাঁর বিদ্বেষ প্রকাশ করলে নবীর নির্দেশে রাতের অন্ধকারে ঘুমন্ত নিরস্ত্র এই জননীকে নৃশংসভাবে খুন করে নবীজির এক চ্যালা। ঘাতক যখন এই জননীকে খুন করে, তখন এই হতভাগা মা তাঁর এক সন্তানকে বুকের দুধ পান করাচ্ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর প্রত্যুষে খুনী তার প্রিয় নবী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর সাথে একত্রে সকালের নামাজ (ফজর) আদায় করে।
৩. কাব বিন আল-আশরাফ নামের এক ব্যক্তি আল্লাহর নবীর কাজের নিন্দা করা শুরু করেন ও বদর যুদ্ধে যাদেরকে খুন করার পর লাশগুলো গর্তে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, তাদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন কবিতা আবৃতির মাধ্যমে। তাঁকেও নির্দয়ভাবে খুন করে নবীর উম্মতেরা

রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০১৫

তিনি অনেক পারেন

লিখেছেন শাহজাহান বাচ্চু

তিনি অনেক পারেন!
যাকে ইচ্ছা মারেন!
যাকে ইচ্ছা কাড়েন!

তিনি অনেক পারেন!
ঝড়ের কবল পড়লে মাঝি
তাহার সঙ্গ ছাড়েন!
তিনি অনেক পারেন!

তার উছিলায় বৈদ্য এসে
দোয়া-দরুদ ঝাড়েন!
ইতরসুলভ আয়াত দিয়া
মানুষগুলা মারেন!

নিত্য নবীরে স্মরি – ১৮৫

বানিয়েছেন দাঁড়িপাল্লা ধমাধম

'নবীপোন্দন সপ্তাহ' উদযাপনের সময় এঁকেছেন অপ্রিয় নাস্তিক

'নবীপোন্দন সপ্তাহ' উদযাপনের সময় এঁকেছেন হিমেল দিবাকর

পুরস্কার-শাস্তি: জান্নাত-জাহান্নাম

লিখেছেন নাস্তিক দস্যু

ধর্মে মৃত্যুর পরে পুরস্কার বা শাস্তির কথা বলা হয়েছে। কোনো ধর্মই ইহলোকেই  খারাপ কাজের শাস্তি কিংবা ভালো কাজের পুরস্কার দেওয়ার কথা বলে না। সব কিছুই বাকি রেখে দেয়! আজ আমরা দেখব, ইসলামে পরকালীন পুরস্কার ও শাস্তির পদ্ধতি কতটা সময়োপযোগী এবং তা ১৪০০ বছরের পুরনো যুগের মানুষের যুক্তি, সামাজিক অবস্থার সাথে মিলে কি না। এ থেকে আমরা সামান্য হলেও আন্দাজ করতে পারব, আসলে ইহলোকের কেচ্ছা কাহিনী রচনা করেছে কিছু মুর্খ, অসভ্য, ধুরন্ধর মানুষ।

জাহান্নাম:

১৪০০ বছর পূর্বে এ পৃথিবীতে বিজ্ঞানের কোনো উন্নতি ঘটেনি, তা বলাই যায়। বর্তমান কালের সভ্যতা তখনকার দিনে আশা করাটা বোকামি। তার ওপর, আরব সমাজের অবস্থা ছিলো তখন আরো করুণ। কেননা মরুভূমির প্রভাবে তাদের মেজাজ থাকত ডাকাত সর্দারদের মত। তাই তখনকার দিনে অপরাধের শাস্তিও (যদিও তখনকার দিনের বিবেচিত ভালো কাজও এখন অসভ্যতা হিসেবে বিবেচিত) ছিল তেমনি। এ যুগে যদি কারো শাস্তি হিসেবে তাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়, তবে তার বিরুদ্ধে সমগ্র মানবসমাজই প্রতিবাদ করবে। কিন্তু ১৪০০ বছর আগে এটিই ছিল সমাজে ঘটিত অপরাধের শাস্তি। সেজন্য মহানবী জাহান্নামের আগুনের ফতোয়া দিয়ছিল। চতুর মুহাম্মদ যদি আজকের দিনে জন্ম নিত, তবে সে আগুনের কথা না বলে পরকালের শাস্তি হিসেবে হয়তো টিভি কার্টুনে দেখা এক কার্টুন-চরিত্র যেভাবে অন্য কার্টুন-চরিত্রকে পিষে দিয়ে পরোটা বানায়, পরকালে জিহাদ অস্বীকারকারীদের সেভাবে পরোটা বানানো হবে বলত। তেমনি অন্যান্য শাস্তি যেমন, সাপে কামড়ানো প্রসঙ্গেও আধুনিক কিছু বলত হয়তো। আদি মুহাম্মদের মগজে যা এসেছে, তা-ই বোকা বলেছে লোকদের।

বেহেশত:

বেহেশতের অন্যতম আলোচিত একটি বিষয় হচ্ছে ৭২ খানা হুরী! আমার মনে হয়, মুমিন বান্দা অন্য যে কোনোকিছুর  চেয়ে হুর পাওয়ার প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়, যে কারনে তাদের মাঝে জিহাদী মনোভাব লক্ষণীয়। মুহাম্মদ যে বেহেশতের পুরস্কার হিসেবে হুরীর কথা বলেছে, তারও কারণ আছে। তখনকার আরব সমাজে বহুবিবাহ একটা ঐতিহ্যের মত ছিল। যার সম্পদ বেশি থাকত, সে-ই ১৫-১৬টা করে বিয়ে করত। বুইড়া বয়সেও তাদের নারীর প্রতি প্রচণ্ড ঝোঁক কাজ করত। এমনকি মুহাম্মদের দাদা জনাব আব্দুল মুত্তালিব, মুহাম্মদের বাপের বিয়ে ঠিক করতে গিয়ে নিজেও একটা কনে ঠিক করে নেয়, এবং বাপে-পুতে মিলে একসাথে বিয়ে করে। মুহাম্মদ নিজেও ১৩টা বিয়ে করেছে।

মুহাম্মদ যদি এই আধুনিক যুগে আসত, তবে বলত, বেহেশতে নেটের এমন স্পিড থাকবে এবং কম্পিউটার টেকনোলজি এমন উন্নত হবে যে, পিসির ভেতর হাত ঢুকিয়ে টেনে যে কাউকে বের করে আনা যাবে!

এভাবে অনেক কিছুই চিন্তা করা যায়। জান্নাত-জাহান্নামের শাস্তি-পুরস্কার ১৪০০ বছরের প্রাচীন আরবের সাথে হুবহু মিলে যায়, যেখানে সভ্যতার, আধুনিকতার কোনো ছাপ নেই। মুহাম্মদ যেহেতু প্রাচীন, তাই ওসব কাহিনী প্রাচীন যুগের সাথে মিলে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০১৫

ভগবানেশ্বরাল্যাফাকের আতিথেয়তা

লিখেছেন সৈকত চৌধুরী

খবরটি পড়তে গিয়ে চোখে জল চলে আসল। ধর্মান্ধ আবালরা মানুষের খাবার না খেয়ে ঘাস-লতা-পাতা খায় না কেন?

"নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী পুণ্যস্নানের সময় পদদলিত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে; আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন"।

"হুড়োহুড়ির মধ্যে স্ত্রীকে ধরে রেখেও শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে না পারার আক্ষেপে পুড়ছেন অষ্টমী পুণ্যস্নানে আসা নোয়াখালীর কবিরহাটের অনীল নাথ"।

এ ধরণের প্রাণক্ষয় ঘটার খবর প্রায়ই পাওয়া যায়। ধর্মাবালদের এমনিতেই কমন সেন্স থাকে না, তার ওপর আবার যখন ধর্মীয় উন্মাদনা চরমে ওঠে, তখন ছাগলগুলো পরিণত হয় পাগলে।

হায়রে পুণ্যস্নান! নদীর দূষিত ময়লা পানিতে স্নান করলে পাপ দূর হবে, পূণ্য লাভ হবে! আধুনিক যুগেও মানুষ এসব গাঁজাখুরিতে বিশ্বাস করে - এ দুঃখ রাখি কোথায়, বলুন?

এ তো গেল সনাতনী ছাগলদের কথা। আমাদের মুসলমান বলদরা হজ্বে যায় প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে। এবং সেখানে গিয়ে বিভিন্ন রোগের জীবাণু বহন করে নিয়ে আসা থেকে পুড়ে মরা, পদদলিত হয়ে মরা, হিটস্ট্রোকে মরা সবই আছে। ছোট্ট একটি হিসাব:
  • ২০০৬ - ৩৬২ জন হুড়াহুড়ি করে পদদলিত হয়ে নিজেরাই মারা যায় শয়তানকে পাথর মারা নামক ছাগলামি করতে গিয়ে 
  • ২০০৪ - ২৫০ জন মারা যায় একই আবলামি করতে গিয়ে। 
  • ২০০১- ৩৫ জন মারা যায় আরাফাতে। 
  • ১৯৯৮ - মারা গেছে ১৮০ জন। 
  • ১৯৯৭- ৩৫০ পুড়ে মারা যায় (উহ! কী অবস্থা!) 
  • ১৯৯৪ - ২৭০ জন। 
  • ১৯৯০ - ১৪০০ (আবার বলছি ১৪০০) জন মারা যায় ইমানুনুভূতি চরমে উঠে হুড়োহুড়ি করতে গিয়ে। দুইন্নার এত ধর্মাবাল এক জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছিল! 
  • ১৯৮৭ - ৪০০ জন।
আল্যাফাক এরকমই উপযুক্ত আতিথেয়তা প্রদর্শন করেন তার ব্যান্দাদের। অবশ্য তিনি এমন অক্ষম যে, ১৯৪১ সালে কাবা পানিতে ডুবে গেলেও বাঁচাতে পারেন নি, অথচ এটা নাকি তার ঘর, বায়তুল্লাহ!

পৃথিবী ধর্মমুক্ত হোক। পৃথিবীটা আবার মানুষের হোক।

অভিজিৎময় অভিযাত্রা - ০১

আলোর পথে আমাদের অভিযাত্রা এখন অভিজিৎহীন, কিন্তু অভিজিৎময়।

I am Avijit - আমিই অভিজিৎ-এর জন্য বানিয়েছেন সামিনা চৌধুরী এ্যানি



নদ-নদীর পানি দূষণে পাপের ভূমিকা

লিখেছেন ক্যাটম্যান

শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী পুণ্যস্নান উৎসব শুরু হয়েছে। ভোর ৫ টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে স্নান উৎসব শুরু হয়ে শনিবার ভোর ৬ টা ৫৯ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডে লগ্ন শেষ হয়। এক্ষেত্রে ভগবানেরও যে ঘন্টা, মিনিট ও সেকেন্ড সম্পর্কে বেশ জ্ঞান রয়েছে, তা স্বীকার করতেই হবে। 

যাই হোক, ততক্ষণে পুণ্যস্নানকে কেন্দ্র করে এক মহা অঘটন ঘটে গেছে। পুণ্যস্নান শুরু হওয়ার প্রায় দু’ ঘন্টার মাথায় পদদলিত হয়ে দশজন পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মাদারীপুর জেলার চর মুগরিয়া কলেজের একজন ছাগাধ্যাপকও রয়েছেন। যিনি তার জীবনে অর্জিত অজস্র পাপের ভার সইতে না পেরে নিজ জেলা ছেড়ে নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে এসেছিলেন পাপস্খলনের আশায়। কিন্তু নদের জলে পাপস্খলনের পরিবর্তে পাপী পুণ্যার্থীদের নির্মম পদাঘাতে জীবন-স্খলনের বন্দোবস্ত হয়ে গেছে তার। এ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। কারণ অজস্র পাপে জর্জরিত দুর্বিসহ জীবন ধারণ করার চাইতে নির্মম পদাঘাতে অপমানজনক মৃত্যু অধিক উত্তম ও সম্মানের। 

তাছাড়া নদের জলে মানুষের পাপস্খলনের সম্ভাবনা যতটুকু আছে, তার চেয়ে পাপী মানুষের পদাঘাতে পাপস্খলনের সম্ভাবনা অধিক। নরাধম পাপীর আত্মসম্মানবোধ না থাকতে পারে, তবে পাপের নিজস্ব সম্মানবোধ অবশ্যই রয়েছে। যে কারণে পাপ পৃথিবীর কোনও সাধারণ ও নিকৃষ্ট প্রাণীর জীবনে ভর না করে অসাধারণ ও উৎকৃষ্ট জীব মানুষের জীবনে ভর করে এবং তার জীবনকে পাপে জর্জরিত করার মধ্য দিয়ে দুর্বিসহ করে তোলে। এমন আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন পাপ অন্যের পদাঘাতজনিত অপমান সহ্য করে পাপী ব্যক্তিকে জড়িয়ে ধরে পড়ে থাকবে তেমন আশা আমরা করতে পারি না। তাই লাঙ্গলবন্দে নিহত দশজন ব্যক্তি পদাঘাতে জীবন হারিয়ে যারপর নাই লাভবান হয়েছেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

যে রূপকথাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর লাঙ্গলবন্দে পাপস্খলনের এই মহাযজ্ঞ আয়োজন করা হয়ে থাকে, তা এতটাই হাস্যকর যে, না জানলে উপলব্ধি করা কঠিন হবে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীগণ কতটা সনাতনি নরছাগ। পৌরাণিক কাহিনী থেকে জানা যায়:
একদিন পরশুরামের মা রেণুকাদেবী জল আনতে গঙ্গার তীরে যান। সেখানে পদ্মমালী (মতান্তরে চিত্ররথ) নামক গন্ধর্বরাজ স্ত্রীসহ (মতান্তরে বেশ্যাদের সাথে) জলবিহার করছিলেন। পদ্মমালীর রূপ এবং বেশ্যাদের সমবেত জলবিহার অর্থাৎ জলে নেমে যৌনসঙ্গমের দৃশ্য অবলোকন করে রেণুকাদেবী এতটাই মোহিত হন যে, তিনি তন্ময় হয়ে সেদিকে তাকিয়ে থাকেন আর সেইসাথে জলে নেমে পদ্মমালীর সাথে বেশ্যাদের অনুরূপ যৌনসঙ্গমের কামনা অনুভব করেন। অন্যদিকে ঋষি জমদগ্নির হোমবেলা পেরিয়ে গেলেও সেদিকে তার মোটেও খেয়াল নেই। সম্বিৎ ফিরে পেলে রেণুকাদেবী কলস ভরে জল নিয়ে গিয়ে ঋষি জমদগ্নির সামনে হাতজোড় করে দাঁড়ান। এদিকে ঋষি জমদগ্নি তপোবলে সবকিছু জানতে পেরে রেগে গিয়ে ছেলেদের মাতৃহত্যার আদেশ দেন। পিতার এমন অন্যায় আদেশ শুনে প্রথম চার ছেলে মাকে হত্যা করতে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু পরশুরাম পিতার আদেশে মা এবং আদেশ পালন না করা ভাইদের কুঠার দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরবর্তীকালে পিতা খুশি হয়ে বর দিতে চাইলে তিনি মা এবং ভাইদের প্রাণ ফিরে পেতে চান। তাতেই রাজি হন ঋষি জমদগ্নি। কিন্তু মাতৃহত্যার পাপে পরশুরামের হাতে কুঠার লেগেই থাকে। শত চেষ্টা করেও সে কুঠার খসাতে পারেন না তিনি। পিতার কাছে জিজ্ঞাসা করেন তার পাপ মুক্তির উপায়ের কথা। পিতা বলেন, তুমি মাতৃহত্যা ও স্ত্রীলোক হত্যা এই দুই পাপে আক্রান্ত হয়েছ, তাই তোমাকে তীর্থে তীর্থে ঘুরতে হবে, যে তীর্থের জলের স্পর্শে তোমার হাতের কুঠার খসে যাবে, মনে রাখবে সেই তীর্থই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ তীর্থস্থান। পিতার কথামতো পরশুরাম তীর্থে তীর্থে ঘুরতে থাকেন। শেষে ভারতবর্ষের সব তীর্থ ঘুরে ব্রহ্মকুন্ডের পুণ্যজলে স্নান করে তার হাতের কুঠার খসে পড়ে। পরশুরাম মনে মনে ভাবেন, এই পুণ্য বারিধারা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দিলে মানুষ খুব উপকৃত হবে। তাই তিনি হাতের খসে যাওয়া কুঠারকে লাঙ্গলে রূপান্তর করে পাথর কেটে হিমালয়ের পাদদেশ থেকে মর্তলোকের সমভূমিতে সেই জলধারা নিয়ে আসেন। লাঙ্গল দিয়ে সমভূমির বুক চিরে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হন তিনি। ক্রমাগত ভূমি কর্ষণজনিত শ্রমে পরশুরাম ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার অন্তর্গত সোনারগাঁওয়ে এসে তিনি লাঙ্গল চালানো বন্ধ করেন। এ জন্য এ স্থানের নাম হয় লাঙ্গলবন্দ। চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী ( অশোকাষ্টমী ) তিথিতে ব্রহ্মপুত্র নদে পুণ্যস্নান শাস্ত্রোক্ত মতে নির্ধারিত বিধায় প্রতি বছর উক্ত তিথিতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে পাপস্খলনের নিমিত্তে এই পুণ্যস্নান উৎসব পালিত হয়।
একজন মাতৃহন্তারকের মনগড়া ফর্মুলাকে পাপমুক্তির উপায় মেনে ছাগসনাতনি পাপী পুণ্যার্থীগণ ‘হে মহাভাগ ব্রহ্মপুত্র, হে লৌহিত্য তুমি আমার পাপ হরণ কর’ — এ মন্ত্র উচ্চারণ করে নিজ নিজ ইচ্ছানুযায়ী ফুল, বেলপাতা, ধান, দুর্বা, হরিতকী, ডাব, আমের পল্লব পণ্ঠভেতি দিয়ে তর্পণপূর্বক ব্রহ্মার নিকট কৃপা প্রার্থনা করে স্নান সম্পন্ন করেন। আর তা করতে গিয়ে পাপী সনাতনি নরছাগগণ নদ-নদী দূষণের ন্যায় মারাত্মক অপরাধ সংঘটনে অংশগ্রহণ করেন। এতদিন জানতাম নদ-নদী দূষণের জন্য শুধু শিল্প-বর্জ্য দায়ী, কিন্তু এখন দেখছি, মানুষের পাপও নদ-নদী দূষণে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে। মানুষ দিনে দিনে শুধু পাপ কামাবে, আর নদ-নদী, সাগরে গিয়ে তা ঢেলে দিয়ে জল দূষিত করবে, এমন অন্যায় মেনে নেয়া যায় না। এর বিরুদ্ধে আইন হওয়া উচিত এবং পাপী মানুষের পাপ দ্বারা সংঘটিত জল দূষণ রোধে পরিবেশ অধিদপ্তরকেও আরও সক্রিয় হতে হবে। এছাড়াও পরিবেশ রক্ষার্থে পাপী মানুষের কর্তব্য হওয়া উচিত, নিজেদের অর্জিত পাপ ঢেলে নদ-নদী ও সাগরের জল ঘোলা ও দূষিত না করে নিজ নিজ স্নানাগার বা গোসলখানায় ই. টি. পি. স্থাপন করে নিজেদের পাপ-বর্জ্য নিজ উদ্যোগে পরিশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এতদিন জানতাম গাধা জল ঘোলা করে, এখন দেখছি গাধার সাথে পাল্লা দিয়ে পাপী মানুষেরাও নিজেদের পাপ-বর্জ্য ঢেলে জল ঘোলা করে। হায়রে নরছাগ! হায়রে পাপ! হায়রে জল!

শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০১৫

আমার কোরান মজিদ পাঠ: এমনে এমনে কিছু কথা

লিখেছেন বাংলার উসমান মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ইসলাম

কোরান মজিদ পাঠ করিবার ফ্রারম্ভেই যে কথা মাথায় ঘুরাঘুরি করে, তা হল দীর্ঘ যাত্রায়, যখন কোরান-ইসলাম-শরীয়াহ রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হইয়া তার পরিভ্রমন সালাইয়া আসে, তখন যুগ অনুযায়ী শাসক বা ধর্মীয় প্রবক্তাদের মন মেজাজ জ্ঞান রুক্ষতা হিংস্রতা অনুযায়ী ইসলাম ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে ভিন্ন ভিন্ন রূপ লাভ কারাসে।

তাই সোটোলোক বাঙ্গালি ইসলামি গুরুদের চারিত্রিক চোট্টামির বৈশিষ্ট্য অনুযায়ীই বাংলাদেশের ইসলাম রূপ নিয়েছে। এখানকার মুসলিমরা হই গেসে অশিক্ষিত মাথা মোটা।

ইন্ডিয়ার মুসলিমরা বা ওখানকার ইসলাম কিন্তুক কিঞ্চিত ভিন্ন; এখানে মেজোরিটির হিন্দুর ভিতর থাইকতে থাইকতে, চাপে ফড়ি সংখ্যালঘু মুসলিমরা তুলনামূলকভাবে কিসুটা বিনয়ীর ভাব ধরতে বাধ্য, শোন্দর শোন্দর কথা কয়। এমনকি 'জাতীয়তাবাদ ধর্ম'র প্রভাব ভারতীয় মুসলিমদের ভিতর যতটা বিদ্যমান, ততটা বাংলাদেশী হুজুরদের ভিতর না।

এইবার আফনি যখন পাকিস্তান, আফগানিস্তানের ইসলাম ফর্যবেক্ষন কারেন, কি দেকবেন? আফনি দেকবেন যে, এখানকার মুসলিমরা সহিংস সশস্ত্র। এখানকার মানশ কেন এত বেশি গোলাবাজিকর বন্দুকবাজ ফ্রবন, তা বুজতে গেলে তাদের রাজনীতির ইতিহাস নিয়া আমাদিগকে অধ্যয়ন কোইত্তে হইবে।

মইধ্য ফ্রাইচ্য, অর্থাৎ সোদি কাতার কুয়েত ডুবাই ওমান ইয়েমেন বাহরাইনের ইসলাম কি ভারতীয় উফমহাদেশ অলাদের মতন? মোটেও না।

ইউরোফের ইসলাম আবার নরম সূরের,ভদ্র, সেক্যুলার টাইফ। আর আফ্রিকা? মালএশিয়া?

মোটের উফর বলা যায়, বর্তমানের সারাবিশ্বের ইসলামকে যুদি আমরা একটা কাঁঠাল ফলের সাথে তুলনা করি এবং উক্ত কাঁঠালটার ভিতর ভিন্ন ভিন্ন অবস্তানে কোনে যুদি থাকে মুসলিমদের অবস্থান, তবে কাঁঠালটার বাহিরের চামড়ার দৃশ্য থিকা অন্য লোকেরা দেকবে, এটির কুনো অংশ বোম-এর আঘাতে আঘাতে কালসেটে হই গেসে, আবার কাঁঠালটার কুনো অংশে দিখা যাবে দুর্নীতিগ্রস্ততার কারনে ঐ জায়গায় মাল মশলার অভাবে বিবর্নপ্রায়। কোনো অংশ হিংসা ক্রোধে ফাটি গেসে।

অতএব ধর্ম প্রচারের বা বিস্তারের নাম করি যখন ইসলাম নামক কাঁঠালটিকে হিংস্রতায়, হিংসায়, সাম্প্রদায়িকতায়, ক্রোধে কালসেটে দাগ ফালানো হচ্ছে বা পচায়ে ফেলা হইতেসে, তখন এটি হাদিয়া করার বা এটির সম্ভাব্য ভোক্তাকে নষ্ট করা হয়।

আচারী ধর্ম ফালনকারীদের কারনেই আজিয়া ইসলাম সারা বিশ্বে হাস্যকর ধর্মে ফরিনত হইতেসে! ধর্মকে যে কেটাগরিতে বিবেচনা করা হয়, সে কেটাগরিতে ধর্ম এখন আর নাই। এর মূল কারন ধর্মীয় বাণীকে বা আধ্যাত্মিক কথাকে যখন সরল বালখিল্য অর্থে লোকে বুঝে বা বুঝানো হয়, তখন এর ধারকেরা একে হিংস্রতায়, ঘৃন্যতায় রূপ দেয়। অতএব বিপক্ষ শক্তি সঙ্গত কারনেই একে গালি দেয় বা ধর্মের আধ্যাত্মিক গুরুকে গালিগালাজ করে।

অতএব মুসলিম হই যায় মুরতাদ, ইসলাম বিদ্বষী। অথবা নাস্তেক। নাস্তেক হওয়ার জন্য মূলত আস্তিকরাই দায়ী হয়।

যাই, সূরা ফাতিহা ফড়িগা। কামে দিবে।

চিত্রপঞ্চক - ১১৪



পাঠিয়েছেন সজীব নির্ঝর

"সেই ঠোঁটের দিকে তাকানো সবচেয়ে কঠিন, যে ঠোঁটে কখনও চুমু খাওয়া যাবে না"
(ছবি পাঠিয়েছেন মোকাম্মেল। অনুবাদও তাঁর।)


হ্যাংলা ধর্ম, বর্বর ধর্ম, সত্যবিমুখ ধর্ম

লিখেছেন শোভন

ধর্ম আর বিজ্ঞান - দুটো সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস। ধর্মের ভিত্তি যেখানে অন্ধবিশ্বাস, বিজ্ঞানে সেখানে বিশ্বাসের কোনো জায়গাই নেই, যদি আপনি উপযুক্ত প্রমাণ আর যুক্তি দেখাতে পারেন, তবেই কেবলমাত্র আপনার কথাটাকে গ্রাহ্য করা হবে। তা না হলে আপনি কী বিশ্বাস করলেন না করলেন, সেটা নিয়ে কেউ মাথা ঘামাবে না। এখান থেকেই বোঝা যায়, ধর্ম আর বিজ্ঞান কতটা ভিন্নধর্মী। মোট কথা, ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের আপাত কোনো বিরোধও নেই, আবার বন্ধুত্বও নেই। বিজ্ঞানের সাথে সত্য ঘটনার বন্ধুত্ব আর মিথ্যা-কল্পনার বিরোধ। 

প্রাচীন কালে অনেক অনেক বিশ্বাস প্রচলিত ছিল, দেবী হেরার মাতৃদুগ্ধ থেকে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির সৃষ্টি হওয়া থেকে শুরু করে অ্যাটলাস-এর (গ্রিক মিথোলজি) মাথার ওপর পৃথিবী থাকা এবং সূর্যের পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘোরা - সবই প্রাচীন কালের বিশ্বাস এবং এগুলোকে তখন সত্য বলে মানা হত। এখনকার ধার্মিকদের জন্ম যদি সেই সময় হত, তাহলে তারাও এটাকে সত্য বলত, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু বিজ্ঞানের আলো এসব অন্ধকারকে দূর করে দিল। মিথ্যা কল্পনাকে দূর করে সত্যটা জানালো পুরো বিশ্বকে। পৃথিবী যে অ্যাটলাসের মাথার ওপর নেই, হেরার মাতৃদুগ্ধ হতে যে আমাদের গ্যালাক্সি সৃষ্টি হয়নি, পৃথিবীর চারদিকে যে সূর্য ঘোরে না, এসব এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য।

এর পরও যদি কেউ এই সমস্ত প্রাচীন বিশ্বাসকে সত্য ধরে বসে থাকে, তো সে হবে সবার কাছে হাসির পাত্র। সত্যটাকে প্রকাশ করার জন্য বিজ্ঞানকেও কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি। বিরোধিতা এলো ধর্ম থেকেই, কারণ ধর্ম হল বিশ্বাস, আর বিশ্বাসকে মুছে দিয়ে জ্ঞানের আলো আনার প্রচেষ্টা করায় ধর্মরক্ষক ও ধর্মব্যবসায়ীরা উঠে পড়ে লাগলো সত্য উদ্ঘাটনকারীদের পেছনে। মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল সক্রেটিস, গ্যালিলিও এবং জিওনার্দো ব্রুনোর মত জ্ঞানীদের। তাঁরা মারা গিয়েছেন, কিন্তু সত্য কিন্তু অপ্রকাশিত থাকেনি। তাদের প্রকাশ করা তথ্য এখন দিনের আলোর মত পরিষ্কার সবার সামনে।

এ সকল ঘটনা থেকে মানবজাতির একটা হলেও শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত ছিল, সেটা হলো: আমরা ছোটবেলা থেকে যেটা বিশ্বাস করে আসছি, সেটা সত্য না-ও হতে পারে। সেটাকে ধরে বসে থাকলে আমরা সত্যটা কোনদিনও জানতে পারবো না। 

যদি মানুষ তাদের প্রাচীন বিশ্বাসকে ধরে বসে থাকতো, তো এখন এই মহাবিশ্বের অনেক রহস্যই আমাদের কাছে অজানা থেকে যেত, আমরা থেকে যেতাম অন্ধকারের ভেতরেই। বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে থাকলে কোনোদিনও সম্ভব হবে না জ্ঞানের আলোয় আসা। কিন্তু মানবজাতি কি সে শিক্ষা গ্রহণ করেছে? না, তারা সেই পুরনো ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে এই একুশ শতকে এসেও। ভুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য এখনও প্রাণ দিতে হচ্ছে দাভোলকার, হুমায়ুন আজাদ, রাজীব হায়দার (থাবা বাবা), সফদর হাসমি, গোবিন্দ পানসারেরা, অভিজিৎ রায়-এর মত লোকদের। এখনও এমন অনেক বিশ্বাস আমাদের ভেতর প্রচলিত, ঠিক প্রাচীন কালের মত, যাকে ছাড়তে আমরা নারাজ, যাকে আঁকড়ে ধরে রাখার জন্য আমরা খুন পর্যন্ত করতে দ্বিধাবোধ করি না, কারণ তা আমাদের ধর্মের অন্ধবিশ্বাস। 

কোনো এক বৃদ্ধ ঈশ্বর আকাশে বসে থেকে আমাদের পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, আদমের পাঁজরের হাড্ডি থেকে সৃষ্টি হয়েছে হাওয়া, খোলা চোখে দেখলে বোঝা যায় যে, এসবের সাথে প্রাচীন ওইসকল বিশ্বাসের বিন্দুমাত্র পার্থক্য নেই। এক সময় সেগুলো সত্য ছিল, এখন সেগুলো রূপকথা, এখন যে প্রমাণহীন বিশ্বাসগুলোকে আমরা সত্য বলে ধরে বসে আছি, এসবও একদিন রূপকথায় পরিণত হবে। ব্রুনোকে পুড়িয়ে সত্যটা যেমন থামানো যায়নি, অভিজিৎকে মেরেও সত্যটা থামানো যাবে না। আজ যদি আপনি কারোর সামনে গিয়ে বলেন, "সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে", তখন আপনাকে নিয়ে হাস্য-কৌতুকের অন্ত থাকবে না, (যেমন, এখন মানুষ কৌতুক করছে সৌদির সেই "বিগ্যানী"-কে নিয়ে, যে বলেছে সূর্যই নাকি পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরে), ঠিক তেমনি আজ থেকে কোনো এক নির্দিষ্ট সময় পর যখন আপনি কারোর কাছে বলবেন, "আদমের হাড্ডি থেকে হাওয়ার সৃষ্টি হয়েছিল", তখন আপনি যে উত্তরটা পাবেন, তা হলো "ড্যুড, তুমি কি এখনও সেই একুশ শতকের রূপকথাতে বিশ্বাস কর?! মাথায় সমস্যা আছে তোমার!" বিশ্বাসের পরিণতি চিরকাল এমনই ছিল, এমনই থেকে যাবে। বিজ্ঞানের কাজ হল এই অপ্রয়োজনীয় বিশ্বাস ভাঙার কাজটাকে তরাণ্বিত করা, আর ধর্মের কাজ হল কাজটার গতিকে বাধা দেয়া, মন্থর করে দেওয়া।

অধর্ম ঠেকিয়ে ধর্মকে বাঁচাতে ধার্মিকেরা এখনও দৃঢ়। তবে এখন তাদের পন্থাটা বদলে গেছে। তারা বুঝে গেছে যে, বিজ্ঞানের বিরোধিতা করে তারা ইতিহাসে কখনও জিততে পারে নি, ভবিষ্যতেও পারবে না। সুতরাং বিজ্ঞানের সাথে লড়তে হলে লাগবে তাদের নিজেস্ব বিজ্ঞান। কিন্তু তারা এটা বুঝতে ভুল করেছে যে, বিজ্ঞানের কোন প্রকারভেদ নেই, বিজ্ঞান বিজ্ঞানই, এটা ধর্মেরও ধার ধারে না, অধর্মেরও ধার ধারে না। বিজ্ঞানকে নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে ব্যর্থ হয়ে তারা নিজেরাই বানিয়ে নিয়েছে তাদের "স্যুডো বিজ্ঞান", যার ভিত্তি তাদের সেই পুরোন বস্তাপচা বিশ্বাস।

এই আধুনিক সমাজে হাজার হাজার ভণ্ড উদয় হয়েছে সকল ধর্ম থেকেই, যারা প্রাণপণ চেষ্টা করে যায় ধর্মের সাথে বিজ্ঞানকে মেলানোর। তারা অপ্রাণ চেষ্টা করে যায় বিজ্ঞানের কাছ থেকে একটা সার্টিফিকেট পাবার যে "হ্যাঁ, এই ধর্মই বিজ্ঞানসম্মত, এই ধর্মই সত্য।" এর কারণ একটাই, যা আগেই বলা হয়েছে। বিজ্ঞানের সাথে সত্যের বন্ধুত্ব, আর মিথ্যা-কল্পনার বিরোধ। তাই নিজের ধর্মকে সত্য প্রমাণ করার জন্য সেইসব ভণ্ডদের যা দরকার, তা হল বিজ্ঞানের কাছ থেকে একটি সার্টিফিকেট। তবে ধর্মের কাছ থেকে সার্টিফিকেট নেয়ার প্রয়োজনীয়তা বিজ্ঞানের কিন্তু কখনোই হয় না।

এই সার্টিফিকেট পাবার জন্য তারা পৃথিবী ওল্টাতেও দ্বিধাবোধ করে না। নিজেদের ধর্মগ্রন্থ থেকে আসা বিভিন্ন জিনিস থেকে তারা একটু ঘুুরিয়ে রং চড়িয়ে বিজ্ঞানের সাথে মেলানোর চেষ্টা করে। মাঝে মাঝে তাদের এ পাগলামি সীমা ছাড়িয়ে যায়, হাসির পাত্র হয়ে ওঠে তারা, যেমন এখন পৃথিবীর অন্যতম হাসির পাত্ররা হল জাকির নায়েক, জয়েল অস্টিন, জয়েস মায়ার, ইত্যাদি। বিজ্ঞান যখন কঠোর গবেষণা আর পরীক্ষার মাধ্যমে কোনো একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়, ঠিক তখনই ঘন্টা বাজাতে বাজাতে উপস্থিত হন সেই ভণ্ডরা। "আমার ধর্ম গ্রন্থে এটা এত বছর আগেই লেখা ছিল! যেটা বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেল আজ!!" 

এই কাহিনীই চলে আসছে আদিকাল থেকে। বিজ্ঞান কিছু আবিষ্কার করে, আর ওমনি জাকির নায়েক, জোয়েল অস্টিন জাতীয় কেউ সেটা কোরান-বাইবেলে খুঁজে পায়। আজ পর্যন্ত এর উল্টোটা হতে দেখা যায় না যে, জোয়েল, জাকির কুরান বাইবেল থেকে কিছু আবিষ্কার করার পর তার শত বছর পরে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখল - এটা সত্য। কুরান আর বাইবেলে যদি সকল বিজ্ঞান আগে থেকেই থাকতো, তবে চার্চের পাদ্রী আর মাদ্রাসার ছাত্ররা হত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী। ল্যাবরেটরির বদলে সকল স্থানে বসানো হত মাদ্রাসা আর চার্চ। 

মানুষ কি কোনোদিনও বুঝবে এই পরিষ্কার সত্যটা যে, চিরকাল পুরনো বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে থাকা সম্ভব না এবং এটা করার চেষ্টা করাটাও বোকামি? এটা চিন্তা করে আমার খুবই দুঃখ লাগে যে, এখনও পৃথিবীর সিংহভাগ মানুষই যুক্তি, প্রমাণ এবং রিজোনিং-এর চেয়ে তাদের বস্তাপচা ধর্মীয় বিশ্বাসকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। তাদের অন্ধবিশ্বাসের পরিণতি সম্পর্কে এত ঘটনা, এত উদাহরণ তাদের চোখের সামনে পেশ করার পরও তারা অন্ধের মত অন্ধকার পথের দিকেই যায়। 

পৃথিবী কি এমনই থেকে যাবে চিরকাল? চিরকালই কি সত্য প্রকাশ করার জন্য ধর্মের কাছে প্রাণ হারাতে হবে ব্রুনো, গ্যালিলিও, অভিজিৎ আর হুমায়ুন আজাদের মত জ্ঞানীদের? হয়ত হবে। সত্য বলার অপরাধে ব্রুনোকে মরতে হয়েছিল, কিন্তু সত্যটা প্রকাশিত হয়ে গিয়েছে। সত্য বলার অপরাধে অভিজিৎকে মরতে হল, কিন্তু সত্য ঠিকই প্রকাশিত হয়েছে, হচ্ছে ও হবে, আবার হয়ত এমনই কোনো এক সত্য বলার অপরাধে ভবিষ্যতে কোনো এক মূল্যবান জীবন হারিয়ে যাবে, কিন্তু সত্যটা ঠিকই প্রকাশিত হবে। সত্যটা চিরকাল ঠিকই প্রকাশিত হবে। সত্যটা চিরকাল ঠিকই প্রকাশিত হবে।

সংবাদ ইলাস্ট্রেটেড

১.
হিজাব না পরার জন্য ছাত্রীকে অমানবিকভাবে পিটিয়েছে মিশরের এক ধর্মশিক্ষক। মিশরের কায়রোতে ঘটা গত সোমবারের সেই ঘটনায় অবশেষে সেই ধর্মশিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। না, শিক্ষক তার ছাত্রীকে শুধু নৃশংসভাবে পেটায়ইনি, এমনকি তার মাথার চুলও কেটে দিয়েছে। (স-ভূমিকা লিংক: নিলয় নীল)


২.
মাত্র ৭ বছর বয়সী বালিকাকে আত্মঘাতী বোমারু বানানোর কৃতিত্ব সম্পূর্ণভাবেই ইছলামীদের। হামলায় বালিকাটিসহ আরও ৫ জন মারা গেছে।


বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০১৫

অভিজিৎ হত্যার এক মাস

লিখেছেন বন্যা আহমেদ

মার্চ মাসের ছাব্বিশ তারিখ আজ – ঠিক এক মাস আগে আমার স্বামী অভিজিৎ রায় এবং আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নির্মমভাবে আক্রান্ত হয়েছিলাম।

অভিজিৎ বিজ্ঞান এবং মানবাধিকার বিষয়ে লেখালেখি করতো, কঠোর সমালোচনা করতো ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে, এবং প্রতিষ্ঠা করেছিল মুক্তচিন্তকদের জন্য বাংলায় সর্বপ্রথম একটা অনলাইন প্লাটফর্ম – মুক্তমনা। এই সবের জন্য, ধর্মীয় মৌলবাদীরা তাঁকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

হামলাটা ঘটেছিলো জনাকীর্ণ এলাকায়, অসংখ্য মানুষের চোখের সামনে। সেখানে নিরাপত্তা ক্যামেরা ছিলো, ছিলো পুলিশ চেকপয়েন্ট। অভিজিৎ হত্যার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে ‘আনসার বাংলা ৭’ নামের একটি ইসলামি চরমপন্থী সংগঠন সামাজিক মাধ্যমে এই হামলার কৃতিত্ব দাবী করে। এতো কিছুর পরেও এক মাস পরে এসে একজন মাত্র সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা ছাড়া এই তদন্তের আর কোনো অগ্রগতি নেই।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তদন্তে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও, অভিজিৎ হত্যার পর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থেকেছে। এটি খুবই আশংকাজনক এবং ভীতিকর একটি অবস্থা। ‘আনসার বাংলা-৭’ এর নেতারা এখন কোথায় লুকিয়ে আছে? কেনো তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না বা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধরা হচ্ছে না?

যুক্তিবাদী লেখকদের ওপর এরকম হামলা বাংলাদেশে এটাই প্রথম নয়। এর আগেও এরকম ঘটনা ঘটেছে। বিচার না হবার কারণে সন্ত্রাসীরা নিজেদের ভেবেছে দুর্জেয়, আর হতাশায় মুষড়ে পড়েছে সাধারণ জনগণ। আমরা দাবি জানাই যে, বাংলাদেশ সরকার ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদকে শিকড়সহ উপড়ে ফেলুক, লেখক-হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় না এনে তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করুক।

ছাব্বিশ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। এই রাষ্ট্রের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম একটা মূলনীতি ছিলো ধর্মনিরপেক্ষতা। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করার কথা ছিলো সকল মানুষের বাক স্বাধীনতাকে। কিন্তু, অত্যন্ত দুঃখের সাথে আমরা উপলদ্ধি করছি যে, আজকে সেই দেশেই ধর্মোন্মাদদের অরাজক কাজকর্মের বিচার চাইবার জন্য আমাদের কাকুতি-মিনতি করতে হচ্ছে।

অভিজিৎ-এর স্ত্রী, তাঁর সহযাত্রী লেখক, এবং একজন মুক্তমনা হিসাবে, আমি আবারো এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাচ্ছি এবং বাংলাদেশ সরকারকে আহবান জানাচ্ছি অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য এবং এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার জন্য।

যার যেটা অস্ত্র - ১০

কলম নামের অস্ত্রের জবাবে কলম ব্যবহার করতে অক্ষম ধর্মবিশ্বাসীরা হাতে তুলে নেয় মারণাস্ত্র। কিন্তু এরা জানে না, ইতিহাসে কখনওই কলমকে স্তব্ধ করা যায়নি।



আবু সুফিয়ানকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুপ্তঘাতক প্রেরণ!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-৭৩): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – সাতচল্লিশ

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯ > পর্ব ৭০ > পর্ব ৭১ > পর্ব ৭২

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মদিনায় স্বেচ্ছানির্বাসনের (হিজরত) পর তাঁর ও তাঁর অনুসারীরা মক্কার কুরাইশ, মদিনার ইহুদি সম্প্রদায় ও মদিনার চতুষ্পার্শ্বের অন্যান্য অমুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর যে আগ্রাসী, নৃশংস ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সূত্রপাত করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় আদাল ও আল-কারা গোত্রের কিছু লোক হুদায়েল গোত্রের কিছু লোকের সহায়তায় মুহাম্মদের ছয়জন অনুসারীকে কীভাবে আক্রমণ করে তাদের চারজনকে খুন এবং খুবায়েব বিন আদি ও যায়েদ বিন আল-দাথিননা নামের দুইজনকে বন্দী করে মক্কায় ধরে নিয়ে এসেছিলেন এবং হুজায়ের বিন আবু ইহাব আল-তামিমি ও সাফওয়ান বিন উমাইয়া নামক দুই কুরাইশ তাদেরকে কিনে নিয়ে কী কারণে হত্যা করেছিলেন, তার বিস্তারিত আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

খুবায়েব বিন আদি ও যায়েদ বিন আল-দাথিননার হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর, অনতিবিলম্বে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান বিন হারবকে হত্যার আদেশ সহকারে ‘আমর বিন উমাইয়া (Amr bin Umayya)’ নামক তাঁর এক আদি মক্কাবাসী অনুসারীকে (মুহাজির) মক্কায় প্রেরণ করেন।আমরকে সাহায্য করার জন্য মুহাম্মদ তাঁর এক আদি মদিনাবাসী অনুসারীকে ও (আনসার) তার সঙ্গে পাঠান।

কিন্তু এই দুই ঘাতক আবু সুফিয়ানকে হত্যা করতে ব্যর্থ হয়। আবু সুফিয়ানকে হত্যার আগেই মক্কাবাসীরা ‘আমর’-কে চিনে ফেলে এবং তারা তাদেরকে ধাওয়া করে। ঘাতকরা পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়।

পালিয়ে আসার সময় পথিমধ্যে ঘাতক আমর বিন উমাইয়া তিনজন মানুষকে অমানুষিক নৃশংসতায় খুন করে, যাদের একজন ছিলেন এক-চোখ-অন্ধ প্রতিবন্ধী।

ঐ অন্ধ প্রতিবন্ধীর সতেজ চোখটির ভেতরে আমর তার ধনুকের আগা ঢুকিয়ে দিয়ে সজোরে চাপ দিতে থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত না তা লোকটির চোখের ভিতর দিয়ে ঢুকে তাঁর ঘাড়ের পিছন দিক দিয়ে বাহিরে বের হয়ে আসে!

কী অপরাধে ঐ অন্ধ প্রতিবন্ধী মানুষটিকে এমন অমানুষিক নৃশংসতায় খুন করা হয়েছিল, তার প্রাণবন্ত বিবরণ আদি ও বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকরা লিখে রেখেছেন!

মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ সাল) ও আল-তাবারীর বর্ণনা: [1] [2] [3] [4]

[আল-তাবারী <] ইবনে হুমায়েদ হইতে < সালামা বিন আল ফাদল হইতে < মুহাম্মদ ইবনে ইশাক হইতে < জাফর বিন আল-ফাদল বিন বিন আল-হাসান বিন আমর বিন উমাইয়া হইতে বর্ণিত হয়েছে যে শেষ উক্ত ব্যক্তিটি বলেছেন:

'খুবায়েব ও তার সঙ্গীদের খুন হওয়ার পর আল্লাহর নবী আমার [আমর বিন উমাইয়া] সাথে একজন আনসারকে সঙ্গে দিয়ে এই আদেশ সহকারে পাঠান যে, আমরা যেন আবু সুফিয়ানকে খুন করি; তাই আমরা রওনা হই। 

আমার সঙ্গীর কোনো উট ছিল না এবং তার পায়ে ছিল জখম, তাই আমি তাকে আমার উটের ওপর সওয়ার করে ইয়াজাজ উপত্যকা পর্যন্ত নিয়ে আসি ও তার এক কোণে পশুটিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে আমরা বিশ্রাম নিই। 

আমি আমার সঙ্গীর কাছে এই প্রস্তাব দিই যে, আমরা আবু সুফিয়ানের বড়িতে যাব ও যখন আমি তাকে হত্যার চেষ্টা করবো, তখন সে চারদিকে নজর রাখবে। যদি কোনো গোলমাল হয় কিংবা সে যদি কোনো বিপদের আশংকা করে, তবে সে যেন উটটির কাছে ফিরে আসে ও মদিনায় প্রত্যাবর্তন করে আল্লাহর নবীকে খবরটি জানায়; সে আমাকে ফেলে রেখেই যেতে পারে এ কারণে যে, এই জায়গাটি আমার খুব পরিচিত ও আমি দ্রুত হাঁটতে পারি।

আমার কাছে ছিল ঈগলের পালকের মত এক ছোট ছুরি, যখন আমরা মক্কায় প্রবেশ করি, তখন আমি তা এমনভাবে প্রস্তুত রাখি, যদি কেউ আমাকে ধরার চেষ্টা করে, তবে আমি তা দিয়ে তাকে খুন করতে পারি। 

আমার সঙ্গীর অনুরোধ এই যে আমরা সাত বার ক্বাবা প্রদক্ষিণ করি ও কয়েক রাকাত নামাজ পড়ে কাজটি শুরু করি।

আমি তাকে বলি যে, আমি মক্কাবাসীদের সম্বন্ধে তার চেয়ে অনেক ভাল জানি: সন্ধ্যার সময় তারা তার প্রাঙ্গণে পানি ছিটায় ও তাতে বসে থাকে, ফলে চিত্রবিচিত্র ঘোড়ার চেয়েও বেশি সহজে তারা আমাকে চিনতে পারবে।

কিন্তু সে আমাকে সেই অনুরোধ করতেই থাকে যতক্ষণ না সে যেটা চেয়েছে আমরা তা-ই করি। যখন আমরা ক্বাবা থেকে বের হয়ে তাদের সেই জটলার একটির পাশ দিয়ে যাই, তখন এক লোক আমাকে চিনে ফেলে ও তার গলার সমস্ত শক্তি দিয়ে চিৎকার করে বলে,

"এই সেই 'আমর বিন উমাইয়া'!"

তারপর মক্কাবাসীরা আমাদের দিকে দৌড়ে আসে. ও বলে, "আল্লাহর কসম, ‘আমর’ কোনো ভাল কাজে আসেনি। সে অনিষ্ট ছাড়া কখনো কোনো ভাল কিছু নিয়ে আসে না;" কারণ ধর্মহীন সময়ে ‘আমর’ ছিল হিংস্র (Violent) ও অবাধ্য (Unruly) এক ব্যক্তি।

তারা আমাদের পিছু পিছু ছুটে আসে এবং আমি আমার সঙ্গীকে পালাতে বলি। কারণ আমি যে আশংকাটি করেছিলাম, ঠিক তাইই ঘটেছে, এই অবস্থায় আবু সুফিয়ানকে পাবার কোনো উপায়ই নেই।

আমরা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বের হয়ে আসি এবং পাহাড়ের ওপর উঠি ও এক গুহার ভেতর ঢুকে সেখানে রাত্রিযাপন করি;তাদের কাছ থেকে আমরা সফলভাবে পলায়ন করি, তারা মক্কায় ফিরে যায়।

গুহার ভেতরে ঢুকে আমি তার প্রবেশপথ আড়াল করার জন্য কিছু পাথর জড় করে রাখি ও আমার সঙ্গীকে তাদের পশ্চাদ্ধাবন বন্ধ হবার পূর্ব পর্যন্ত চুপ থাকতে বলি; কারণ তারা সেই রাতে ও তার পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের সন্ধান করতে পারে।

যখন আমরা গুহার ভেতরে, তখন ওসমান বিন মালিক বিন ওবায়েদুল্লাহ আল-তায়েমি তার ঘোড়ার ঘাস কাটার জন্য সেখানে আসে। সে আমাদের নিকটে আসতেই থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে গুহার প্রবেশ পথের একদম সামনে এসে হাজির হয়।

আমি আমার বন্ধুকে তার পরিচয় বলি এবং আরও বলি যে, সে আমাদেরকে মক্কাবাসীদের কাছে ধরিয়ে দিতে পারে; আমি বাহিরে বের হয়ে আসি ও ছুরিটি দিয়ে তার বুকে ছুরিকাঘাত করি।

সে এত জোরে চিৎকার করে যে, মক্কাবাসীরা তার চিৎকার শুনতে পায় ও তারা তার দিকে ছুটে আসতে থাকে।

আমি গুহার মধ্যে ফিরে যাই ও আমার বন্ধুকে বলি যে, যেখানে সে আছে, সেখানেই যেন সে অবস্থান করে।

মক্কাবাসীরা তার চিৎকার অনুসরণ করে ছুটে আসে; তারা যখন তার সন্ধান পায়, তখন সে মুমূর্ষু অবস্থায়। তারা তাকে জিজ্ঞেস করে, কে তাকে ছুরিকাঘাত করেছে; সে তাদেরকে বলে যে, আমিই ছিলাম সেই ব্যক্তি, তারপর তার মৃত্যু হয়।

তারা জানতে পারে না, আমরা কোথায় আছি, তারা বলে, "আল্লাহর কসম, আমরা জানতাম যে ‘আমর’ কোনো ভাল উদ্দেশ্য নিয়ে আসেনি।"

তারা মৃত ব্যক্তিটিকে নিয়ে ও তাকে বহন করে নিয়ে যাওয়া নিয়ে এতই ব্যতিব্যস্ত ছিল যে, তারা আমাদের কোনো খোঁজ করেনি। পরিস্থিতি শান্ত হওয়া নাগাদ আমরা কিছুদিন গুহার মধ্যেই অবস্থান করি।

তারপর আমরা আল-তানিমে গমন করি এবং খুবায়েব কে ক্রুশ বিদ্ধ (Cross) অবস্থায় দেখি। আমার বন্ধু জিজ্ঞেস করে, তাকে ক্রুশ থেকে নিচে নামানো আমাদের উচিত কি না, কারণ সে তখন ওখানেই [বধ-কাষ্ঠে] ছিল।

আমি তাকে এই বিষয়টি আমার ওপর ছেড়ে দিতে বলি এবং তাকে আমার কাছ থেকে দূরে চলে যেতে বলি, কারণ এটির চারপাশে ছিল প্রহরী মোতায়েন; যদি সে এমন কিছু দেখে, যা তাকে ভীতিগ্রস্ত করে, তবে সে যেন অবশ্যই উটটি নিয়ে চলে যায় এবং যা কিছু ঘটেছে তা আল্লাহর নবীকে গিয়ে বলে।

আমি খুবায়েবের বধ-কাষ্ঠের ওপর উঠি, তার লাশটি তা থেকে মুক্ত করি ও আমার পিঠে করে নিয়ে আসি। খুব বেশি হলে আমার চল্লিশ ধাপ যাওয়ার পর তারা আমার উপস্থিতি জানতে পায়; আমি তার লাশটি নিচে নিক্ষেপ করি ও সেটি ধড়াস্ শব্দে পতিত হয়, যা আমি ভুলতে পারি না।

তারা আমার পেছনে দৌড়ে আসে এবং আমি আল-সাফরা যাওয়ার পথ ধরি; তারা আমার পশ্চাদ্ধাবনে পরিশ্রান্ত হয়ে ফিরে যায়। আমার বন্ধু আল্লাহর নবীর কাছে ফিরে এসে তাঁকে আমাদের ঘটনা গুলো জানায়।

আমি পদব্রজে চলতে থাকি, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি দাজনান (মক্কার অদূরের এক পাহাড়) উপত্যকা দেখতে পাই। আমি আমার তীর ও ধনুক নিয়ে সেখানকার এক গুহার মধ্যে প্রবেশ করি।

আমার সেখানে অবস্থানরত অবস্থায় বানু আল-দিল গোত্রের এক-চোখওয়ালা এক লোক আসে, সে তার ভেড়াগুলো চড়াচ্ছিল।

যখন সে জিজ্ঞেস করে, আমি কে, আমি বলি, আমি বানু বকর গোত্রের একজন। সে বলে যে, সে-ও বানু বকর গোত্রের অন্তর্ভুক্ত, আল-দিল গোত্রের। [5]

তারপর সে আমার পাশেই শুয়ে পড়ে ও গলার শব্দ উঁচু করে গান গাইতে শুরু করে:

'হবো না মুসলমান যতদিন থাকবো বেঁচে,
দেব না মনোযোগ তাদের ধর্মে।'

আমি মনে মনে বলি, "তুই শীঘ্রই টের পাবি!"

যেইমাত্র সে ঘুমিয়ে পড়েছে ও নাক ডাকা শুরু করেছে, আমি উঠে দাঁড়াই ও তাকে এমন ভয়ঙ্করভাবে খুন করি যা অন্য কোনো মানুষকে করা হয়নি। আমি আমার ধনুকের আগাটি তার সতেজ চোখের উপর স্থাপন করি, তারপর তাতে তা  সজোরে ছেঁদা করে (Bore down) প্রবিষ্ট করাই, যতক্ষণ পর্যন্ত না তা তার ঘাড়ের পিছন দিক দিয়ে বের হয়ে আসে।

তারপর আমি শিকারের জন্তুর মত সেখান থেকে বের হয়ে আসি এবং বড় রাস্তা দিয়ে ঈগলের মত ছুটতে থাকি, গ্রামের পর গ্রাম, তারপর রাকুবায় ও তারপর আল-নাকি; হঠাৎ সেখানে দুইজন মক্কাবাসী এসে হাজির হয়,যাদেরকে কুরাইশরা আল্লাহর নবীর ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করতে পাঠিয়েছিল।

আমি তাদের চিনতে পারি ও তাদেরকে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান করি; যখন তারা তা প্রত্যাখ্যান করে আমি তাদের একজনকে তীর নিক্ষেপে হত্যা করি, আর অন্যজন করে আত্মসমর্পণ। আমি তাকে বেঁধে ফেলি ও আল্লাহর নবীর কাছে হাজির করি।

[আল-তাবারী <] ইবনে হুমায়েদ হইতে < সালামাহ হইতে < ইবনে ইশাক হইতে <সুলেয়মান বিন ওয়ারদান হইতে <তার পিতা হইতে < আমর বিন উমাইয়া হইতে বর্ণিত:

'মদিনায় পৌঁছার পর যখন আমি [আমর বিন উমাইয়া] কিছু শায়েখ (shaykhs) আনসারদের পাশ অতিক্রম করি, তারা আমাকে দেখে আশ্চর্য হয়; কিছু নবীন লোক আমার নামটি শুনে ফেলে ও তারা দৌড়ে গিয়ে আল্লাহর নবীর কাছে খবর পৌঁছায়।

আমি আমার ধনুকের দড়ি (bow string) দিয়ে বন্দীর দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি বেঁধে ফেলেছিলাম; আল্লাহর নবী তাকে দেখে এমনভাবে হেসে ওঠেন যে, তাঁর পেছনের দাঁতগুলো দৃষ্টিগোচর হয়।

তিনি আমার খবর জানতে চান এবং যখন আমি যা যা ঘটেছে তা তাঁকে বলি, তিনি আমাকে আশীর্বাদ করেন।’

ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে মূল ইংরেজি অনুবাদের অংশটিও সংযুক্ত করছি। - অনুবাদ, টাইটেল ও [**] যোগ - লেখক।]

The narrative of Muhammad Ibne Ishaq (704-768 AD) and Al-Tabari:

Ibn Hamayd told us from < Salama b. al-Fadl from < Muhammad b. Ishaq from < Jafar b. al-Fadl b. al-Hasan b. Amr b. Umayya that the last-named said:

‘After the killing of Khubayb and his companions the apostle sent an Ansari with me telling us to go and kill Abu Sufyan, so we set out.

My companion had no camel and his leg was injured, so I carried him on my beast as far as the valley of Ya'jaj where we tethered our beast in the corner of a pass and rested there.

I suggested to my companion that we should go to Abu Sufyan's house and I would try to kill him while he kept watch. If there was a commotion or he feared danger he should take to his camel and go to Medina and tell the prophet the news; he could leave me because I knew the country well and was fleet-footed.

When we entered Mecca I had a small dagger like an eagle's feather which I held in readiness: if anyone laid hold of me I could kill him with it.

My companion asked that we might begin by going round the Ka'ba seven times and pray a couple of rak'as.

I told him that I knew more about the Meccans than he: in the evening their courts are sprinkled with water and they sit there, and I am more easily recognizable than a piebald horse.
                                                              
However, he kept on at me until we did as he wanted, and as we came out of the Ka'ba we passed by one of their groups and a man recognized me and called out at the top of his voice,

`This is `Amr b. Umayya!'

Thereupon the Meccans rushed at us, saying, `By God,`Amr has come for no good. He has never brought anything but evil,' for Amr was a violent unruly fellow in heathen days.

They got up to pursue us and I told my companion to escape, for the very thing I feared had happened, and as to Abu Sufyan there was no means of getting at him.

So we made off with all speed and climbed the mountain and went into a cave where we spent the night, having successfully eluded them so that they returned to Mecca.

When we entered the cave I put some rocks at the entrance as a screen and told my companion to keep quiet until the pursuit should die down, for they would search for us that night and the following day until the evening.

While we were in the cave up came `Uthmaan b. Malik b. `Ubaydullah al-Taymi cutting grass for a horse of his. He kept coming nearer until he was at the very entrance of the cave.

I told my friend who he was and that he would give us away to the Meccans, and I went out and stabbed him under the breast with the dagger. He shrieked so loud that the Meccans heard him and came towards him.

I went back to the cave and told my friend to stay where he was. The Meccans hastened in the direction of the sound and found him at the last gasp. They asked him who had stabbed him and he told them that it was I, and died.

They did not get to know where we were and said, ‘By God, we knew Amr was up to no good.'

They were so occupied with the dead man whom they carried off that they could not look for us, and we stayed a couple of days in the cave until the pursuit died down.

Then we went to al-Tanim, and lo, Khubayb's cross. My friend asked if we should take him down from the cross, for there he was. I told him to leave the matter to me and to get away from me for guards were posted round it. If he was afraid of anything he must go to his camel and tell the apostle what had happened.

I ran up to Khubayb's cross, freed him from it, and carried him on my back.
Hardly had I taken forty steps when they became aware of me and I threw him down and I cannot forget the thud when he dropped.

They ran after me and I took the way to al-Saafra' and when they wearied of the pursuit they went back and my friend rode to the prophet and told him our news.
I continued on foot until I looked down on the valley of Dajnan (A mount near Mecca). I went into a cave there taking my bow and arrows, and while I was there in came a one-eyed man of B. al-Dil driving a sheep of his.
When he asked who I was I told him that I was one of B. Bakr. He said that he was also, adding of B. al-Dil clan [5]. Then he lay down beside me and lifting up his voice began to sing:

I won't be a Muslim as long as I live,
Nor heed to their religion give.

I said (to myself), `You will soon know!' and as soon as the badu was asleep and snoring I got up and killed him in a more horrible way than any man has been killed. I put the end of my bow in his sound eye, then I bore down on it until I forced it out at the back of his neck.

Then I came out like a beast of prey and took the highroad like an eagle hastening until I came out at a village which, (said the narrator), he described; then to Rakuba and al-Naqi where suddenly there appeared two Meccans whom Quraysh had sent to spy on the apostle.

I recognized them and called on them to surrender, and when they refused I shot one and killed him,and the other surrendered.  I bound him and took him to the apostle.’

According to Ibn Humayd < from Salamah < Ibn Ishaq from < Sulayman b. Wardan < from his father <`Amr b. Umayya:

‘When I got to Medina I passed some shaykhs of the Ansar and when they exclaimed at me some young men heard my name and ran to tell the apostle.

Now I had bound my prisoner's thumbs with my bow string, and when the apostle looked at him he laughed so that one could see his back teeth.

He asked my news and when I told him what had happened he blessed me'.

>>> আবু আফাক, আসমা-বিনতে মারওয়ান, কাব বিন আল-আশরাফ ও আবু রাফিকে হত্যার জন্য মুহাম্মদ যে গুপ্তঘাতকদের পাঠিয়েছিলেন তারা সকলেই ছিলেন সফলকাম। ঐ লোকগুলোকে অমানুষিক নৃশংসতায় হত্যা করে ঘাতকরা মুহাম্মদের আশীর্বাদপুষ্ট হয়েছিলেন (পর্ব: ৪৬-৫০)। 

আবু সুফিয়ানকে হত্যার লক্ষ্যে মুহাম্মদের পাঠানো এই ঘাতক আমর বিন উমাইয়া তার উদ্দেশ্য সাধনে বিফলকাম হয়েছিলেন সত্যি, কিন্তু পথিমধ্যে তিনজন লোককে খুন ও একজনকে বন্দী করে ধরে নিয়ে আসার কৃতিত্বে সেও হয়েছিল মুহাম্মদের আশীর্বাদপুষ্ট ।

তথাকথিত মডারেট মুসলমানদের (ইসলামে কোনো কমল, মডারেট বা উগ্রবাদী শ্রেণীবিভাগ নেই) সিংহভাগই "মদিনায় মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের এ সকল অমানুষিক নৃশংস কর্ম-কাণ্ডের ইতিহাস সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অজ্ঞ”- 'সিরাতে' যার পরিমাণ হলো মুহাম্মদের নবুয়ত পরবর্তী জীবনের ৮২ শতাংশ। (পর্ব-৪৫)।

আদি উৎসের বিশিষ্ট মুহাম্মদ-অনুসারীদেরই ভাষ্য সংগৃহীত ও লিখিত এই প্রাণবন্ত উপাখ্যানগুলো বর্ণিত হয়েছে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের শৌর্য-বীর্যের অলংকার হিসাবে। তাঁদের পক্ষে ধারণা করাও সম্ভব ছিল না যে, মুহাম্মদের মৃত্যুর শত/সহস্র বছর পরে একদিন তা সর্বজনগৃহীত মানবতার মাপকাঠিতে চরম নেতিবাচক আচরণ বলে পরিচিত হবে।

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:
[1] “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ:  A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1,
ইবনে হিশামের নোট নম্বর ৬১৮, পৃষ্ঠা ৬৭৩

[2]Ibid “সিরাত রসুল আল্লাহ”, ইবনে হিশামের নোট নম্বর ৯১৩, পৃষ্ঠা ৭৯০

[3] Ibid “সিরাত রসুল আল্লাহ”, A. Guillaume এর ভূমিকা (Introduction), পৃষ্ঠা xlii

[4] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৭,ইংরেজী অনুবাদ: W. Montogomery Watt and M.V. McDonald, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭, পৃষ্ঠা (Leiden) ১৪৩৭-১৪৪১ http://books.google.com/books?id=efOFhaeNhAwC&printsec=frontcover&source=gbs_ge_summary_r&cad=0#v=onepage&q&f=false

[5] 'আমর' ছিল দামরা গোত্রের, যেটি ছিল বানু বকর গোত্রের এক অংশ। আল-দিল গোত্রটিও ছিল বানু বকর গোত্রের এক অংশ।

'কম' মুসলিম, 'বেশি' মুসলিম

লিখেছেন পুতুল হক

পাকিস্তানীরা বাঙালিদের "কম" মুসলমান বলে ঘৃণা করতো। বাঙালি আজও পাকিস্তানীদের "বেশি" মুসলমান বলে ভালোবাসে। 'পাকিস্তানীরা কত্তো সুন্দর! কী সুন্দর গমের মত গায়ের রঙ তাঁদের। আহারে..., কতো উঁচা-লম্বা পাকিস্তানী শের! আর মেয়েগুলাতো জান্নাতি হুর। উর্দুতে কথা শুনলে কলিজা জুড়িয়ে যায়।' পাকিস্তানীদের সম্পর্কে এই হলো বাঙালির সাধারণ মন্তব্য! 

এই প্রশংসায় ঢাকা পড়ে যায় ৭১ এর গণহত্যার কথা, লক্ষ লক্ষ নারীর ধর্ষিত হবার কথা, সব কিছু হারিয়ে শরণার্থী হবার কথা। আমরা ভুলে গেছি কতোটা ত্যাগ স্বীকার করেছিল আমাদের পূর্বপুরুষ আমাদেরই জন্য। একটি আধুনিক, ধর্মীয় গোড়ামিমুক্ত, মানবতাবাদী রাষ্ট্র উপহার দেবার জন্য। তাঁদের ত্যাগের প্রতিদান আমরা দিচ্ছি 'পাইক্যা, আমাকে বিয়ে করো' প্ল্যাকার্ড দেখিয়ে! 

৪৪ বছরেও ওরা আমাদের কাছে ক্ষমা পর্যন্ত চায়নি ৭১-এর পৈশাচিকতার জন্য। আমাদের হাতের প্ল্যাকার্ডে কি লেখা থাকা উচিত ছিল না 'ক্ষমা চাও'? পাকিস্তানের ৭১ পরবর্তী প্রজন্মের সাথেও বা কীভাবে আমাদের সুসম্পর্ক থাকে? ওদের সরকার কি ওদের সামনে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরেছে কখনো? আমাদের বাংলাদেশেই যখন বারবার ইতিহাসের প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়, পাক হানাদার বাহিনীর বদলে শুধু হানাদার বাহিনী লেখা হয় তখন ওদের সরকারের কি ঠ্যাকা? ওদের ধর্মান্ধ, মৌলবাদী প্রজন্মের কাছ থেকে বাংলাদেশের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি আশা করাটাও বোকামি। 

যাদের ঘৃণা করার কথা, তাদের আমরা বুকে জড়িয়ে ধরি আমাদেরই বাবা-ভাইয়ের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে। 

ওদের মেয়েদের রূপে আমরা মুগ্ধ হই আমাদের ধর্ষিত বোনের কান্নাকে ভুলে। 

ওদের খেলোয়াড়দের সমর্থন জানাই আমাদের মানচিত্রকে অপমান করে। 

অনেক বছর আগে ভারতের জনপ্রিয় টিভি তারকা তাঁর একটি অনুষ্ঠানে কৌতুক করে বলেছিলেন যে, বাংলাদেশও বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলে! শুধুমাত্র এই একটি উক্তির কারণে তাঁর আর কোনো অনুষ্ঠান আর কখনো দেখিনি। আমার খুব কষ্ট হয়েছিলো, কারণ আমার দেশের খেলোয়াড়দের অপমান করা মানে আমাকে অপমান করা। আঘাতটা সরাসরি আমার বুকে এসে বিঁধেছিল। এটা আমার দেশপ্রেমের প্রমান নয়, আমার শুদ্ধ আবেগ। 

একটি উক্তির কারণে শেখর সুমনকে যদি আমি আস্তাকুঁড়ে ফেলতে পারি, তাহলে পাকিস্তানীদের আমি কোথায় ফেলবো? কোথায় ফেলা উচিত? সৌদি আরবে যখন বাংলাদেশী শ্রমিকদের ওপর অকথ্য অত্যাচার করা হয়, সেই অত্যাচার আমার ওপর অত্যাচার। 

কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে খ্রিষ্টান, আমার তা দেখার বিষয় নয়। আমাকে যে অপমান করে, কষ্ট দেয় সে-ই আমার শত্রু। ঘৃণা করি তাকে আমি।