ইছলাম: ধর্মীয় রাজনীতি নাকি রাজনৈতিক ধর্ম? - ২

লিখেছেন জর্জ মিয়া


মাত্র দশ বছরের ব্যবধানে একই ব্যক্তি কী করে হয়ে গেলেন এমন ক্ষমতালোভী, নারীলিপ্সু, যুদ্ধবাজ একজন নেতা তথা ধর্মপ্রচারক? ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে বনি কুয়ানুকা, ৬২৫ খ্রিষ্টাব্দে বনি নাদির আর ৬২৭ খ্রিষ্টাব্দে বনি কুরাইজা নামের ইহুদি গোত্রকে আক্রমণ করে তাদের হত্যা করেন। বনি কুয়ানুকার ইহুদিদের সাতশ জনকে এক সকালের মধ্যে হত্যা করতে সচেষ্ট হন, আর বনি কুরাইজার প্রায় আটশ থেকে নয়শ লোককে আক্ষরিক অর্থেই 'কচুকাটা' করেন, এমনকি তারা আত্মসমর্পণ করার পরও। হত্যার ভয়াবহতা এতোই বেশি ছিলো যে, ক্যারেন আর্মস্ট্রং-এর মতো লেখিকা, যিনি মুসলিম সমাজের পছন্দের তালিকায় শীর্ষস্থানীয় হিসবে গণ্য হন, তিনি পর্যন্ত মুহম্মদের কর্মকাণ্ডকে নাৎসি ভয়াবহতার সাথে তুলনা করেছেন। খাইবার দখলের পর মুহম্মদ (দঃ) সাফিয়া নামের ১৭ বছরের সুন্দরী ইহুদি নারীকে অধিগ্রহণ করেন এবং তা করেন তার বাবা-মা, ভাই-বোন এবং আত্মীয়-স্বজনকে হত্যার পরপরই। রায়হানাকে অধিগ্রহণ করেন বনি কুরাইজা দখলের পর। 

বহু ইসলামী স্কলার মনে করেন, মদিনায় নাজিল হওয়া জঙ্গি ও অমানবিক আয়াতগুলো আসলে আগে মক্কায় নাজিলকৃত শান্তিময় আয়াতগুলোকে বাতিল করে দেয়। মদীনা ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং সহী বুখারি এবং কোরানের অনুবাদক ডঃ মুহম্মদ খান পরিষ্কর করেই বলেন, "আগে বিধর্মীদের সাথে লড়াই নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো, কিন্তু পরে সেটা বাধ্যতামূলক করে দেয়া হয়।"

জালালুদ্দিন সুতি আরো পরিষ্কার করে বলেন, "মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর (সুরা ৯:৫) - এই আয়াতের মাধ্যমে আগেকার সকল পরমতসহিষ্ণু নির্দেশকে বাতিল করা হয়েছে।"

হানিফা দর্শনে প্রভাবিত ছিলেন আরও একজন। তিনি খলিফা ওমরের চাচা জায়েদ বিন আমর । তিনিও পৌত্তলিক পরিবারেই জন্মগ্রহন করেছিলেন, পরবর্তীতে আব্রাহামীয় দর্শনে কনভার্ট হন এবং পুরো রমজান মাস তিনি “হেরা গুহা” নামক স্থানে উপাসনায় মগ্ন থাকতেন। যা পরবর্তীতে মোহাম্মদ অনুসরণ করেন। এমনকি হাদিস থেকেও জানা যায়, ৫৯৫ খ্রিষ্টাব্দের দিকে নবী মোহাম্মদ তখন পৌত্তলিক দেব-দেবীদের উপাসনা করতেন, কোরবানি দেয়া মাংস রান্না করে জায়েদের জন্য নিয়ে যেতেন তার সাথে খাওয়ার জন্য। তখন এই জায়েদ বিন আমরই মুহাম্মদকে তিরস্কার করতেন পৌত্তলিকতার কারনে। একেশ্বরবাদ চর্চার পরামর্শ দিতেন নিয়মিত। (বুখারি, খণ্ড ৭, বই ৬৭, হাদিস ৪০৭)

চার্বাকদের মতই ছিলো এদের আচরণ। পার্থক্য শুধু নিরীশ্বর- ও একেশ্বরবাদে। হানিফ দলের লোকেরাও একটা সময় এই ‘পৌত্তলিকতার ওপরে প্রকাশ্যে অনাস্থা প্রকাশ করে বসে। যার কারণে কাবার দায়িত্বে থাকা কোরাইশদের সঙ্গে বিবাদের রোষে পড়েই অনেক হানিফাকেই তখন দেশান্তরী হতে হয়। মোহাম্মদের পৌত্তলিকতার থেকে বেরিয়ে একেশ্বরবাদী চর্চার সব থেকে বড় সাহায্যকারী হলেন এই জায়েদ বিন আমর ও ওয়ারাকা বিন নওফল। "ওয়ারাকা বিন নওফল নিজে তৌরাত, জবুর ও ইঞ্জিল বিশেষজ্ঞ ছিলেন এবং তিনি ইঞ্জিলের আরবী অনুবাদক।" (বুখারী, খণ্ড ৬, বই ৬০, হাদিস ৪৮৭ এবং খণ্ড ১, বই ১, হাদিস ৩)

এখান থেকে স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যায় যে, মোহাম্মদের নবীগিরি কোনো অলৌকিকতা নয়। তিনি ছিলেন তৎকালীন ধর্ম বিষয়ে জানাশোনা এবং একেশ্বরবাদ থেকে প্রভাবিত, যিনি তাঁর মতবাদ প্রতিষ্ঠা করেছেন 'ইছলাম' নামে। মোহাম্মদ ইছলাম প্রতিষ্ঠায় তাঁর জীবদ্দশায় প্রায় শতাধিক যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন। বলা হয়ে থাকে, বদরের যুদ্ধ প্রথম যুদ্ধ। 

এটাও সত্য নয়। ৬২৩ খ্রিষ্টাব্দে ইয়াসরীব হিজরতের ৯ মাসের মাথায় এক কোরায়েশ কাফেলার ওপরে হামলা করেন মোহাম্মদ। তবে এই হামলার নেতৃত্বে মোহাম্মদ ছিলেন না। উল্লেখ্য যে, সে যুদ্ধে মুছলমানরা সফল হতে পারেনি। আমাদেরকে বোঝানো হয় যে, মোহাম্মদ যতগুলো যুদ্ধ করেছেন, তার সবই নাকি আত্মরক্ষার্থে! এটাও ডাঁহা মিথ্যে। যতগুলো যুদ্ধ হয়েছে, তার প্রায় সবই হয়েছে অর্থ-সম্পদ লুটপাটের জন্য। বদরের যুদ্ধের আগেও ক্রমাগত হামলা পরিচালনা করা হয়। যার মধ্যে বোয়াতের হামলা, কাহারের হামলা , ওয়াদ্দানের হামলা, সাহওয়ানের হামলা, নাখালার হামলাগুলো উল্লেখযোগ্য। 

এখন মনে প্রশ্ন জাগে, তবে এ হামলাগুলোর কথাগুলো ইছলামী স্কলাররা চেপে যান কেন? উত্তর: হয় তেমন বিশেষ সুবিধে করতে না পারাই এই হামলাগুলোর ব্যাপারে চেপে যাওয়ার মূল কারণ।স্বাভাবিকভাবেই একটা প্রশ্ন জাগে তখন মনে। মোহাম্মদকে তো কখনো কোরাইশরা বা অন্য কোনো শত্রুপক্ষ আক্রমণ করেনি। তাহলে কেন মোহাম্মদ এতগুলো যুদ্ধ করছেন? যেমন বলা যায়, বনি মোত্তালিক গোত্র অথবা সিরিয়া থেকে বাণিজ্য করে বাড়ি ফেরা কোরায়েশ বণিক দল তো মদিনা আক্রমন করেনি। তাহলে কেন মোহাম্মদ তাদের ওপরে চোরাগোপ্তা হামলা চালালেন? আসলে সম্পদ আহরণই এই হামলাগুলোর মূল কারণ। আসলে এগুলোকে যুদ্ধও বলা ঠিক হবে না। পেছনে থেকে হামলা, রাতের অন্ধকারে অতর্কিত হামলা কোনো যুদ্ধ নয়। এগুলো স্রেফ ডাকাতি! 

ইছলাম ধর্মে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয়া হয় - অন্য ধর্মের সাথে কোনোরকম বন্ধুত্ব নয়। অবিশ্বাসীদের সুযোগ পেলেই হত্যা করতে হবে। সে ধর্মের অনুসারীরা জঙ্গি তথা ইছলামী সন্ত্রাসী হবে না - এটা ভাবাই তো বোকামি। ইছলাম প্রতিষ্ঠা পেয়েছে তরবারি আর অন্যের সম্পদ লুট করে। - এই সত্যটা আমাদের জানতে দেয়া হয় না। কৌশলে-চতুরতায় এড়িয়ে যাওয়া হয়। অবশ্য আমার মনে হয়, আমাদের অঞ্চলের ইছলামের খেদমতকারীদের কয়জনই বা জানেন এসব? 

খ্রিষ্টান, ইহুদি ও পৌত্তলিকতার মিশেলে এক ধরনের জগাখিচুড়ির নাম এই ইছলাম। যেমন, হজ্ব তেমনই এক পৌত্তলিক রীতি। কালো পাথরে চুমু খাওয়া, মুযদালিফায় রাত্রি যাপন, জামরাতে পাথর নিক্ষেপ করা - এগুলো সবই ছিলো পৌত্তলিক রীতি। সেলাইবিহীন ঢিলেঢালা বস্ত্র পরিধান, কালো পাথরকে চুমু খাওয়া কিংবা স্পর্শ করা, সাফা এবং মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে দৌড়ানো, আরাফাতে অবস্থান এবং শয়তানের প্রতি পাথর নিক্ষেপের প্রথা ইসলাম-পূর্ব যুগেও আরবে প্রচলিত ছিল এবং সামান্য কিছু পরিবর্তন সাপেক্ষে এগুলো বজায় রেখেছেন মোহাম্মদ তাঁর ধর্ম ইছলামে। পৌত্তলিক আরবরা কাবা ঘরকে প্রদক্ষিণকালে লাত, ওজ্জা, মানতসহ আরও অনেক গোত্র দেবতার নাম উচ্চারণ করত। যেমন, "হে মানত, আমি তোমার আদেশ পালন করতে প্রস্তুত" (লাব্বায়েকা) এবং দেবদেবীর নাম ধরেও উচ্চারিত হতো। ইছলামে এই ধরনের সম্মোধনের রীতি আল্লাহকে সম্বোধন দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে এবং তা পরিবর্তিত হয়ে দাঁড়ায়, 'লাব্বায়েকা আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক!' পৌত্তলিক আরবরা অনেক সময় নগ্ন হয়ে কাবা ঘরকে প্রদক্ষিণ করত। মোহাম্মদ তা নিষিদ্ধ করে সেলাইবিহীন বস্ত্র পরিধানের রীতি প্রচলন করেন।

কালো পাথরে চুমো খাওয়া প্রসঙ্গে খলিফা ওমর বলেন, "আল্লাহর কসম, আমি নিশ্চিতরূপে জানি, তুমি একটি পাথর, তুমি কারও কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে পার না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখলে আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না।" [বুখারি (ইফা), অধ্যায়: ২২/ হজ্ব (হাজ্জ), হাদিস ১৫১০]

(চলবে)

চিত্রপঞ্চক - ১৩৫

সর্বমোট পাঁচটি ছবি। নিচের খুদে ছবিগুলোয় একের পর এক ক্লিক করুন।

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৫

কোরান কুইজ – ৮০

নিশ্চয়ই মোমিন মুসলমানগণ কোরান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। বেয়াড়া নাস্তিকগনও নিজেদেরকে কোরান-অজ্ঞ বলেন না কখনও। তাই মুসলিম-নাস্তিক নির্বিশেষে সকলেই অংশ নিতে পারেন কোরানের আয়াতভিত্তিক এই ধাঁধা প্রতিযোগিতায়। এই সিরিজের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের কোরান-জ্ঞান যাচাই করে নিতে পারবেন। 

প্রশ্ন ৯০: আল্লাহর একদিন মানুষের কতোদিনের সমান? 

ক) এক হাজার বছর
খ) পঞ্চাশ হাজার বছর

উত্তর বেছে নিয়েছেন? এবারে মিলিয়ে দেখুন।
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.

উত্তর ৯০: 

দু'টি উত্তরই সঠিক:
ক) এক হাজার বছর (সুরা ২২:৪৭)
খ) পঞ্চাশ হাজার বছর (সুরা ৭০:৪)

পরম বিনোদনের ব্যাপার এই যে, একজন খাছ মুছলিম কোরানের অজস্র পরস্পরবিরোধী বাণী ও অগণ্য ভুল নিজে চোখে দেখলে বা অনুধাবন করলেও অবলীলায় দাবি করে - এই কিতাবখানাই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ, যা সম্পূর্ণরূপে নিখুঁত, যাতে কোনও অসামঞ্জস্য নেই। এই জাতীয় চোখ-থাকিতেও-অন্ধ মানুষদের সম্পর্কে রিচার্ড ডকিন্স বলেছিলেন: a disgrace to the human species.

* কোরানের ছয়টি ভিন্ন অনুবাদ একসঙ্গে পাওয়া যাবে এখানে

** কৃতজ্ঞতা: আবুল কাশেম

সাহাবা-সব করে রব

মদনমোহন তর্কালঙ্কার রচিত সুবিখ্যাত কবিতা 'পাখি-সব করে রব'-এর প্যারোডি রচনা করেছেন নাস্তিকথন

সাহাবা-সব করে রব, রাতি পোহাইল।
ওমর, বকর, আলী, সকলি উঠিল।।

কাফির উটের পাল ল'য়ে যায় কূপে।
ডাকাতগণ অপেক্ষায় রহে চুপে চুপে।।

ফলাইল শস্য কাফির, সৌরভ ছুটিল।
জিজিয়া লোভেতে নবী আসিয়া জুটিল।।

জেনানা লুটিল নবী, ধবল বরণ।
ভাগে পাইয়া যৌনদাসী পুলকিত মন।।

সুন্নতি কর্ম শেষে জুড়ায় শরীর। 
খেজুর পাতায় পড়ে আজল শিশির।।

উঠ মমিন, অযূ কর, পর নিজ বেশ।
ফজর সালাতে মন করহ নিবেশ।।

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৫

শাইতানির রাজিম

লিখেছেন মহিন উদ্দিন আহামেদ উরফে একে জিলানী উরফে তেতুল হুজুর

কেউ কারো প্রতিদ্বন্দ্বী গড়ে তুলতে চায় না। 

তবে ব্যতিক্রম শুধু আল্লার বেলায়। তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী নিজেই সৃষ্টি করেছেন। আবার তিনি ইচ্ছে করলেই সেই প্রতিদ্বন্দ্বীকে খুব সহজেই গুঁড়িয়ে দিতে পারেন। কিন্তু তিনি তা না করে তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে স্বাধীনতা দিয়েছেন তাঁর সৃষ্ট মানবজাতিকে বিভ্রান্ত করার জন্য।

আবার তিনি তাঁর মানবজাতিকে এই মর্মে হুশিয়ার করে দিয়েছেন, তারা যেন শয়তানের সৃষ্ট বিভ্রান্তিতে পা না বাড়ায়। আর যদি কেউ বাড়ায়, তার জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।

ওপরোক্ত আলোচনা থেকে দু'টি জিনিস স্পষ্ট বোঝা যায় যে, আল্লার কাছে শয়তান তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষের চাইতেও বেশি প্রিয়, কেননা তিনি শয়তানের অপকর্মকে থামিয়ে না দিয়ে একপ্রকার বৈধতাই দিয়েছেন। অপরদিকে শয়তান আল্লাকে খুব ভালো করেই জানেন, আল্লা কেমন। যদি শয়তান আল্লার বন্ধু না হতেন, তাহলে শাস্তির ভয়ে শয়তান কখনোই অপকর্ম করতেন না।

আবার অন্যদিকে ভাবলে দেখা যায়, মহাবিশ্বের সবকিছুই যেহেতু আল্লাপাকের ইচ্ছায় ঘটে, তাহলে শয়তানের অপকর্মগুলোও আল্লার ইচ্ছামত ঘটে। তাহলে দাঁড়ালো: শয়তান = আল্লাহ।

আল্লাহ যে নিজেই শয়তান অথবা শয়তানের পরম দোস্ত অথবা শয়তান আল্লার চাইতে শক্তিশালী, তা আরো বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। যেমন ধরুন, এই পর্যন্ত আল্লাপাক যতোগুলো ধর্মগ্রন্থ, এবং লক্ষ লক্ষ নবী-রসুল দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য ছিলো একটাই - মানুষকে শয়তানের কুপ্ররোচনা থেকে রক্ষা করে আল্লার রাস্তায় প্রেরণ করা।

কিন্তু কাজের কাজ কতোটুকু হয়েছে বা হচ্ছে? মানুষ কি শয়তানের কুপ্ররোচনা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। হয়নি এবং সেটা বোঝা যায় নবী মুহাম্মদের ভাষ্য থেকেই। তিনি বলেছেন, আমার উম্মাতগন ৭৩ ভাগে বিভক্ত হবে এবং তার মধ্যে শুধু এক ভাগই জান্নাত লাভ করবে, আর বাকী বাহাত্তর ভাগ হবে জাহান্নামী।

এটা তো গেল শুধু মুসলিমদের হিসেব। আরো যে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ, ধর্মহীন মানুষ, তাদের নিয়ন্ত্রণও আল্লাপাক এখনো সঠিকভাবে নিজের হাতে তুলে নিতে পারেননি, যতোটা নিয়ন্ত্রন নিয়েছেন মহাশক্তিধর শয়তান।

অর্থাৎ আল্লাপাকের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষকে শয়তানই নিয়ন্ত্রণ করে - শুধুমাত্র এক ভাগ মুসলিম ছাড়া। তাহলে উপসংহারে আমরা তিনটি সিদ্ধান্তে আসতে পারি, যেগুলোর অন্তত

১. আল্লাহ = শয়তান
২. আল্লাহ শয়তানের পরম বন্ধু
৩. শয়তান আল্লার চাইতে শক্তিধর

সূরা লাইলাতুল শরৎ (শারদীয় সূরা)

লিখেছেন তুয়াম লুকিলাম

কলকাতায় অবতীর্ণ
আয়াত সংখ্যা ১১

নিশ্চয়ই আল্লা, গড, ভগবান, ঈশ্বর, লাত, উজ্জা, শিব, ব্রহ্মা ও দূর্গা-কালী প্রভৃতি উপাস্যগণ একই সত্তার বিভিন্ন রূপ এবং তাদের উৎপত্তিও একই কেন্দ্র থেকে। 

আর তা হলো তোমাদের মস্তিষ্ক। 

নিশ্চয়ই দূর্গা, কালী, আল্লা, শিব, ব্রহ্মা এবং জিউস-গং স্বর্গলোকে পরস্পর গ্রুপ সেক্স করে থাকেন এবং মুমিনগণের চেতনায় তারা পরস্পর পরস্পরের সাথে উপগত হন। 

সাচ্চা মুমিন তো তারাই, পুলসেরাতের কথা স্মরণ করা হলে যাদের স্ফীত ঈমানদণ্ড চুপসে যায় এবং জান্নাতের হুরদের সম্পর্কিত আয়াত যখন তাদের সামনে উচ্চারণ করা হয়, তখন তা পুনরায় স্ফীত হয়। 

নিশ্চয়ই বিশ্বাসীদের মগজ তাদের বীর্যথলিতে অবস্থান করে, আর তাদের মাথার খুলি গোবর দিয়ে পরিপূর্ণ। 

তোমরা কি জান, এ গোবর কী কাজে লাগে? 

নিশ্চয়ই গোবরসমূহ উর্বরতার প্রতীক। 

যুগে যুগে মুমিনগণ তাদের উর্বর মস্তিষ্কে দেবতাদের চাষ করেছে, আর স্বীয় ক্ষমতালিপ্সা চরিতার্থ করেছে সুমহান রবের নামে এবং নিজেদের লাম্পট্য প্রকাশ করেছে অসংখ্য কামাতুর দেব-দেবীর নামে, যাদের সরদার ছিলেন লুচ্চাশ্রেষ্ঠ ইন্দ্র, যিনি অসংখ্য ভগের মালিক। 

সমস্ত প্রশংসা সেই দেবীর যিনি মণ্ডপ নামক বলরুমে নৃত্যরত বেশ্যার মতো উন্নত স্তন থেকে জনসাধারণকে বিনোদন দান করে থাকেন।

সমস্ত স্তুতি সেই বারাঙ্গণার যিনি রংবেরং-এর অলংকারে সজ্জিত হয়ে বার জন বন্ধুর সাথে (বারোয়ারি) গ্যাংব্যং হন পবিত্র শরতের রাতে। 

সমস্ত ভক্তি সেই মাতৃদেবীকে, যিনি তাঁর কোটি কোটি সন্তানকে অভুক্ত রেখে দেবতা ও ধনী ভক্তের সাথে বাসর সাজাতে ব্যস্ত থাকেন। 

বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৫

ইসলামে পুরুষের বহুবিবাহের বৈধতা এবং ভবিষ্যৎ-অজ্ঞ আল্লা

লিখেছেন সমকোণী বৃত্ত

ইসলামে একজন পুরুষকে একাধিক (চারটা পর্যন্ত) বিয়ে করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর সপক্ষে জাকির নায়েক সহ বিখ্যাত সব ইসলামী চিন্তাবিদগণ কিছু যুক্তি-কারণ দেখিয়েছে। এসব যুক্তি-কারণগুলোর মাঝে উল্লেখযোগ্য হল: "পৃথিবীতে নারীদের সংখ্যা পুরুষের চেয়ে অধিক।"

যদিও এই যুক্তিতেও বিরাট গলদ আছে। যেমন, 

ক) কিছু দেশে নারীদের সংখ্যা পুরুষের চেয়ে বেশি, তবে এত বেশি না যে, পুরুষকে চারটা বিয়ে করার অনুমতি দিতে হবে।
খ) সামগ্রিকভাবে পুরো বিশ্বে বিবাহযোগ্য জনসংখ্যার ক্ষেত্রে পুরুষের সংখ্যাই বেশি।
গ) নারীদের মৃত্যুহার পুরুষদের তুলনায় কম, তাই শেষ বয়সে তাদের সংখ্যা বেশি। তাই বলে এই নয় যে, তাদেরকেও তখন বিবাহযোগ্য ধরে হিসেব করতে হবে।

গড়ে পৃথিবীতে নারী ও পুরুষের সংখ্যার অনুপাত ১ : ১.০১ 
পনের বছরের নিচে নারী ও পুরুষের সংখ্যার অনুপাত ১ : ১.০৬ 
৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে নারী ও পুরুষের সংখ্যার অনুপাত ১ : ০.৭৯

এবার ধরা যাক মুসলিমপ্রধান দেশগুলার কথা, যেসব জায়গায় চার বিয়ের বিধান চালু।

সৌদি আরবে ১৫ থেকে ৬৫ বছরের নারী ও পুরুষের সংখ্যার অনুপাত - ১ : ১.২২ (২০১৪ সাল)
আরব আমিরাতে ১৫ থেকে ৬৫ বছরের নারী ও পুরুষের সংখ্যার অনুপাত - ১ : ২.৭৫ (২০১২ সাল) অর্থাৎ এই দেশে পুরুষের সংখ্যা মেয়েদের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি!

এছাড়া বাহরাইন, জর্দান, কুয়েত, ওমান ও কাতারেও ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের সংখ্যা কম। এর মাধ্যমে আমরা ইসলামী চিন্তাবিদদের ভণ্ডামি স্পষ্ট করেই বুঝতে পারছি।

এবার আল্লাহর সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করা যাক।

ইসলামে সর্বশক্তিমান, সৃষ্টিকর্তা হলেন আল্লাহ। যিনি অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ সব জানেন। কিন্তু আসলেই কি তাই? আগেই আমরা নারী-পুরুষের অনুপাতটা দেখেছি, তারপরও নাহয় মানলাম - নারীর সংখ্যা পুরুষের চেয়ে অনেক বেশি। তাই আল্লাহ এই সমস্যার সমাধান দিয়েছেন পুরুষের একাধিক বিয়ের অনুমতি দেওয়ার মাধ্যমে। জাকির নায়েকও উঁচু গলায় বলতে পারেন, "আপনার বোনকে এমন কারো কাছে বিয়ে দেবেন, যার স্ত্রী আছে, নাকি তাকে জনগনের সম্পত্তি বানাবেন।" 

এবার আসুন, ঘটনার গভীরে প্রবেশ করা যাক। আল্লাহ যে-সমাধানটা দিয়েছেন, সেটা হল প্রতিকার, প্রতিরোধ নয়। আবারো বলছি, সেটা প্রতিকার, প্রতিরোধ নয়। ধরুন, আপনার সন্তান খেলা শুরু করেছে ধারালো যন্ত্রপাতি দিয়ে। তখন আপনি প্রতিরোধ হিসেবে ধারালো যন্ত্রপাতিগুলো সরিয়ে নেবেন, নাকি কিছুই করবেন না যতক্ষণ না হাত-পা কাটে? যখন হাত-পা কেটে যাবে, তখন প্রতিকার হিসেবে স্যাভলন, ব্যান্ডেজ, ঔষধ ইত্যাদি নিয়ে এসে সমস্যার সমাধান করবেন? আপনি জ্ঞানী হয়ে থাকলে অবশ্যই প্রতিরোধ করবেন, আর যদি প্রতিরোধ করতে অপারগ হন, তবেই প্রতিকারের চিন্তা করবেন।

যেহেতু আল্লাহ সর্বশক্তিমান, ভবিষ্যৎ জানেন এবং তিনি সবাইকেই সমান চোখে দেখেন, তাই সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করাও তাঁর কাজ, যেহেতু সব ভাল কাজই তিনি করে থাকেন। তাহলে তিনি কেন এমন ব্যবস্থা নিলেন না, যাতে নারী-পুরুষের সংখ্যা সমান থাকে এবং অধিকারও বজায় থাকে? এই গাফিলতির পেছনে সম্ভাব্য কারণগুলো হতে পারে:,

ক) তিনি পুরুষতান্ত্রিক, তাই নারীদের অধিকার নিয়ে এত মাথা ঘামাননি।
খ) তিনি ভবিষ্যৎ জানতেন না, তাই যখন দেখলেন, নারীর সংখ্যা পুরুষের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে, তখন তিনি জীবরাঈল মারফৎ নবীর কাছে এর সমাধান দিলেন পুরুষের একাধিক বিয়ের মাধ্যমে।
গ) তিনি ভবিষ্যৎ জানলে আগেই নারী-পুরুষের সংখ্যা এমনভাবে নির্ধারণ করতেন, যাতে জন্মহার বা মৃত্যুহার যাই হোক না কেন, নারী-পুরুষের অনুপাত সমান থাকে। এটা করতে তিনি অপারগ।
ঘ) হয়তো ভবিষ্যৎ জানেন কিন্তু প্রতিরোধের উপায় জানা নেই বা প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ তাই প্রতিকার হিসেবে ঐশী বাণী পাঠিয়েছেন।

যাঁরা প্রকৃত জ্ঞানী, তাঁরা জানেন যে, "প্রতিকার অপেক্ষা প্রতিরোধ উত্তম।" তাই আল্লাহ হয় এটা জানতেন না বা জেনে থাকলেও অক্ষম হওয়ার কারণে প্রতিরোধ করতে পারেননি।

সহী মুসলমানের খোঁজে

লিখেছেন জুলিয়াস সিজার

পাকিস্তানে শিয়াদের ওপরে বোমা হামলায় মোট ৩০ জন নিহত। 
নাইজেরিয়াতে মসজিদে বোমা হামলায় নিহত ৪২।
বাংলাদেশে শিয়াদের তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলায় নিহত ১, আহত অর্ধশতাধিক...

উল্লেখ্য, যাঁরা মরেছেন, তাঁরা মুসলমান আর যারা মেরেছে, তারাও মুসলমান। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে - কে সহী আর কে অসহী মুসলমান, সেটা নির্ণয় করা যাচ্ছে না এখনও।

- আল্লাহ, তুমি মুসলমানদের হাত থেকে মুসলমানদের রক্ষা করো আল্লাহ।

- আল্লাহ, তুমি ইসলাম প্রচার করিয়েছ ১৪০০ বছর হয়ে গেল। এই ১৪০০ বছরেও তোমার বান্দারা নির্ণয় করতে পারল না, কে সহী মুসলমান আর কে অসহী মুসলমান!

- আল্লাহ, তুমি তাদের এই হেদায়েতটুকু করো, যেন তারা অন্তত আগে নিজেদের মধ্যে থেকে কে সহী মুসলমান, সেটা বুঝে নিতে পারে।

- আল্লাহ, তুমি মডারেট মুসলমানদের হেদায়েত করো। আল্লাহ, তুমি তোমার মডারেট বান্দাদের এই জ্ঞান দাও যে, অনলাইনে নাস্তিকদের সাথে সহী আর অসহী ইসলাম নিয়ে তর্ক না করে নিজ ধর্মের ছাগলদের মানুষ করতে পারলেই সেটা তাদের জন্য বেশি মঙ্গলজনক হবে। কারণ হেফাজতে ইসলাম এই দেশে শরিয়া আইন কায়েম করলে মডারেটেরা আর লিটনের ফ্ল্যাটে যেতে পারবে না, দিনের বেলা যত বদমায়েশি আছে, সব করে রাতে এসে অনলাইনে ইসলাম প্রচার করতে পারবে না।

- আল্লাহ, তুমি মডারেটদের হেফাজতে সুফল-কুফল বুঝতে পারার তৌফিক দান করো।

- আল্লাহ, কুরান পৃথিবীর সকল বিজ্ঞানের উৎস। কিন্তু তোমার বাংলাদেশের বান্দারা কেমিস্ট্রিতে বড্ড কাঁচা, আল্লাহ। তারা বোমা বানাতে গিয়ে অধিকাংশ সময়ে বিস্ফোরিত হয়ে নিজেরাই মরছে, আল্লাহ। আল্লাহ, তুমি তাদের কেমিস্ট্রি ভালোমতো বোঝার জ্ঞান দাও, যেন তারা ভালোমতো বোমা, গ্রেনেড বানাতে পারে। তারপর প্রথমে বাংলাদেশের বাকি যে ৮% অমুসলিম আছে, তাদের খেদিয়ে দেশছাড়া করে ১০০% মুসলমান হওয়ার পর নিজেরা নিজেরা মারামারি শুরু করতে পারে। 

কন বানেগা সহী মুসলমান আল্লাহ! হু ইজ সহী, আল্লাহ, হু ইজ সহী?

হা-হা-হাদিস – ১৫৩


Narated By Abu Huraira : Allah's Apostle said, "During your sleep, Satan knots three knots at the back of the head of each of you, and he breathes the following words at each knot, 'The night is, long, so keep on sleeping,' If that person wakes up and celebrates the praises of Allah, then one knot is undone, and when he performs ablution the second knot is undone, and when he prays, all the knots are undone, and he gets up in the morning lively and gay, otherwise he gets up dull and gloomy."

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৫

ইছলামী স্বপ্নদোষ

লিখেছেন পুতুল হক

ইসলামের মহানবী মক্কা বিজয়ের পর মক্কার জনগণের সামনে দুটো পথ খোলা রেখেছিলো, হয় ইসলাম কবুল করতে হবে নয়তো মক্কা ছাড়তে হবে কপর্দকহীন অবস্থায়। এরপরও প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। এবং যুগ যুগ ধরে কাবা ঘরে পূজিত ৩৬০টি মূর্তি ভেঙেছিল। তার অনুসারীদের সামনে আদর্শ পৃথিবীর দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেই মূর্তিগুলো ধ্বংস করা হয়েছিলো। মুসলমানের পৃথিবী হবে পূজার মূর্তিশূন্য তথা অন্যসকল ধর্মবিশ্বাসমুক্ত। একমাত্র মোহাম্মদ এবং তার বানানো আল্লাহই হবে মানুষের একমাত্র পূজার বিষয়।

মুসলমান আজও গর্বভরে সে পথ অনুসরণ করে যাচ্ছে। সুযোগ পেলেই তারা অন্য ধর্মকে আঘাত করছে। তাদের সামনে আদর্শ এবং একমাত্র সঠিক দেশের উদাহরণ সৌদি আরব, যেখানে নেই অন্য ধর্মের প্রতি এবং তার অনুসারীদের প্রতি সামান্যতম শ্রদ্ধাবোধ। বিধর্মী যদিও মানুষ, কিন্তু তারা যেহেতু অবধারিতভাবে নরকে যাবেই, কাজেই তাঁদেরকে পৃথিবীতেই নরকবাসীর অমর্যাদা দেয়া হয়। সেই দেশটিতে মানুষের স্বীকৃতি নেই, কেবল মুসলমানের স্বীকৃতি আছে।

জীবনে অন্তত একবার মক্কা-মদিনা দর্শনের জন্য প্রতিটি মুসলমানের মধ্যে যে আকুলতা থাকে, আমরা তা জানি। তাদের তীর্থ সেখানে, তাদের নবীর জন্মস্থান, তাদের ধর্মের জন্মস্থান। মক্কা পবিত্র নগরী। ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি, সারা পৃথিবীর ওপর শয়তান তার রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করত পারলেও মক্কা নগরীতে কখনো প্রবেশ করতে পারবে না। এমনকি দাজ্জাল নাকি মক্কার গেটে দাঁড়িয়ে থাকবে, ভেতরে যেতে পারবে না! মক্কাকে পবিত্র করা হয়েছে মোহাম্মদ এবং তার পূর্বপুরুষ যে সমস্ত মূর্তির পূজা করেছিলো, সে সমস্ত মূর্তি ধ্বংস করে এবং অস্ত্রের মুখে অবিশ্বাসীদের দেশত্যাগে বাধ্য করে।

মুসলমানের আদর্শ - পৃথিবীর একমাত্র ক্রাইটেরিয়া পৃথিবীকে কাফেরশূন্য হতে হবে বা তাদেরকে মুসলমানের পদানত হয়ে থাকতে হবে। সেখানে শিক্ষা, সভ্যতা, উন্নতি বলে কিছু নেই। কল্পনাশক্তি বা মুক্তচিন্তা নিষিদ্ধ। দুনিয়ার জীবন কিছুই না তাদের কাছে। গরু-ছাগলের মত কোনোমতে জীবন কাটিয়ে পরকালে হুর নিয়ে রঙ্গলীলা করাই তাদের ধ্যান-জ্ঞান।

মুসলমানরা তাদের নবীর দেখিয়ে দেয়া পথ অনুসরণ করে তার গড়া পবিত্র নগরীর আদলে একটা পৃথিবীর স্বপ্নই শুধু দেখে না, তারা এটাও বিশ্বাস করে, এরকম একটা পৃথিবী অবশ্যই হবে এবং সেই “হওয়া”কে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য তারা নিজেদের জীবন, সম্ভাবনা সব কিছু উৎসর্গ করে। এই বিশ্বাস যার নেই, সে মুসলমান-ই না। তাই ৭০ বছরের বেশি বয়সের বৃদ্ধকে বলতে শুনি: মা, বাবা, স্ত্রী, পুত্র, কন্যাকে ভালোবাসার আগে আল্লাহ ও তাঁর নবীকে ভালবাসতে হবে এবং জিহাদ করতে হবে।

জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিষবিগ্যান - ২

লিখেছেন নাস্তিক ফিনিক্স

প্রাচীন জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চা

আকাশ ও পৃথিবী সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান প্রচেষ্টাও কিন্তু থেমে থাকেনি। প্রাচীন সুমেরীয়-ব্যাবিলনীয়রা পৃথিবীতে প্রথম লিপি আবিষ্কার করে। তখন কাগজ ছিল না। মাটির টালিতে দাগ কেটে লিখতে হত। এভাবে বহু তথ্য তারা লিপিবদ্ধ করে গেছে। তাদের দীর্ঘদিনের আকাশ পর্যবেক্ষণের তথ্যগুলো থেকে কিছু নিয়ম-শৃঙ্খলা খুঁজে বের করেন "নাবু রিমান্নি" (আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৪৯১) এবং পরবর্তী কালে "কিদিন্নু" (আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৩৭৯) এই নিয়ম-শৃঙ্খলার পেছনে গণিতের সূত্র অনুসন্ধান করেন|।

এদিকে গ্রীক দার্শনিক ও বিজ্ঞানীরা বেশ কিছু সঠিক ধারণা (আরো স্পষ্ট করে বললে Hypothesis) হাজির করেন।
  • অ্যানাকসিমেনডার (আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৬১১-৫৪৭): 'ভূপৃষ্ট সমতল নয়, বরং বক্রতল'
  • পিথাগোরাস (আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০): 'পৃথিবীর আকার গোলকের মতো'
  • অ্যানাকসাগোরাস (আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০-৪২৮): সূর্য এবং চন্দ্রগ্রহণের সঠিক ব্যাখ্যা দিলেন 
  • হেরাক্লিডস (আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৩৮৮-৩১৫): 'পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর ২৪ ঘন্টায় এক পাক ঘুরছে'
  • অ্যারিসটারকাস (আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৩১০-২৩০): 'পৃথিবী নিজের অক্ষের চারপাশে ঘোরার সঙ্গে সূর্যের চারধারেও ঘুরছে'
  • গ্রিকদের প্রধান ধারার মত ছিল "গোটা জগতটা পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।" টলেমি (আনুমানিক ১০০-১৭০ খ্রিষ্টাব্দ) এই মতকে সংগঠিত রূপ দেন [যদিও প্রাক্-টেলিস্কোপিক যুগে আকাশের দিকে তাকিয়ে এটাই মনে হত, কিন্তু পরে এই মতটাই হয়ে গেলো 'সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাণী', যে বাণীকে আজও খ্রিষ্টানরা মেনে চলেছে]
ভারতীয় ও চৈনিক বিজ্ঞানীরাও বেশ কিছু সঠিক ধারণা হাজির করেন। 


ভারতের "আর্যভট্ট" পৃথিবীর আহ্নিক গতি এবং নিরক্ষরেখার কথা বলেন। চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ যে রাক্ষস-খোক্কসের ব্যাপার নয়, বরং পৃথিবী এবং চাঁদের ছায়া থেকে হয়, সেটাও তিনি ব্যাখ্যা করেন।


প্রাচীন চৈনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের অবদানও বিশেষ উল্লেখযোগ্য। সৌরকলঙ্ক ও ধূমকেতুর চরিত্র (ধূমকেতুর লেজের বিস্তার সব সময় সূর্যের উল্টোদিকে হবে) তাঁরাই লিপিবদ্ধ করেন। এছাড়াও তাঁরাই প্রথম ১০৫৪ খ্রিষ্টাব্দে একটি তারার সুপারনোভা বিস্ফোরণ নথিভুক্ত করেন, যেটি ২৩ দিন ধরে দিনের আকাশে দেখা গিয়েছিল। এই সুপারনোভা বিস্ফোরণের অবশেষ আজও আমরা দেখতে পাই, যার নাম দেওয়া হয়েছে 'কাঁকড়া নীহারিকা' (Crab Nebula বা M 1)।


(চলবে)

সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৫

শুটকি-ভর্তা এবং ঈশ্বর বিষয়ে

লিখেছেন নরমপন্থী

আজকে ঝাল শুটকির ভর্তা দিয়া ভাত খাইলাম। ভালই লাগলো। খাইতে খাইতে একটা গল্পের কথা মনে পড়ল। কিছু ছেলেভোলানো গল্প আছে, যা আমাদের মগজের কার্যক্ষমতা বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়, যাতে সমাজব্যবস্থা শৈশবেই আমাদের পায়ে ধর্মের বেড়ি পরাইতে পারে। শৈশবে এই রকম একটা গল্প পড়ছিলাম, বা হয়তো শুনেও থাকতে পারি, ঠিক মনে নাই। গল্পের বিশেষত্বটুকু পরিষ্কার মনে আছে। কারণ এই সব গল্প আমাদের মগজের মধ্যে একধরনের সীমাবদ্ধতার দেয়াল তৈরি করে।

"একবার এক বুজুর্গের সাথে তর্কে লিপ্ত হলো স্বয়ং শয়তান। বুজুর্গ তার অতিকায় জ্ঞানভাণ্ডার ব্যবহার করে যুক্তি-তর্ক করতে থাকলো। একই সাথে শয়তান তার শয়তানি যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে বুজুর্গের যুক্তি-বিবেচনাকে পরাভূত করতে চেষ্টা করলো। এক পর্যায়ে দেখা গেল, দুর্ভাগ্যবশত বুজুর্গ ঈশ্বর/আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণে ব্যর্থ। তারপর বিচক্ষণ বুজুর্গ বলল, "দূর হ, শয়তান! তুই যতই যুক্তি দেখাস, আমি সবকিছু উপেক্ষা করে অন্ধভাবে ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে যাব।"

উক্ত গল্পের মাধ্যমে অন্ধভাবে কোনো বিশ্বাস আঁকড়ে ধরে রাখার গুণকীর্তন করা হয়েছে। এইভাবে কোমলমতি শিশু-কিশোরদের মনে (পরকালের শাস্তি আর ঈশ্বর-শয়তানের কথা বলে) অন্ধবিশ্বাসের রক্ষা করার প্রবণতাকে অনুকরনীয় এবং কৃতিত্বের কাজ বলে শেখাতে শুরু করা হয়।

তারপর আমরা বয়সের গণনায় প্রাপ্তবয়স্ক মানুষে পরিণত হই, যখন আমাদের সম্বল ১.৩ বা ১. ৪ কেজি ওজনের মগজ আর একগাদা স্মৃতি আর তথ্যাদি, যার কিছু অংশ শৈশবশিক্ষার নামে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে অথবা সামাজিক জীব হওয়ার সুবাদে নিয়মতান্ত্রিকভাবে হজম করেছি। আর তাই ঝাল শুটকির ভর্তা দিয়া ভাত ডলা দিয়া খাইতে হয়ত এখনও ভালো লাগে। কারণ শৈশবে হয়ত আমাদের চারপাশে সবাই এই রকম ঝাল এবং দুর্গন্ধযুক্ত খাবারকে স্বাদের পরিচায়ক বলে ভাবতে শিখিয়েছে। অথচ আমরা কি কখনো ভেবে দেখি আগুনে পোড়ার মত অনুভূত হওয়া ঝাল যন্ত্রণার খাবার ভালো লাগার কি কোনো যৌক্তিক কারণ আছে? বুঝলাম, আমাদের যা ভালো লাগে, তা হয়তো আমৃত্যু ভালো লাগবে, তার মানে এই না যে, আমরা আমাদের নিজস্বতা থেকে এক মুহুর্তের জন্য দূরে গিয়ে প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ চিন্তা করতে শিখতে পারব না। কোনো অনভ্যস্ত পশ্চিমা শেতাঙ্গের মুখে এই ধরনের খাবার তুলে দিলে কী হতে পারে, তা আমরা কল্পনা করতে পারি। আমাদের কাছে আমাদের খাবার, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের ধর্মবিশ্বাস ভালো লাগে, তার কারণ আমরা এইটাতে অভ্যস্ত হয়েছি। একই নিয়মে সবাই সবার পিতামাতা থেকে পাওয়া বিশ্বাসকে সত্য মনে করে বসি।

এইরকম খাবারদাবারের মতো অনেক দৃষ্টিভঙ্গিতে আমরা একটা নির্দিষ্ট সমাজে বেড়ে ওঠার কারণে অভ্যস্ত। কিন্তু একটা সময় পরে আমাদের বিবেচনা শক্তির পরিপক্কতা আসা উচিত, যাতে আমরা আমাদের ভালো লাগা সত্ত্বেও এই ভালো-লাগা সত্য মনে হওয়ার পেছনের বিষয়গুলো নিরেপক্ষভাবে বিবেচনা করতে পারি। একজন পশ্চিমা শ্বেতাঙ্গের যেমন তার শূকরের মাংস দিয়ে তৈরি খাবারদাবার ও তার চারপাশ থেকে পাওয়া ধর্ম ভালো লাগে, আমাদের ভালো লাগে আমাদের জিনিসপত্র, আমাদের চিন্তাভাবনার ধরন। দীর্ঘ মেয়াদে আজ থেকে শত বছরের পরিসরে আমাদের সভ্যতার কোন বিষয়গুলো ভবিষ্যতের মানব সভ্যতার জন্য মঙ্গলদায়ক হবে এবং কোন বিষয়গুলো ভবিষ্যতের মানব সভ্যতার বিপর্যয় ডেকে আনবে, তা নিয়ে ভাববার সময় আজই।

আমাদের চিন্তাভাবনা ও যৌক্তিক বিবেচনার জন্য প্রতিবন্ধকতামূলক মধ্যযুগীয় গ্রন্থাবলী আমাদের জন্য মঙ্গলদায়ক কি না, বর্তমান পৃথিবী জুড়ে ধর্মীয় হানাহানি দেখেই তা অনুমান করা যায়। পশ্চিমা বিশ্বের উন্নত জীবনব্যবস্থা এবং তাদের অগ্রগতির অর্জনের পেছনে তাদের ভালোমন্দ এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত পরিছন্ন আলোচনার পর্যালোচনার সুযোগ এবং ফরাসী বিপ্লব-পরবর্তী মুক্তচিন্তার পরিবেশ অনেকাংশে অবদান রেখেছে। মানবমগজের কিছু বিবর্তন জনিত সহজাত প্রবণতার এবং সীমাবদ্ধতার কারণে পৃথিবীতে অধিকাংশ মানুষ হয়তো কখনই ধর্মবিশ্বাস থেকে সরে আসতে পারবে না। তাই ধর্ম হয়ত কখনোই পুরোপুরি বিলুপ্ত হবে না। একই কারণে পৃথিবীর ইতিহাসে ধর্মের গোঁড়ামিমুক্ত মানবতাবাদী দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তিরা সব সময়েই সংখালঘু ছিল। আজও তাই যারা নিজেদের ঐ সীমিত সংখ্যক দায়িত্বশীল জনগোষ্ঠীর সদস্য হতে সাহসিকতার সাথে বাস্তবতাকে জানতে বুঝতে, শিখতে বা জানতে সক্ষম, তাদের এগিয়ে আসতে হবে। বিবর্তনজনিত স্বার্থপর জিন (gene)-প্রসূত মানবসমাজে তথাকথিত ধর্ম-জাত-কূলের নামে যে-স্বার্থপরতার অনাকাঙ্খিত চর্চা চলতে থাকে, তা ভনিতাবিহীনভাবে স্বীকার করে নিতে এবং বুঝতে হবে, যাতে আমরা আমাদের ভবিষ্যতের চিন্তা মাথায় রেখে মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে পারি। আর যারা নাস্তিকতাভিত্তিক জীবনের উদ্দেশ্য অর্থহীন ভেবে আঁতকে ওঠে, তাদের উদ্দেশে প্রফেসর হুমায়ুন আজাদ একটা বাণী মনে পড়ে: "নিরর্থকতাকে মেনে নিয়েই নিরর্থকতার মুখোমুখি হতে হবে, ঝিনুকের ব্যাধিকে পরিনত করতে হবে মুক্তোয়।” 

বানু আল-মুসতালিক হামলা-২: "মুমিন বনাম মুনাফিক" – বিভাজনের শুরু!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-৯৮) ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – বাহাত্তর

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯ পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯ > পর্ব ৭০ > পর্ব ৭১ > পর্ব ৭২ > পর্ব ৭৩ > পর্ব ৭৪ > পর্ব ৭৫ > পর্ব ৭৬ > পর্ব ৭৭ > পর্ব ৭৮ > পর্ব ৭৯ > পর্ব ৮০ > পর্ব ৮১ > পর্ব ৮২ > পর্ব ৮৩ > পর্ব ৮৪ > পর্ব ৮৫ > পর্ব ৮৬ > পর্ব ৮৭ > পর্ব ৮৮ > পর্ব ৮৯ > পর্ব ৯০ > পর্ব ৯১ > পর্ব ৯২ > পর্ব ৯৩ > পর্ব ৯৪ > পর্ব ৯৫ > পর্ব ৯৬ > পর্ব ৯৭

বানু লিহায়েন গোত্রের ওপর অতর্কিত হামলার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কী অজুহাতে "বানু আল-মুসতালিক" গোত্রের ওপর আক্রমণাত্মক (Offensive) হামলার মাধ্যমে তাঁদের দশ জন লোককে হত্যা ও স্ত্রী, সন্তান, পরিবার-পরিজনদের বন্দী করে দাস ও যৌনদাসীতে রূপান্তর ও সমস্ত সম্পত্তি লুণ্ঠনকরে  নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন, এই মানবতাবিরোধী অপকর্মটি সাধনের পর এক মুহাজির কীভাবে এক আনসারকে দৈহিক আক্রমণের মাধ্যমে মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে কোন্দলের সূত্রপাত করেছিলেন, এই ঘটনার পর আবদুল্লাহ বিন উবাই নামের এক বিশিষ্ট আনসার গোত্রপ্রধান রোষান্বিত হয়ে কী মন্তব্য করেছিলেন - তার বিস্তারিত আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই বর্ণনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো: মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে এই কোন্দলটির মুখ্য ইস্যু হলো, "এক মুহাজির এক আনসারকে দৈহিক আক্রমণ করেছে --!" তারই প্রতিক্রিয়াই মদিনার আল-খাযরাজ গোত্রপ্রধান রাগান্বিত হয়ে এক মন্তব্য করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে, কিন্তু এই আনসার গোত্রপ্রধান কোনো মুহাজিরকেই খুন করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেননি। আবদুল্লাহ বিন উবাই যে-স্থানটিতে ঐ মন্তব্যটি করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে, সেই ঘটনাস্থলে মুহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন না। অর্থাৎ মুহাম্মদ এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন না, তিনি তা শুনেছেন।

প্রশ্ন ছিল:
ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ কীভাবে নিশ্চিত হয়েছিলেন যে, আবদুল্লাহ বিন উবাই ছিলেন এক "মুনাফিক (মিথ্যাবাদী-ভণ্ড)"এবং এই ঘটনাটির পর মুহাম্মদ ও মুহাজিররা আবদুল্লাহ বিন উবাইয়ের বিরুদ্ধে কী রূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন? কতজন লোকের সাক্ষ্যের ভিত্তিতেমুহাম্মদ নিশ্চিত হয়েছিলেন যে, তিনি যা শুনেছেন তা অবশ্যই সত্য এবং আবদুল্লাহ বিন উবাই অবশ্যই মিথ্যাবাদী ও ভণ্ড?

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনার পুনরারম্ভ: [1][2][3]  

পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ৯৭) পর:

‘যায়েদ বিন আরকাম [4] তা শুনতে পায় ও আল্লাহর নবীর কাছে গিয়ে তা তাঁকে বলে দেয়, তিনি তখন শত্রুদের বিলিব্যবস্থা নিষ্পত্তি করছিলেন।

উমর, যিনি তাঁর সাথেই ছিলেন, বলেন, "আববাদ বিন বিশার কে হুকুম করুন যেন সে তাকে খুন করে।" আল্লাহর নবী জবাবে বলেন, "কিন্তু লোকেরা যদি বলে যে, মুহাম্মদ তাঁর নিজ অনুসারীদের হত্যা করে? না, যাত্রারম্ভ করার হুকুম করো।"

('Umar, who was with him, said, 'Tell 'Abbad b. Bishr to go and kill him.' The apostle answered, 'But what if men should say Muhammad kills his own companions? No, but give orders to set off').

সেই সময়টি ছিল এমন, যখন আল্লাহর নবী সচরাচর যাত্রারম্ভ করতেন না। লোকেরা যথারীতি যাত্রা শুরু করে। যখন আবদুল্লাহ বিন উবাই শুনতে পান, তিনি যা বলেছেন, তা যায়েদ আল্লাহর নবীকে বলে দিয়েছে, তিনি তাঁর কাছে যান ও শপথ করে বলেন যে, তাঁকে যা বলা হয়েছে, তা তিনি বলেননি।

তাঁর [আবদুল্লাহ বিন উবাই] লোকদের কাছে তিনি ছিলেন এক মহান ব্যক্তি (Great man); আল্লাহর নবীর সঙ্গে তখন যে-আনসাররা উপস্থিত ছিল, তারা বলে, "এটাই সঠিক হতে পারে যে, তিনি যা বলেছেন এই বালকটি তা ভুল বুঝেছে ও তাঁর সেই কথাগুলো মনে রাখেনি", তারা ছিল ইবনে উবাইয়ের প্রতি সহানুভূতিশীল ও তাঁকে রক্ষার চেষ্টা করছিল।

যখন আল্লাহর নবী যাত্রা শুরু করেন, উসায়েদ বিন হুদায়ের (Usayd b. Hudayr) তাঁর সঙ্গে দেখা করে ও তাঁকে আল্লাহর নবীর সম্মাননায় সালাম করে, বলে, "আপনি বিসদৃশ সময়ে যাত্রা করছেন, যা আপনি আগে কখনোই করেননি।" আল্লাহর নবী বলেন, "তোমার বন্ধু যা বলেছে, তা কি তুমি শোনোনি? সে ঘোষণা করেছে যে, তার মদিনায় প্রত্যাবর্তনের পর শক্তিমানরা দুর্বলদের তাড়িয়ে দেবে।"

সে জবাবে বলে, "যদি আপনি চান তবে আপনি তাকে বিতাড়িত করতে পারেন; সে হলো দুর্বল, আর আপনি হলেন শক্তিমান।" সে আরও বলে, "তার সাথে সদয় আচরণ করুন, কারণ তাকে রাজমুকুট পরানোর জন্য যখন তার লোকেরা জপমালা গাঁথছিল, তখন আল্লাহ আপনাকে আমাদের কাছে নিয়ে আসে; সে মনে করে যে, আপনি তাকে রাজত্ব থেকে বঞ্চিত করেছেন।"

তারপর আল্লাহর নবী তাঁর লোকদের নিয়ে দিবাবসানের পূর্ব পর্যন্ত সারাদিন, প্রভাত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সারারাত ও তার পরের দিন সূর্যতাপে পীড়িত হওয়া পর্যন্ত যাত্রা চালিয়ে যান। তারপর তিনি তাদের সাময়িকভাবে থামান। তারা ভূমিতে শরীর ঠেকানোর প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ে। আবদুল্লাহ বিন উবাই আগের দিনে যা বলেছে তা থেকে তাদের মনোযোগ সরিয়ে নেয়ার জন্য তিনি এটা করেছিলেন।

হিজাজের ভেতর দিয়ে (আল তাবারী: 'বিকেল বেলা') তিনি তাঁর যাত্রা অব্যাহত রাখেন, যে পর্যন্ত না তিনি সুদূর আল-নাকির (al-Naqi') সামান্য আগে 'বাকা' (Baq'a) নামের এক জলসেচন/জল-পানের স্থানে এসে পৌঁছেন। যেহেতু তিনি রাত্রিতে ভ্রমণ করছিলেন, প্রবল বাতাস লোকদের পীড়িত করছিল, যা তাদের আতঙ্কের কারণ হয়েছিল। তিনি তাদের বলেন যে, ভয় পাবার কিছু নেই, কারণ এই বাতাস ঘোষণা দিচ্ছে, সর্বশ্রেষ্ঠ অবিশ্বাসীদের একজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা মদিনায় পৌঁছে দেখতে পান যে, সেই দিন আনুগত্যহীন লোকদের গোপনে আশ্রয়দাতা, রিফা বিন যায়েদ বিন আল-তাবুত নামের বনি কেইনুকা গোত্রের এক গণ্যমান্য ইহুদির মৃত্যু হয়েছে।

সূরা অবতীর্ণ হয় যেখানে আল্লাহ আবদুল্লাহ বিন উবাই ও তার সাথে সমমনা আনুগত্য-হীন লোকদের বিষয়ে উল্লেখ করেছে। যখন তা অবতীর্ণ হয়, আল্লাহর নবী যায়েদ বিন আরকামের কান ধরেন ও বলেন, "এই সেই ব্যক্তি যে তার কানকে আল্লাহর জন্য একান্তভাবে নিয়োজিত করেছে (আল-তাবারী: 'এই সেই ব্যক্তি যার কর্ণপাত আল্লাহ নিশ্চিত করেছে)।" আবদুল্লাহ বিন ‌উবাইয়ের পুত্র আবদুল্লাহ তার পিতার এই বিষয়টি শুনতে পান।’
(অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক)

মুহাম্মদের ভাষায় (কুরান): [5]

[বাগাড়ম্বরপূর্ণ- স্বেচ্ছাচারী, হুমকি-শাসানি ও শাপ-অভিশাপ জাতীয় বাক্য পরিহার]

৬৩:১-৩-‘মুনাফিকরা আপনার কাছে এসে বলেঃ আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রসূল। আল্লাহ জানেন যে, আপনি অবশ্যই আল্লাহর রসূল এবং আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। (২) তারা তাদের শপথসমূহকে ঢালরূপে ব্যবহার করে। অতঃপর তারা আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে। তারা যা করছে, তা খুবই মন্দ। (৩) এটা এজন্য যে, তারা বিশ্বাস করার পর পুনরায় কাফের হয়েছে। ফলে তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেয়া হয়েছে। অতএব তারা বুঝে না।’ 

৬৩:৭-৮-‘তারাই বলেঃ আল্লাহর রাসূলের সাহচর্যে যারা আছে তাদের জন্যে ব্যয় করো না। পরিণামে তারা আপনা-আপনি সরে যাবে। ভূ ও নভোমন্ডলের ধন-ভান্ডার আল্লাহরই কিন্তু মুনাফিকরা তা বোঝে না। (৮) তারাই বলেঃ আমরা যদি মদীনায় প্রত্যাবর্তন করি তবে সেখান থেকে সবল অবশ্যই দুর্বলকে বহিস্কৃত করবে। শক্তি তো আল্লাহ তাঁর রসূল ও মুমিনদেরই কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না।’

>>> এক মুহাজিরের পায়ের লাথির আঘাতে অপমানিত ও আক্রান্ত হয়েছেন এক আনসার! এরই প্রতিক্রিয়ায় আবদুল্লাহ বিন উবাই নামের এক বিশিষ্ট আনসার গোত্রপ্রধান হয়েছেন রোষান্বিত! রোষান্বিত অবস্থায় তিনি আক্ষেপ করে মন্তব্য করেছেন যে, "মুহাজিররা"তাঁদের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রবল তর্ক করে, তারা তাঁদের নিজের দেশ মদিনায় এসে দল ভারি করে ও তাঁদের কোনোকিছুই এই কুরাইশদের পছন্দ নয় (পর্ব: ৯৭)।

আদি উৎসের ওপরের বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, “যখন আমরা মদিনায় প্রত্যাবর্তন করবো, শক্তিমানরা দুর্বলদের তাড়িয়ে দেবে" বলে আবদুল্লাহ বিন উবাই যে-মন্তব্য করেছেন বলে এক অল্পবয়স্ক বালক মুহাম্মদের কাছে এসে অভিযোগ করেছিল, এই গোত্রপ্রধান শপথ করে তা অস্বীকার করেছিলেন। আর মুহাম্মদের সঙ্গে তখন যে মুহাম্মদ-অনুসারী আনসাররা উপস্থিত ছিলেন, তারাও যে-মতামত দিয়েছেন, তা হলো, "এটাই সঠিক হতে পারে যে, তিনি যা বলেছেন এই বালকটি তা ভুল বুঝেছে--।" অর্থাৎ আবদুল্লাহ বিন উবাই যে অবশ্যই মিথ্যাবাদী (Hypocrite), মুহাম্মদের এই দাবির সপক্ষে "একমাত্র সাক্ষী" হলো এক অল্পবয়স্ক বালক!

আদি উৎসের ওপরের বর্ণনায় আমরা আরও জানতে পারি যে, যখন যায়েদ বিন আরকাম নামের এই অল্পবয়স্ক বালক মুহাম্মদকে আবদুল্লাহ বিন উবাইয়ের ঐ তথাকথিত মন্তব্যটি অবহিত করান, তখন মুহাম্মদের সাথে ছিলেন তাঁর প্রিয় অনুসারী উমর ইবনে খাত্তাব। ঘটনাটি শোনার পর কোনোরূপ সত্য-মিথ্যা যাচাই ছাড়াই উমর মুহাম্মদকে অনুরোধ করেন যে, তিনি যেন আবদুল্লাহ বিন উবাই-কে খুন করেন। অপরপক্ষে, আবদুল্লাহ বিন উবাইয়ের পক্ষের লোক (আনসার) আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও কোনো মুহাজিরকেই খুন করার কোনো অভিপ্রায় ব্যক্ত করেননি। পার্থক্যটি অত্যন্ত স্পষ্ট!

কে এই আবদুল্লাহ বিন উবাই বিন সালুল?

এই সেই অসীম সাহসী আদি মদিনাবাসী খাযরাজ গোত্রপ্রধান আবদুল্লাহ বিন উবাই, যিনি বনি কেইনুকা (পর্ব: ৫১) ও বনি নাদির গোত্রের (পর্ব: ৫২ ও ৭৫) বিরুদ্ধে মুহাম্মদের অনৈতিক নৃশংস মানবতাবিরোধী অপরাধের বিপক্ষে প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ করেছিলেন। যাঁর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে বনি কেইনুকা ও বনি নাদির গোত্রের লোকেরা মুহাম্মদের করাল গ্রাস থেকে প্রাণে বাঁচতে পেরেছিল। এই সেই আবদুল্লাহ বিন উবাই, যিনি ওহুদ যুদ্ধের প্রাক্কালে মুহাম্মদের সাথে মতভেদের কারণে এক-তৃতীয়াংশ সৈন্যসহ মাঝপথ থেকে মদিনা প্রত্যাবর্তন করেছিলেন (পর্ব: ৫৫)। 

মুহাম্মদের স্বরচিত ব্যক্তিমানস জীবনীগ্রন্থ (Psycho-Biography) হলো কুরান (পর্ব: ১৪ ও ১৬-১৭); মুহাম্মদ তাঁর উদ্দেশ্য সাধনের বাহন হিসাবে "তাঁর আল্লাহ ও জিবরাইলকে" সৃষ্টি করেছেন, মুহাম্মদের প্রতি অবিশ্বাসে তাঁর এই আল্লাহ ও জিবরাইলের কোনো অস্তিত্ব নেই। সুতরাং বানু আল-মুসতালিক হামলার প্রাক্কালে মুহাজির ও আনসারদের এই কোন্দলের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ জিবরাইল মারফতসূরা মুনাফিকুন অবতীর্ণ করে আবদুল্লাহ বিন উবাই যে অবশ্যই মিথ্যাবাদী ও ভণ্ড (Hypocrite) বলে সাক্ষ্য দিয়েছে বলে মুহাম্মদ দাবি করেছেন, তাতে আশ্চর্য হবার কোনো কারণ নেই। এটি একান্তই মুহাম্মদের মনস্তাত্ত্বিক চিন্তা-ভাবনা ও বিবেচনাবোধের বহিঃপ্রকাশ।

মুহাম্মদ তাঁর এই ব্যক্তিমানস জীবনীগ্রন্থের সূরা মুনাফিকুন অধ্যায়ে আবদুল্লাহ বিন উবাইয়ের নাম উল্লেখ করেননি। শুধু সুরা মুনাফিকুনই নয়, মুহাম্মদ তাঁর এই স্বরচিত গ্রন্থে ফেরেশতা, পূর্ববর্তী নবী-রসুল, পৌত্তলিকদের দেবতা ও পুরাকালের ইতিকথার চরিত্রের নামগুলো ও মুহাম্মদের সমসাময়িক সময়ের মাত্র দু'জন ব্যক্তির নাম ছাড়া (পর্ব: ৩৯) অন্য কোনো ব্যক্তির নাম এবং কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কোন বাণী রচনা করেছেন ("শানে নজুল"), তার কোনো দিকনির্দেশনা উল্লেখ করেননি। তাই সিরাত ও হাদিসের সাহায্যে "শানে নজুল" নির্ধারণ ব্যতিরেকে তাঁর রচিত এই গ্রন্থের সঠিক অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব নয় (পর্ব: ৪৪)। [6] [7]

বানু আল-মুসতালিক হামলা-পরবর্তী এই ঘটনার পূর্বে একজন মুসলমান অন্য একজন মুসলমানকে কখনো কোনো শারীরিক আঘাতের মাধ্যমে কোন্দলে লিপ্ত হয়েছিলেন, এমন তথ্য ইসলামের ইতিহাসের আদি উৎসে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। আর মুহাম্মদ তাঁর অনুসারীদের মধ্যে এই সর্বপ্রথম শারীরিক আক্রমণের ঘটনার কোনো তদন্ত, বিচার ও এরূপ ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে কোনোরূপ ব্যবস্থা নিয়েছিলেন, এমন তথ্যও আদি উৎসের কোথাও বর্ণিত হয়নি।

মুহাম্মদের স্বরচিত জবানবন্দি কুরান, সিরাত ও হাদিসের বর্ণনায় যে-বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো - এই ঘটনার পর তিনি আক্রান্ত পক্ষেরই গোত্রনেতাকে তাঁর আল্লাহর বাণীর অজুহাতে মুনাফিক (Hypocrite) রূপে অভিযুক্ত করেছেন। আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি: মুহাম্মদ উমরের ঐ মন্তব্যের কোনরূপ প্রতিবাদ না করে ঘোষণা দেন, "কিন্তু লোকেরা যদি বলে যে, মুহাম্মদ তাঁর নিজ অনুসারীদের হত্যা করে?" যার সরল অর্থ হলো, কোনোরূপ সত্য-মিথ্যা যাচাই ছাড়াই এমত পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে হত্যা করায় কোনো অন্যায় নেই, কিন্তু মুহাম্মদ তা করেননি লোকেরা তাঁকে "অনুসারী হত্যার অপবাদ”দেবে এই ভেবে।

এই ঘটনাটিই হলো ইসলামের ইতিহাসে মুহাম্মদের অনুসারীদের মধ্যে সর্বপ্রথম বিভাজন! জন্মদাতা স্বয়ং মুহাম্মদ - যা তিনি সত্যায়িত করেছেন "তাঁর আল্লাহর" সিলমোহরে ঐশী বাণী অবতারণার মাধ্যমে।

আর এই অভিযোগটি এমনই এক অভিযোগ, যা যে কোনো মুহাম্মদ-অনুসারী তার সাথে মতভেদকারী অন্য যে কোনো মুহাম্মদ-অনুসারীর বিরুদ্ধে অবলীলায় প্রয়োগ করতে পারেন। আবদুল্লাহ বিন বিন উবাই ও তাঁর মতই মানসিকতার অধিকারী ব্যক্তিত্বসম্পন্ন অনুসারীরা যখনই মুহাম্মদের বাণী ও কর্মের সমালোচনা করেছেন তাঁদেরকেই মুহাম্মদ 'মুনাফিক'রূপে আখ্যায়িত করেছেন। মুহাম্মদের এই শিক্ষারই ধারাবাহিকতায় তাঁর অনুসারীরা মুহাম্মদের মৃত্যুর দিন থেকে ("তাঁর লাশ বিছানায় ফেলে রেখে" -বিস্তারিত পরে আলোচনা করবো) পরবর্তী সমস্ত সময় তাদের নিজেদের মধ্যে যত কলহ-বিবাদ, যুদ্ধ-লড়াই, খুন-খারাবী ও নৃশংসতা প্রদর্শন করেছেন (পর্ব- ৮২); সর্বত্রই তাঁরা একে অপরকে এই বিশেষ খেতাবে ভূষিত করেছেন। যার জের চলছে আজও!

যতদিন ইসলাম বেঁচে থাকবে, মুহাম্মদের শিক্ষায় শিক্ষিত অনুসারীরা একে অপরকে এই খেতাবে অভিযুক্ত করে পরম একাগ্রতায় "মুহাম্মদের ঐশী বাণী জপতে জপতে” নিজেদের মধ্যে এমনই কলহ-বিবাদ, যুদ্ধ-লড়াই, খুন-খারাবী ও নৃশংসতা চালিয়ে যাবে। যতদিন ইসলাম তার "আদি মুহাম্মদ-রূপে"বেঁচে থাকবে, ততদিন এই অভিশাপ থেকে তাঁদের মুক্তি মিলবে না।

মুহাম্মদ তাঁর উদ্দেশ্য সাধনের প্রয়োজনে সমগ্র মানবজাতিকে শুধু “মুসলিম বনাম অমুসলিম”রূপেই বিভক্ত করেননি, তিনি বিভক্ত করেছেন তাঁর অনুসারীদেরও। সেই বিভাজনের নাম "মুমিন বনাম মুনাফিক"!"

(চলবে)

[কুরানের উদ্ধৃতিগুলো সৌদি আরবের বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ (হারাম শরীফের খাদেম) কর্তৃক বিতরণকৃত বাংলা তরজমা থেকে নেয়া, অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর। কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট অনুবাদকারীর পাশাপাশি অনুবাদ এখানে।] 

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ:  A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা ৪৯১-৪৯২

[2] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৮, ইংরেজী অনুবাদ: Michael Fishbein, University of California, Los Angeles, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭, ISBN 0-7914-3150—9 (pbk), পৃষ্ঠা (Leiden) ১৫১২-১৫১৪ 

[3] অনুরূপ বর্ণনা (Parallal):  কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক:  আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২), ed. Marsden Jones, লন্ডন ১৯৬৬; ভলুম ২, পৃষ্ঠা ৪১৭-৪১৯
ইংরেজি অনুবাদ: Rizwi Faizer, Amal Ismail and Abdul Kader Tayob; Simultaneously published in the USA and Canada in 2011 by Routledge: 2 Park square, Milton park, Abington, Oxon, OX14 4RN and  711 Third Avenue, New York, NY 10017; ISBN: 978-0-415-86485-5 (pbk); পৃষ্ঠা ২০৩-২০৫

 [4] 'যায়েদ বিন আরকাম বিন কায়েস আল্লাহর নবীর সঙ্গে ১৭টি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি কুফায় অভিবাসী হোন ও আলীর পক্ষে সিফফিন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ৭৮৪-৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দের (হিজরি ৬৫-৬৮ সাল) মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন।'

[5] সূরা মুনাফিকুন (মদীনায় অবতীর্ণ), আয়াত সংখ্যা- ১১ http://www.quraanshareef.org/index.php?arabic=&sid=63&ano=11&st=0

[6] ইবনে কাথিরের কুরান তফসির:

রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৫

বাংলাদেশে ইসলামের সমালোচনা কেন দরকার

লিখেছেন পৃথু স্যান্যাল

মনে করুন, আপনাকে ধর্মান্ধ আগাছা দূর করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হলো।
ধরুন, এই দূর করা মানে মেরে ফেলা নয়, শুধু তাদের ছুঁয়ে দেবেন আর তারা ধর্মান্ধতা থেকে বের হয়ে আসবে।

এমতাবস্থায়, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আপনাকে কতজন হিন্দু, কতজন বৌদ্ধ আর কতজন মুসলিম ছুঁয়ে দিতে হবে? 
আপনার কি মনে হয়, একশ হিন্দু ছোঁয়ার পরে একজন মুসলিম ছুঁতে হবে? নাকি ৯ জন মুসলমানের পর ১ জন হিন্দু বা অন্য ধর্মের লোক আসবে?

যদি ৯ জন মুসলিমের পর ১ জন ভিন্ন ধর্মের ধর্মান্ধ আসে... 
তাহলে সমালোচনা, ধর্ম নিয়ে ঠাট্টা করতে গেলে কি আগে ভিন্ন ধর্মের সিরিয়াল আসবে? নাকি ইসলামের সিরিয়াল আসবে? 

আর সর্বোপরি:

- এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ক'জন হিন্দু কিংবা বৌদ্ধ ধর্মের লোক আগাছা হয়ে উঠেছে. সেটাও তো চিন্তার বিষয়! 

- এখন পর্যন্ত ইসলাম ভিন্ন অন্য ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের সন্ধান বাংলাদেশে পাওয়া গেছে কি? 

- এখন পর্যন্ত 'সংরক্ষণে হিন্দু' কিংবা 'সংরক্ষণে বৌদ্ধ' নামক কোনো উন্মাদ সংগঠনের খোঁজ পাওয়া গেছে কি? 

- এখন পর্যন্ত কয়টা ধর্মের লোক নাস্তিকের ফাঁসির জন্য মিছিল, মিটিং, লংমার্চ করে নিজেদেরকে সভ্যতার আগাছা বলে পরিচয় দিয়েছে? 

ভাই,

নিজের প্যান্টের দিকে তাকান, জিপার খোলা রেখে হাঁটলে লোকে তাকাবেই, আপনাকে নিয়ে হাসবেই। এর জন্য যদি আপনি ক্ষিপ্ত হয়ে লোকদের মারতে যান, তাহলে আপনি আর ধর্মান্ধ মুসলিমের মধ্যে পার্থক্য থাকলো কি?