আল্যা সর্বব্যাপী – তিনি বরাহেও আছেন, বিষ্ঠাতেও আছেন # আল্যা সর্বব্যাপী – তিনি বোরখাতেও আছেন, বিকিনিতেও আছেন # আল্যা সর্বব্যাপী – তিনি জলাশয়েও আছেন, মলাশয়েও আছেন # আল্যা সর্বব্যাপী – তিনি উটমূত্রেও আছেন, কামসূত্রেও আছেন # আল্যা সর্বব্যাপী – তিনি আরশেও আছেন, ঢেঁড়শেও আছেন # আল্যা সর্বব্যাপী – তিনি হাশরেও আছেন, বাসরেও আছেন

সোমবার, ২৯ আগস্ট, ২০১১

সনাতনী কামিনী - ০২

লিখেছেন নিলয় নীল

সনাতনী কামিনী - ০১

শুধু বিধাতার সৃষ্টি নহ তুমি নারী--
পুরুষ গড়েছে তোরে সৌন্দর্য সঞ্চারি
...
লজ্জা দিয়ে, সজ্জা দিয়ে, দিয়ে আবরণ,
তোমারে দুর্লভ করি করেছে গোপন।
পড়েছে তোমার 'পরে প্রদীপ্ত বাসনা--
অর্ধেক মানবী তুমি অর্ধেক কল্পনা।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নারীর কাব্যিক সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে। তিনি পারেননি হিন্দু পিতৃতন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসতে। হিন্দু পিতৃতন্ত্র পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে সফল পিতৃতন্ত্র। এতোটাই সফল যে, তা নারীকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিল যে, স্বামীর মৃত্যুর পর তার সাথে জ্বলন্ত অগ্নিতে নিজেকে পোড়ালে স্বর্গলাভ হয়! হিন্দু পিতৃতন্ত্র এতো বেশি সফল যে, রবীন্দ্রনাথের মতো বহুমুখী প্রতিভারাও এই পিতৃতন্ত্রের জয়গান গেয়েছেন। সেই পিতৃতন্ত্রের রাজত্ব এখনও ভালোভাবেই বহাল আছে।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একটা কথা বলেছিলেন, "যাঁরা দাবি করেন, সনাতন ধর্মের নির্ভুল বিধি-ব্যবস্থার জন্যই তা এতো হাজার বছর ধরে তা টিকে আছে, তাঁদেরকে বলতে চাই: টিকিয়া থাকাটাই চরম সার্থকতা নয়। অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে , কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।" 

শরৎচন্দ্রের ভাষাতে বলতে হয়, আজকে আমরা তেলাপোকা কতোটা নারীস্বাধীনতা দিয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা করবো।

স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর স্বর্গলাভের জন্য স্বামীর জ্বলন্ত চিতায় ঝাঁপ দিতে হবে। তবে বিকল্প একটি "মানবিক" সমাধান দেয়া আছে মনুসংহিতায়: “পুস্পমূলফলৈঃ শুভৈঃ/ন তু নামাপি গৃহ্নীয়াৎ পত্যৌ প্রেতে পরস্য তু॥” (৫:১৫৭). বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় - স্ত্রী সারা জীবন ফলমূল খেয়ে দেহ ক্ষয় করবেন, কিন্তু অন্য পুরুষের নামোচ্চারণ করবেন না।

আর স্ত্রী মারা গেলে স্বামী কী করবে? হ্যাঁ, পবিত্র মনুসংহিতার মাধ্যমে মনু সমাধান দিয়ে গেছেন: “ভার্যায়ৈ পূর্বমারিণ্যৈ দত্ত্বাগ্নীনন্ত্যকর্মণি/পুনর্দারক্রিয়াং কুর্যাৎ পুনরাধানমেব চ॥” (৫:১৬৮). এবার শুনুন বাংলা অর্থ - দাহ ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষ করে স্বামী আবার বিয়ে এবং অগ্ন্যাধ্যান করবেন। কী চমৎকার বিধান! 

মনুসংহিতায় বলা আছে, বিবাহিতা স্ত্রীলোকের কাজ হবে: "স্মৃতঃ/পতিসেবা গুরৌ বাসো গৃহার্থোহগ্নিপরিক্রিয়া॥” (২:৬৭). বাংলা অর্থ - পতিসেবা, গুরুগৃহে বাস (স্বামীগৃহে বাস), গৃহকর্ম পরিচালনা করা এবং অগ্নিদেবকে সন্তুষ্ট রাখাই একজন সতী-সাধ্বী স্ত্রীর কর্তব্য।

পুরুষ ও নারীর দায়িত্ব সম্পর্কে মনুসংহিতায় বলা হয়েছে: "সন্তান জন্ম দেওয়া নারীর কর্তব্য এবং সন্তান উৎপাদনার্থে পুরুষ সৃষ্টি হয়েছে" (৯:৯৬)।

মনুসংহিতা নারীকে ধর্ম থেকে দূরে থাকার উপদেশ দেয়া হয়েছে: "যে সকল নারী একদা বৈদিক মন্ত্র-শ্লোক পর্যন্ত রচনা করেছিলেন, তাদের উত্তরসূরীদের জন্য ধর্মগ্রন্থ পাঠ সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত-অমন্ত্রক" (২:৬৬); "নারী মন্ত্রহীন, অশুভ" (৯:১৮)।

মনুসংহিতা অনুসারে যাঁদের জন্য হোম নিষিদ্ধ, তাঁরা হলেন: "কন্যা, যুবতী, রোগাদি পীড়িত ব্যক্তির হোম নিষিদ্ধ এবং করলে নরকে পতিত হয়" (১১:৩৭)!

মনুসংহিতাতে লিপিবদ্ধ আছে, স্বামীর অপ্রিয় কোনো কিছু করা যাবে না: “কামন্তু ক্ষপয়েদ্দেহং" (৫:১৫৬). বাংলা অর্থ - সাধ্বী নারী কখনো জীবিত অথবা মৃত স্বামীর অপ্রিয় কিছু করবেন না ।

নারীর গুণাবলি সম্পর্কে মনুসংহিতায় বলা আছে: "নারীর কোনো গুণ নেই, নদী যেমন সমুদ্রের সাথে মিশে লবনাক্ত (সমুদ্রের গুণপ্রাপ্ত) হয়, তেমনই নারী বিয়ের পর স্বামীর গুণযুক্ত হন" (৯:২২)।

এখানেই নারীর স্বাধীনতা বিষয়ে বলা হচ্ছে: “অস্বতন্ত্রাঃ স্ত্রিয়ঃ কার্য্যাঃ পুরুষৈঃ স্বৈর্দ্দিবানিশম্/ বিষয়েষু চ সজ্জন্ত্যঃ সংস্থাপ্যা আত্মনো বশে॥” (৯:২) বাংলা অর্থ - স্ত্রীলোকদের স্বামীসহ প্রভৃতি ব্যক্তিগণ দিনরাত পরাধীন রাখবেন, নিজের বশে রাখবেন।

এর পরবর্তী শ্লোক: “পিতা রক্ষতি কৌমারে ভর্ত্তা রক্ষতি যৌবনে/রক্ষতি স্থবিরে পুত্রা ন স্ত্রী স্বাতন্ত্র্যমর্হতি॥” (৯:৩) বাংলা অর্থ - স্ত্রীলোককে পিতা কুমারী জীবনে, স্বামী যৌবনে ও পুত্র বার্ধক্যে রক্ষা করে; (কখনও) স্ত্রীলোক স্বাধীনতার যোগ্য নয়।

এবার দেখুন মনুসংহিতার আরেকটি বিখ্যাত শ্লোক: "দূষণম্/অতোহর্থান্ন প্রমাদ্যন্তি প্রমদাসু বিপশ্চিতঃ॥” (২:২১৩). বাংলা অর্থ - “নারীর স্বভাবই হলো পুরুষদের দূষিত করা...”!

মনুসংহিতার ঈশ্বরতুল্য মনুর আরেকটা উক্তি উর্লেখ না করে পারছি না: “নৈতা রূপং পরীক্ষনতে নাসাং বয়সি সংস্থিতিঃ/সুরূপং বা বিরূপং বা পুমানিত্যেব ভুঞ্জতে॥" (৯:১৪). বাংলা অর্থ - “যৌবনকালে নারী রূপ বিচার করে না, রূপবান বা কুরূপ পুরুষ মাত্রেই তার সঙ্গে সম্ভোগ করে।”

পুরো মনুসংহিতা পড়লে দেখা যাবে, যখনই নারী নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, তার প্রত্যেকটা জায়গায় নারীকে এভাবে "সম্মানিত" করা হয়েছে। হিন্দু ধর্ম অনুসারে মনু হচ্ছে ঈশ্বর কর্তৃক প্রেরিত প্রথম পুরুষ, যার বংশধন হিসেবে আমরা মানব। মনুর ধর্মই মানব ধর্ম। মনুর মাধ্যমে ঈশ্বর যে বিধান দিয়েছে, সেটারই নাম মনুসংহিতা। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, মনুর এই মতবাদ থেকেই এসেছে মনুবাদ, আর মনুবাদ থেকে এসেছে মানবতাবাদ!

(চলবে)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন