আল্যা সর্বব্যাপী – তিনি বরাহেও আছেন, বিষ্ঠাতেও আছেন # আল্যা সর্বব্যাপী – তিনি বোরখাতেও আছেন, বিকিনিতেও আছেন # আল্যা সর্বব্যাপী – তিনি জলাশয়েও আছেন, মলাশয়েও আছেন # আল্যা সর্বব্যাপী – তিনি উটমূত্রেও আছেন, কামসূত্রেও আছেন # আল্যা সর্বব্যাপী – তিনি আরশেও আছেন, ঢেঁড়শেও আছেন # আল্যা সর্বব্যাপী – তিনি হাশরেও আছেন, বাসরেও আছেন

মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০১৫

উগ্র নাস্তিক বনাম উগ্র আস্তিকদের চিপা অন্বেষী ‘সেলিব্রাটি’ ব্লগারদের জন্য

মওকা পেলেই 'উগ্র আস্তিক' আর 'উগ্র নাস্তিক'-কে এক কাতারে দাঁড় করিয়ে সমান দোষে দোষী প্রমাণ করতে সন্দেহজনভাবে তৎপর হয়ে ওঠে একদল ব্যক্তি, যারা হয় নিরাময়াতীত নির্বোধ, নয়তো সুযোগসন্ধানী সুবিধাবাদী অথবা গ্যাঞ্জামবাদী জ্ঞানপাপী। 

এ বিষয়ে দু'বছর আগে অভিজিৎ রায় রচিত একটি বিশদ রচনার প্রাসঙ্গিক অংশ প্রকাশ করা হচ্ছে।

চারিদিকে মুক্তচিন্তার ব্লগাররা আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রথমে আসিফ মহিউদ্দীন ছুরিকাহত হলেন, থাবা বাবাকে জবাই করা হল, এর পর আক্রান্ত হলেন সামিউর। সাধারণত যাঁরা আক্রান্ত হন, জনসহানুভূতি কিছুটা হলেও তাদের পক্ষে থাকে। কিন্তু সেটা হবে না, যদি আপনি ‘নাস্তিক ব্লগার’ হিসেবে ট্যাগ খেয়ে যান। ধর্মান্ধরা নাস্তিকদের পছন্দ করবে না জানা কথা। কিন্তু মানবতার বাণী কপচানো, সংখ্যালঘুদের জন্য অন্তপ্রাণ, গলা কাঁপিয়ে ‘টক শো’ করা ‘পুলিশ প্রোটেকশন’ নিয়ে চলা সেলিব্রেটি ব্লগাররাও দেখবেন চামের উপ্রে বামে গালি দিয়ে যাবে – ‘ব্যাটা তুই নাস্তিক হইছস ক্যান! ধর্মের বিরুদ্ধে লেখস ক্যান, দোষ তো তোরই। গলায় তুই কোপ খাইবি না তো খাইবো টা কে?’ টিপিকাল ‘women raped, women blamed’ অ্যাটিচুড। বেডি তুই উগ্র পোষাক পরছস ক্যান, হ্যাল হ্যাল কইরা চলছস ক্যান, ছিনালী হাসি হাসছস ক্যান। তুই ঠাপ খাবি না তো খাইবো কে!

ওয়েল, চামে চামে ‘চিপায় পড়া আর চিপা খোঁজা’ এইসব সনাতন মানসিকতার লোকজন নাকি নতুন প্রজন্মের সৈনিক, দেশকে নতুন দিশা দেখাবে। দিশার ঠেলায় দিশাহারা অবস্থা আমাগো। ধর্ষিতা নারীদের মতোই। একবার ফিজিকালি ধর্ষিতা হয়, তারপর যখন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আঙ্গুল তুলে বলে – ‘ঐ পোশাক পইরা গেছিল বইলাই না হইছে’। এইভাবে দ্বিতীয়বার হয় আরেকদফা ধর্ষণ। নাস্তিকেরাও তাই। গলায় খায় কোপ একবার। তারপর আসে আরো বড় কোপ – ১৫০০ লাইক আর ছয়শ শেয়ার হওয়া ‘চিপা খোঁজা’ সেলিব্রিটি ব্লগারদের স্ট্যাটাসের কোপ।

উগ্র নাস্তিক বনাম উগ্র আস্তিকদের চিপা: উগ্রতার দাঁড়িপাল্লা কি সমান?

পুরানা কথা বার বার বলতে ভাল লাগে না, তাও বলতে হয়। ‘উগ্র ধার্মিক’ আর ‘উগ্র নাস্তিক’ দুইটাই নাকি খুব খ্রাপ, দুইটাই একাত্তরের বিরোধী। এর চেয়ে বড় ফাউল কথা, এর চেয়ে বড় মিথ্যার বেসাতি আর কী হতে পারে? ইদানীং দেখছি ‘উগ্র’ শব্দটা পজিটিভ নেগেটিভ সব কিছুর সাথেই ট্যাগ করে কাঠালের আমসত্ত্ব কিংবা হাঁসজারুমার্কা বাক্য তৈরি করছেন দিশা দেখানো সেলিব্রিটি ব্লগারেরা । ইদানীং এটা একটা খুব ভাল চল হয়েছে বটে। কিন্তু একটু চোখ খোলা রাখলেই দেখা যায়, এই ধরণের বক্তব্য কত অসার। যারা এগুলো বলেন, তাদেরকেই যদি উল্টে বলা হয় - ‘উগ্র আওয়ামি লীগ আর উগ্র বিএনপি দুইটাই খারাপ, একাত্তর বিরোধী' কিংবা ‘উগ্র মুক্তিযোদ্ধা আর উগ্র রাজাকার দুইটাই খারাপ' - তখন কিন্তু এই মাইনকার চিপা খোঁজা ‘মিডেল ম্যান’রাই হাঁ রে রে করে উঠবেন। নিপুন পলিটিশিয়ানদের মতো তাদের প্রক্ষিপ্ত বাক্যাবলীতে চটক থাকলেও সেটা বোধশক্তির বিচারে অর্থহীন। কেউ যদি বলে ‘উগ্র সেক্যুলার আর উগ্র মৌলবাদী দুইটাই খারাপ’ - এটার কি কোন অর্থ হয়? কোনো অর্থ হবে যদি কেউ বলে ‘উগ্র বিজ্ঞানমনস্ক আর উগ্র কুসংস্কারাচ্ছন্ন - দুইটাই বাজে, দুটোই একাত্তরবিরোধী?’ না হয় না। ওয়ান সাইড ক্যান বি রং, ডেড রং। ‘বিবর্তন বনাম সৃষ্টিবাদী রূপকথা’ কিংবা ‘বিজ্ঞান বনাম সংস্কার’ ‘একাত্তরের চেতনা বনাম রাজাকারী’ - এগুলোর মাঝে একটা স্ট্যান্ড নিতেই হয়। দুই নৌকায় পা রেখে মডারেট সাজার কোনো অর্থ নেই। ‘হাফ প্রেগ্নেন্সি’ কিংবা ‘মডারেট প্রেগ্নেন্সি’ যেমন হয় না ; কোনো নারী হয় ‘প্রেগনেন্ট’, নতুবা ‘প্রেগনেন্ট নয়’ - এইটাই বাস্তবতা। মাঝে মধ্যে বাস্তবতাটা বোঝা জরুরি। কাজেই ‘উগ্র ধর্মান্ধ আর উগ্র ধর্মবিদ্বেষীর চিপায় বিরক্তিকর অনলাইন জীবন’ এর আহাজারি করবেন না; এটা আমাদের কাছে ‘উগ্র মুক্তিযোদ্ধা আর উগ্র রাজাকারের চিপায় আপনার বিরক্তিকর অনলাইন জীবন’ এর মতো হ্যাস্যকর শোনাচ্ছে।

আর নাস্তিকদের উগ্রতাই বা কতটুকু? ‘ধর্মবিশ্বাসে’ আঘাতের কথা যেটা বলা হয়, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা কেবল লেখালেখির মাধ্যমে সমালোচনা কিংবা বড়জোর ঠাট্টা-তামাশা-ব্যঙ্গ-বিদ্রূপেই সীমাবদ্ধ (যে ধরনের সমালোচনা, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ, ঠাট্টা-তামাসা রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, ক্রীড়াসহ সকল শাখাতেই দেখা যায়); ধার্মিকদের ভঙ্গুর অনুভূতি সামান্যতেই আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ধর্মযুদ্ধের নামে বিধর্মীদের ওপর কী ধরনের অত্যাচার করা হয়েছিলো, তা বললে তাদের ধর্মানুভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হয়, পয়গম্বর-নবী-রসুল আর ধর্মের দেবদূতদের অমানবিক কার্যকলাপ তুলে ধরলে ধর্মানুভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হয়, নারীদের অন্তরীণ করে তাদের অধিকার হরণ করা হয়, তা বললে আঘাতপ্রাপ্ত হয়, কৃষ্ণের লীলাখেলার কথা বললে আঘাতপ্রাপ্ত হয়, ধর্মগ্রন্থগুলোতে বর্ণিত অবৈজ্ঞানিক আয়াত বা শ্লোক তুলে ধরলেও তাঁরা আহত হন। আর ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করা হলে তো কথাই নেই; ঈশ্বর যে ‘খুঁটি ছাড়া আকাশকে ছাদ স্বরূপ ধরে রাখেন’, তা যেন চৌচির হয়ে তাদের মাথায় তৎক্ষণাৎ ভেঙে পড়ে। ধর্ম সব সময়ই কৌতুকের বড় উৎস হলেও ব্যঙ্গ এবং কৌতুকবোধের ব্যাপারটা ধার্মিকদের সাথে সবসময়ই কেন যেন রেসিপ্রোকাল। অথচ, সাহিত্য, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, চলচ্চিত্র, খেলাধুলা বা অন্যান্য যাবতীয় বিষয়কে সমালোচনা, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করতে তাদের বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই। কেবল ধর্মের বেলাতেই গণেশ উল্টে যায় বরাবরই।


বড় মজা না? ধার্মিক, মডারেট ধার্মিক, বক ধার্মিকেরা সব করতে পারবেন, কিন্তু নিজের বিশ্বাসের বেলায় ‘ধর্মবিশ্বাসে আঘাত দেয়ার পক্ষে আমি নই।’ কী চমৎকার হিপোক্রিসি। অন্যের বিশ্বাস কিংবা ধারণার সমালোচনা করতে তো ধার্মিকদের কোনো সমস্যা দেখি না। ডারউইনের সাথে বাঁদরের ছবি যোগ করে ‘বিবর্তনকে ভুল প্রমাণ’ থেকে শুরু করে নাস্তিকদের গায়ের জোরে ‘ছাগু’ প্রমাণ করা, বজ্জাত, মিথ্যেবাদী, চরিত্রহীন প্রমাণ করা, চড়া সুরে মাইক বাজিয়ে আজান দিয়ে পাবলিক নুইসেন্স তৈরি করে প্রার্থনার জন্য ডাকা, নামাজে ইমামদের খুতবা পড়ে পড়ে ইহুদি-নাসারা বিধর্মীদের প্রতি উস্কানো - এমন কিছু নেই তো নেই যা তথাকথিত ‘ধর্মবিশ্বাসীরা’ করছেন না। তাতেও যখন কুলায় না, ‘কাফির অবিশ্বাসীদের গর্দানে আঘাত করার’, ‘যেখানেই পাওয়া যাক, হত্যা করার’ আয়াত আউড়িয়ে কোপানো পর্যন্ত জায়েজ হয়ে যায়। গলায় কোপ খাওয়া রক্তাক্ত নাস্তিকদের রক্তমাখা ছিদ্রান্বেষণ করে তার মধ্যে নিজের পাজামার গিঁট খুলে ধর্মোত্থিত শিশ্ন প্রবেশ করার প্রচেষ্টাও হয়ে যায় কত মহান।


নাস্তিকেরা ধর্মবিদ্বেষী, খুব সমস্যা?

সেলিব্রেটি ব্লগার বলেছেন, ‘আমাদের দেশের নব্য অনলাইন নাস্তিকদের অধিকাংশই আসলে নাস্তিক না, তাদের অধিকাংশই আসলে ধর্মবিদ্বেষী।’ হ্যা, নাস্তিকরা যেহেতু ধর্মে বিশ্বাস করেন না, ধর্মের সমালোচনা করবেন তারা, সেটাই স্বাভাবিক নয়? ধর্মের সমালোচনাটাকে কুৎসিৎ রূপ দেওয়ার জন্য ‘ধর্মবিদ্বেষী’ বলে ট্যাগ করেছেন। তো সে হিসেবে তো সেই সেলিব্রিটি ব্লগার আর তাঁর অনুসারীরাও রাজাকার বিদ্বেষী, গোলাম আযম বিদ্বেষী, ফরহাদ মজহার বিদ্বেষী, হিযবুত তাহরীর বিদ্বেষী। তাঁরা সেগুলোর সামালোচনা করেন। খুব প্যাশনেটলিই করেন। তাদের ‘ছাগু’ হিসেবে ট্যাগ করেন। কারণ তাঁরা জানেন জামাত-শিবিরের আদর্শ মিথ্যার ওপর, বর্বরতার উপর প্রতিষ্ঠিত। তা তাঁরা যে কাজটা স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে করেন, সেটার লিমিট নাস্তিকদের ওপর বেঁধে দিচ্ছেন কেন? নাস্তিকেরা যদি মনে করে, ধর্ম জিনিসটা পুরোটাই মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত, ধর্মপ্রচারকেরাই সবচেয়ে বর্বর কাজগুলোর উদাহরণ হাজির করেছেন - বেদ পাঠের জন্য শম্বুকের শিরোচ্ছেদ করেছেন, শূদ্রদের পাছায় গরম শলাকা দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়ার বিধান দিয়েছেন, গোপবালাদের সাথে লীলা খেলা করেছেন, নারীকে শস্যক্ষেত্রের সাথে তুলনা করেছেন, যুদ্ধের ময়দানে গিয়ে যুদ্ধবন্দিনী এবং দাসীদের সাথে সহবাসের বিধান দিয়েছেন – সেগুলোর উল্লেখ এবং সমালোচনা করা যাবে না কেন? তবে কি তারা চান, আমরা সবাই চোখ বুঁজে থাকি, আর আজন্ম লালিত কুসংস্কারে কেবল আস্থাশীল থাকি? কুসংস্কারের কাছে আত্মসমর্পণ তো নিজের সাথে প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়। ধর্মগুলোর মধ্যে বিরাজমান নিষ্ঠুরতার কথা কি তাঁর অজানা? প্রতিটি ধর্মগ্রন্থের বিভিন্ন আয়াত এবং শ্লোকে বিধর্মীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করা হয়েছে ঢালাওভাবে, কখনো দেয়া হয়েছে হত্যার নির্দেশ। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ধর্ম আসলে জিহাদ, দাসত্ব, জাতিভেদ, সাম্প্রদায়িকতা, হোমোফোবিয়া, অসহিষ্ণুতা, সংখ্যালঘু নির্যাতন, নারী নির্যাতন এবং সমঅধিকার হরণের মূল চাবিকাঠি হিসেবে প্রতিটি যুগেই ব্যবহৃত হয়েছে। সেগুলোর আলোচনা-সমালোচনা করলে যদি ‘বিদ্বেষী’ ট্যাগ পেতে হয়, তবে আমরা বিদ্বেষীই বটে, ঠিক যেমন অনেকেই হিটলারবিদ্বেষী, উনারা গোলাম আজম বিদ্বেষী, কাদের মোল্লা বিদ্বেষী; সভ্য মননশীল বহু মানুষ যেমন ফ্যানাটিসিজম, রেসিজম, সেক্সিজম, বার্বারিজম বিদ্বেষী, ঠিক তেমনি অনেক নাস্তিক থাকবে যারা ধর্মবিদ্বেষী । টেক ইট।

কোরান কুইজ – ৬৬

নিশ্চয়ই মোমিন মুসলমানগণ কোরান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। বেয়াড়া নাস্তিকগনও নিজেদেরকে কোরান-অজ্ঞ বলেন না কখনও। তাই মুসলিম-নাস্তিক নির্বিশেষে সকলেই অংশ নিতে পারেন কোরানের আয়াতভিত্তিক এই ধাঁধা প্রতিযোগিতায়। এই সিরিজের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের কোরান-জ্ঞান যাচাই করে নিতে পারবেন। 

প্রশ্ন ৭৬: শয়তান কাকে কুমন্ত্রণা দিয়েছিল?

১. শুধু আদমকে
২. আদম-হাওয়া উভয়কেই

উত্তর বেছে নিয়েছেন? এবারে মিলিয়ে দেখুন।
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.

উত্তর ৭৬: 

দুটো উত্তরই সঠিক।
১. শুধু আদমকে (সুরা ২০:১২০)
২. আদম-হাওয়া উভয়কেই (সুরা ৭:২০)

পরম বিনোদনের ব্যাপার এই যে, একজন খাছ মুছলিম কোরানের অজস্র পরস্পরবিরোধী বাণী ও অগণ্য ভুল নিজে চোখে দেখলে বা অনুধাবন করলেও অবলীলায় দাবি করে - এই কিতাবখানাই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ, যা সম্পূর্ণরূপে নিখুঁত, যাতে কোনও অসামঞ্জস্য নেই। এই জাতীয় চোখ-থাকিতেও-অন্ধ মানুষদের সম্পর্কে রিচার্ড ডকিন্স বলেছিলেন: a disgrace to the human species.

* কোরানের ছয়টি ভিন্ন অনুবাদ একসঙ্গে পাওয়া যাবে এখানে

** কৃতজ্ঞতা: আবুল কাশেম

প্রেমের রংধনু ও নির্বর্ণ ধর্মগুলো




সোমবার, ২৯ জুন, ২০১৫

নিত্য নবীরে স্মরি – ১৯৪

"আমি বিজয়ী হয়েছি সন্ত্রাসের মাধ্যমে" - ইছলামের নবী (বুখারি, বই ৫২, হাদিস ২২০)


রমজান ও অসভ্য আচার

লিখেছেন সেক্যুলার ফ্রাইডে

পবিত্রতা শব্দটি পূত, পূণ্য, অপাপবিদ্ধ, বিশুদ্ধ, কলুষমুক্ত ইত্যাদি অভিধার সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি অবাস্তব অনুভূতি; কোনো বাস্তবিকতা থেকে এটি অনুভূত নয়। এর সাথে জড়িত পরিচ্ছন্নতা বা শুচিকরণের আচারটি পবিত্রতার একটি অনুষঙ্গ মাত্র।

মরু ঝড়ে উটপাখির মত মাথা গোঁজা নির্লিপ্ততায় মুমিন মুসলমানেরা নির্দ্বিধায় ঘোষণা করে, রমজান হচ্ছে পবিত্র একটি মাস, আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস, এবং রাতদিন নিয়ত রহমত বর্ষণের মাস। এমনকি তিরমিযি শরীফে ইসলামের নবীকে উদ্ধৃত করে বলা আছে, রমজান মাসের প্রথম রাত উপনীত হলেই আল্লাহ শয়তান ও দুষ্ট জ্বিনগুলোকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন। জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেন এবং জান্নাতের দরজা খুলে দেন।

অথচ মুসলিম-প্রধান সমাজে আমরা দেখি এই মাসটিকে সবচাইতে অকার্যকর একটি মাসে পরিণত হতে; সরকারী উদ্যোগে এ মাসে শ্রমঘন্টা কমে আসে, অভুক্ত থাকার কারনে কর্মদক্ষতা কমে আসে, এবং রমজানের অপরিমিত খরচ মেটাতে বাড়ে অনৈতিকতা, ঘুষ ও দুর্নীতি।

না খেয়ে থাকার অস্বাভাবিক এই জীবনাচারের সমর্থনে বুখারী শরীফে এমনটাও বলা আছে, রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশকে আম্বরের সুগন্ধের চেয়েও অনেক উৎকৃষ্ট। দাঁত না মাজার এই অসভ্যতাটি কেন পরিচ্ছন্নতা বা শুচিকরণের আচার বলে বিবেচিত, সেটা সুস্থ মস্তিস্কে বোঝাটা অসম্ভব।

রমজানের এই মাসটির অপর এক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর গোঁয়ার্তুমিভাব; আমি না খেয়ে আছি, কাজেই তুমিও খেতে পারবে না। এই মনোভাব কোন অর্থে সংযম সহায়ক, সেটা বোঝা ভার। হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোকে বোরখা পরিয়ে, দরিদ্র শ্রমজীবীদের প্রাত্যহিক ব্যয়ভার বাড়িয়ে, আল্লাহ নামের প্রাণীটির ঠিক কোন উদ্দেশ্য সাধন হয়, সেটা বোঝা এক বেয়াড়া রকমের দুঃসাধ্য কাজ। তবে লক্ষ্যণীয় যে, পাঁচতারা হোটেল, যেখানে ধনাঢ্যদের নিত্য যাতায়াত, সেখানে সুস্বাদু খাবার, পানীয় ও সূরার কোনো কমতি নেই।

রমজানের সাথে জড়িয়ে আছে মরু সংস্কৃতি ও মরু সভ্যতার আরও অনেক আবোলতাবোল পৌরানিক গল্পগাথা। ঐশী গ্রন্থগুলো নাকি এ মাসেই নাজেল হয়েছে, সে গ্রন্থ পাঠে নাকি মানুষ অন্তর্ভুক্ত হবে অতি সম্মানিত ফেরেশতাদের মাঝে; আবার হায়, আবার সে গ্রন্থেই চরম স্ববিরোধীতায় বলা হয়েছে, মানুষই উন্নততর প্রাণী।

রমজানের এই মাসটিতে বাংলাদেশের ফেসবুকারদের কল্যাণে সেটি যেন পরিণত হয়েছে আল জামায়াতে আল ফেসবুকিয়াতে; ভাব, ভাষা, মনন, আচরণ সকল ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত মুসলমান বাঙালী নির্লজ্জভাবে প্রদর্শন করে চলছে তীব্র সাম্প্রদায়িক মনোভাব; সর্বোপরি, সিয়াম পালনের ছদ্মবেশে থেমে নেই ধর্ষণ, থেমে নেই নারীনির্যাতন, সংখ্যালঘু নিগ্রহণ, থেমে নেই অসৎ উপার্জন ও শ্রম শোষণ।

এ কেমন সংযম, যা মানবীয় চিন্তাকে উন্নততর না করে আরও লোভী, আরও অসংযমী, অধিকতর অমানুষে পরিণত করে?

বেদ্বীনবাণী - ৪২

বাণীটি শুধু পুরুষদের জন্য প্রযোজ্য


রবিবার, ২৮ জুন, ২০১৫

ইছলামী ইতরামি

১.
রমজান মাসে আল্যা শয়তানকে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখে বলে এই মাসে সংঘটিত সমস্ত অপকর্মের দায় নিশ্চয়ই আল্যাফাকের। পবিত্র রমজানের এক শুক্রবারেই মুছলিমদের হাতে নিহত হয়েছে কমপক্ষে ২৫০ জন! আর রমজান মাসের প্রথম ১০ দিনে মুছলিমরা হত্যা করেছে মাত্র ৯৩৩ জনকে - গড়ে দিনে প্রায় ১০০ জন। এই সময়ে অন্য কোনও ধর্মের নামে একটি হত্যাকাণ্ডও সংঘটিত হয়নি।

২.
সমুদ্রসৈকতে হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ৩৬ জনকে হত্যা করেছে ইছলামী জঙ্গিরা। ঘটনা তিউনিসিয়ায়।

৩.
কোরানে আছে সন্ত্রাসের বীজ, আর সন্ত্রাসের চাষ হয় মসজিদে। মুছলিম দেশ তিউনিসিয়ার সরকারও সেটা উপলব্ধি করেছে - সে দেশের ৮০টি মসজিদ বন্ধ করে দেয়া হবে। 

৪. 
আইসিস আয়োজিত কোরান মুখস্থ করার প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা পুরস্কার হিসেবে পাবে শিশু-যৌনদাসীদের, যাদের সর্বনিম্ন বয়স নয়। যৌনদাসী ভোগ ইছলামে সম্পূর্ণ হালাল ও নবীজির সুন্নত।

৫.
ইছলামে জোরজরদস্তির স্থান নেই। রোজা ভাঙার কারণে তাই দুই কিশোরের ফাঁসি দিয়েছে আইসিস।

৬.

৭.
মানবহত্যাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া বৈচিত্র্যপিয়াসী আইসিস এবারে ৫ জনকে খাঁচায় পুরে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেছে।

৮.

৯. 
মুছলিম ভ্রাতৃত্বের আরেকটি নিদর্শন: কুয়েতে জুম্মার দিনে শিয়া মসজিদে বোমা হামলায় ২৭ জন নিহত। বিশ্বব্যাপী ইছলামী সন্ত্রাবাদের পেছনে সক্রিয় অর্থদাতা দেশগুলোতেই এবার শুরু হয়েছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।

১০.
মুছলিমদের কেউ কেউ সক্রিয় জঙ্গি, কেউ সহায়তাকারী, আর বাদবাকিদের অধিকাংশই প্রত্যক্ষ সমর্থন শোভন নয় বলে নীরব সমর্থক। জঙ্গি দলকে রাসায়নিক সরবরাহের অভিযোগে চারজন দেশী ছহীহ মুছলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

১১.
ইহুদি-নাছারাদের দেশে গিয়ে ইছলামী পোশাক পরার অধিকারের দাবিতে গলা ফাটানো মুছলিমরা তাদের দেশে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নির্দেশ দেয় ছহীহসম্মত পোশাক পরিধানের। ঘটনা মালয়েশিয়ায়।

১২.
যেহেতু মুছলিম-মুছলিম ভাই-ভাই, তাই মুসলিম জঙ্গি মুছলিম জঙ্গিও ভাই-ভাই হবার কথা! অথচ আইসিস-এর জঙ্গিরা আল-কায়েদার ১২ জঙ্গির শিরশ্ছেদ করলো। গঠনা কী?

১৩.
মুছলিমের সন্তান অমুছলিম হলে তার কল্লা নামিয়ে দেয়া পিতার ঈমানী দায়িত্ব। তেমন ইচ্ছাই পোষণ করেছে এক মুছলিম পিতা।

১৪.
৯ বছর বয়সের মেয়েকে শয্যাসঙ্গী বানানো নবীজির সুন্নত। আইসিস নবীজির পদাঙ্কই অনুসরণ করছে।

১৫.
আমেরিকার প্রথম স্বঘোষিত সমকামী ইমামের কাহিনী আল জাজিরার রিপোর্টে।

১৬.
অপহৃত দুই বালিকাকে আত্মঘাতী বোমারু হিসেবে ব্যবহার করে ইছলামী জঙ্গি দল বোকো হারাম হত্যা করেছে ৩০ জনকে

১৭.
জঙ্গিরাও সাধারণ মুছলিম। ফরাসী জিহাদীর স্ত্রী বলেছে, "আমরা সাধারণ মুছলিম। আমরা রমজান পালন করি।"

১৮.
শিশু-কিশোরদের জঙ্গি হিসেবে গড়ে তুলতে কী অমানবিক প্রক্রিয়ায় প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আইসিস, তার সচিত্র রিপোর্ট।

১৯.
গনিমতের হালাল মালকে ইছলামসম্মত বিধি মেনে ধর্ষণ করে আইসিস-এর মুছলিম জঙ্গিরা এইডস-আক্রান্ত হয়েছে! আল্যার এ কী অবিচার!

২০.
ইছলামত্যাগী এক নারীকে বিষ খাইয়েছে তার শ্বশুরপক্ষের লোকজন।

২১.
ইহুদি-নাছারাদের দেশে বাস করা হালাল, সেখানকার কুফরী বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়াও হালাল, তাদের দেয়া সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা হালাল, কিন্তু চিকিৎসার সময় তাদের দান করা অঙ্গ ব্যবহার করা হারাম! হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাই মুছলিমদের আহ্বান জানিয়েছে অঙ্গদান করার। এর আগে এক মুছলিমকে নিঃস্বার্থভাবে অঙ্গদান করেছিলেন এক হিন্দু মহিলা। কিন্তু পরে তাঁকে সেই মুছলিমের গালিগালাজ কটুকাটব্য হজম করতে হয়েছিল। ইহাকে বলে ইছলামী কৃতজ্ঞতা।

কোরান অপেক্ষা বেকন উত্তম

পাঠিয়েছেন ছাগলনাইয়ার বনলতা সেন

অথচ

অস্ট্রেলীয় কমেডিয়ান Jim Jefferies বলেছিলেন:

নিচের ভিডিওর ১.০৫ টাইম মার্কে তিনি এই কথাগুলো বলেন:
I don't think I could be a Muslim, because they can't eat bacon and or drink beer. And they are like the two greatest fucking things in the world. You take bacon and beer away from me, and I'll fly a plane into a fucking building.

ভিডিও লিংক: https://youtu.be/kXaSpH6hDxk

অনুসিদ্ধান্ত:

পবিত্র রমজান এবং ভবঘুরের প্রশ্নবাণ

লিখেছেন ভবঘুরে বিদ্রোহী

রোযা বা রোজা (ফার্সি روزہ রুজ়ে), সাউম (আরবি صوم স্বাউম্‌), বা সিয়াম ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল ভিত্তির তৃতীয়। সুবেহ সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকে বিরত থাকার নামই রোযা বা সাওম। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের শান্তিবাদী ইসলাম ধর্মমতে - মাহে রমজান বা হিজরী রামাদান চান্দ্রমাস চলছে, ইসলামী মতে পূর্ণবয়স্ক সুস্থ-সবল ধনী-দরিদ্র সকল নর-নারীর ওপর নামাজের মতো রোজাও (فرض ফ়ার্দ্ব্‌) অবশ্যপালনীয় ফরজ। সুর্যোদয়ের আগ থেকে সুর্যাস্তের পর পর্যন্ত সারাদিন অভুক্ত থেকে সংযম পালন করতে হয়, আকাশে সুর্য থাকা অবস্থায় খাদ্য, পানীয়, ধুম্র গ্রহণ বা গলধঃকরন সম্পূর্ণ নিষেধ।

রমজান হলো কুরআন নাজিলের মাস, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন: “রমজান মাস, এতে নাজিল হয়েছে আল-কুরআন, যা মানুষের দিশারি এবং স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী।” (সূরা বাকারা : ১৮৫) রমজান মাসে সপ্তম আকাশের লওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আকাশে বায়তুল ইজ্জতে পবিত্র আল-কুরআন একবারে নাজিল হয়েছে। সেখান হতে আবার রমজান মাসে অল্প অল্প করে নবী করিম (সাঃ)-এর প্রতি নাজিল হতে শুরু করে, জগতের সকল জ্ঞানের একমাত্র আধার কুরান মজিদ নাজিল হওয়ার মধ্য দিয়েই মোহাম্মদকে সর্বজ্ঞানী, আল্লার প্রেরিত মহানবী ও রাসুল হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। এ মাসে মানুষের হেদায়াত ও আলোকবর্তিকা যেমন নাজিল হয়েছে, তেমনি আল্লাহর রহমত হিসেবে এসেছে সিয়াম। এই মহীমান্বিত মাসে শয়তান বন্দী থাকে বলে কাউকে প্ররোচিত করতে পারে না, কেউ কোনো অপরাধ করলে নিজ থেকেই করে, তাই এ মাসে সকল প্রকার পাপকার্য থেকে পানাহারের মতোই নিজ থেকেই সকলে বিরত থাকে।

রোজাদারের অভুক্ত মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট কস্তুরী অপেক্ষাও অধিক প্রিয়, এমনকি রোজাদারের পুরস্কার আল্লাহ নিজ হাতে দেবেন বলেও কোরানে অঙ্গীকারাবদ্ধ, নিশ্চয় আল্লাহ ভঙ্গ করে না অঙ্গীকার। ইসলামই আল্লাহর একমাত্র মনোনীত ধর্ম, যা পৃথিবীর সকল কওমের সকল মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য এবং অবশ্যপালনীয়, আল্লাহ সকলের জন্য সমান করুণাময়, দয়াশীল, সর্বদ্রষ্টা, সর্বজ্ঞ, সর্বগ, সর্বশক্তিমান, সর্বোৎকৃষ্ট বিচারকর্তা এবং সুমহান। আল্লাহু আকবার।

এমন ফযিলতের মাস, রহমতের মাসের মাহাত্ম্য শুনতে শুনতে এতোটাই ভালো লাগে যে, তার গুরুত্ত্ব আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সকলের কাছেই প্রাধান্য থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। তাই তারা প্রমাণ অসাধ্য রোযা নিজেরা রাখুক বা না রাখুক, অন্যকে পালন করাতে যথাতৎপর, এমনকি কিছুক্ষেত্রে বিধর্মী, অধার্মিক, শিশু-বৃদ্ধ কিংবা রোগীর কথাও চিন্তা না করে পাড়ার খাবার দোকান বা হোটেল-রেস্তোরা জোর করেই বন্ধ করে দেয়, যদিও তারা পাড়া ছেড়ে পাঁচতারা মার্কা হোটেলের ধারে-কাছেও ঘেঁষতে পারে না। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই রোজা কি পৃথিবীর সকল সুস্থ-সবল পূর্ণবয়স্ক সকল মানুষের জন্য আসলেই সমানভাবে প্রযোজ্য বা পালনীয় হওয়া সম্ভব? গোলাকার পৃথিবীর সর্বত্র দিবা-রাত্র কি আদৌ সমান? তাহলে....

আইসল্যান্ডে এবার সেহরি খেতে হচ্ছে রাত দু’টোয় আর ইফতার হয় পরের দিন রাত ১২ টায় ৷ সেহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত ২২ ঘণ্টার ব্যবধান। আর সবচেয়ে অল্প সময়ের রোজা হচ্ছে চিলিতে। সেখানে বৃহস্পতিবার রোজার সময় ছিল মাত্র ৯ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট। বাংলাদেশে প্রথম রোজার সময় ছিল ১৫ ঘণ্টা ০৪ মিনিট। আইসল্যান্ডে মাত্র ৭৭০ জন মুসলমানের বাস। তবে এই ৭৭০ জনের মধ্যে যাঁরা পবিত্র রমজান মাসে সিয়াম সাধনা করেন, তাঁরা এক দিক থেকে বিশ্বের আর সমস্ত ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে ছাড়িয়ে যান। তেমনি আরও কিছু দীর্ঘ রোজার দেশের হালচিত্র নিম্নে দেয়া হলো। যেমন:

সুইডেন – ২০ ঘণ্টা: খুব গরমের মধ্যে রোজা হলে সুইডেনের মুসলমানদেরও কষ্টের সীমা থাকে না। দেশটির ৫ লাখ মুসলমানের মধ্যে যাঁরা রোজা রাখেন, তাঁদের ইফতারের মাত্র চার ঘণ্টা পরই সেহরি খেতে হয়। উল্টো দিক থেকে ভাবলে কষ্টটা বুঝতে পারবেন। সুইডেনের মুসলমানদের অনেক দিন সেহরির ২০ ঘণ্টা পর ইফতার খেতে হয়৷

আলাস্কা – ১৯ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট: যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় ৩ হাজার মুসলমান। গ্রীষ্মকালে ভীষণ গরম থাকে সেখানে। তার ওপর কোনো কোনোদিন সূর্যোদয়ের ১৯ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পর সূর্য ডোবে। এত লম্বা সময় ধরে রোজা রাখা তাই অনেকের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না৷

জার্মানি – ১৯ ঘণ্টা: রমজান মাসের সময় দিন খুব বড় হলে জার্মানির মুসলমানদেরও রোজা রাখতে ভীষণ কষ্ট হয়। এ বছর জার্মানিতে সব ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে সেহরি খেতে হচ্ছে রাত সাড়ে তিনটায় আর ইফতার রাত দশটায়।

কানাডা – ১৭ দশমিক ৭ ঘণ্টা: এখন প্রায় ১০ লক্ষ মুসলমান আছে কানাডায়। সবচেয়ে বেশি মুসলমানের বাস টরন্টোতে। এবার কোনো কোনো দিন সেহরির প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর ইফতারি খেতে হবে তাঁদের।

তুরস্ক – সাড়ে ১৭ ঘণ্টা: মুসলিমপ্রধান দেশ তুরস্কেও গরমকালে রোজা রাখতে হয় খুব কষ্ট করে। এবার সেহরির প্রায় সাড়ে ১৭ ঘণ্টা পর ইফতার করতে হচ্ছে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের।

ইংল্যান্ড – ১৮ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট: ইংল্যান্ডে সেহরি থেকে ইফতারের সময়ের পার্থক্য প্রায় ২০ ঘণ্টা। রমজান শুরুর আগেই তাই 'মুসলিম কাউন্সিল অফ ব্রিটেন' নামের একটি সংগঠন এত দীর্ঘ সময়ের রোজা রাখার আগে ভেবে দেখতে বলেছে। সংগঠনটির আশঙ্কা, এতো লম্বা সময় রোজা রাখলে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। বিশেষ করে ডায়বেটিসে আক্রান্তদের প্রাণহানির শঙ্কাও দেখা দিতে পারে। ব্রিটেনে এখন প্রায় ২৭ লক্ষ মুসলমান আছে। এর মধ্যে ৩ লক্ষ ২৫ হাজারই ডায়বেটিসে আক্রান্ত।

যাদের ডায়াবেটিসের সমস্যা আছে, তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা, ওষুধ, খাদ্য ব্যবস্থার এবং জীবনযাপনের কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে রক্ষা করতে হয়। তবে রোজার সময় ১৬-১৭ ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে হয়। এখানে চার রকমের সমস্যা হতে পারে। যার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই, তার রক্তের শর্করা বেড়ে যেতে পারে। অথবা কারো কারো ক্ষেত্রে ইফতারের আগে বিশেষ করে আসরের পরে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা রক্তের শর্করার স্বল্পতার কারণে তারা অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। শরীরে পানির ধারণক্ষমতা কমে যাবে। কারণ রোজার সময়তো পানিও খেতে পারছে না। এতে স্বাস্থ্য হুমকিতে পড়বে। অথবা আরো মারাত্মক হলো রক্তে শর্করার সাথে সাথে লবণ এবং অন্যান্য জিনিসের পরিবর্তন হয়ে ডায়াবেটিক কেটোয়েসিডোসিস -এর মতো মারাত্মক ধরনের সমস্যা আক্রান্ত হতে পারে।

না, মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের সময়োচিত দাবিতে ইংল্যান্ডের মুলধারার মুসলিমেরা সাড়া দেয়নি। বরং তারা প্রতিবাদে জানিয়েছে আকাশে সুর্য থাকা অবস্থায় কোনোভাবেই পানাহার করা যাবে, সেটা হবে কোরানের স্পষ্ট লঙ্ঘন। রোযা ফার্সি শব্দ, যার অর্থ দিন, সুতরাং অনাহারে একদিন পূর্ণ করতেই হবে, ইসলাম ভিন্ন কোনো ফিরকার সাথে আপোস করে না।

এবার আসি গোলাকার পৃথিবীর আরেক অঞ্চলের আলোচনায়, এই যেমন নিশীথ সূর্যের দেশ হিসেবে খ্যাত বা পৃথিবীর উত্তর মেরুর যেসব দেশে গ্রীষ্মকালে কখনোই সূর্য ডোবে না, সেখানকার মুসলমানরা কীভাবে রোজা রাখেন? রমজান মাস যেহেতু চন্দ্রপঞ্জিকার ওপর নির্ভর করে চলে, তাই কয়েক বছর পরপরই ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে রোজা শুরু হয়। এ বছরের মতো বিদায়ী গ্রীষ্মে সর্বশেষ রোজা শুরু হয়েছিল প্রায় পয়ঁত্রিশ বছর আগে আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে। তবে সে সময় এমন প্রশ্নের সম্মুখিন কাউকে হতে হয়নি, কারণ ওই সময় উত্তর মেরুর দেশগুলোতে মুসলমানদের খুব একটা বসবাস ছিল না। নব্বই দশকের শুরু থেকেই সোমালিয়া, ইরাক, পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম সুইডেন, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের মতো উত্তর মেরুর দেশগুলোতে অভিবাসী হতে থাকে। এ দেশগুলোর কিছু অঞ্চলে বছরের প্রায় ছয় মাস কখনোই সূর্য অস্ত যায় না। এর ফলে দেশগুলোতে বর্তমানে অবস্থানরত মুসলিমদের রোজা পালন নিয়ে একটি নির্মম বাস্তবতা ও নৈতিক সঙ্কটের মুখোমুখি দাঁড় করায়। ওখানকার মুসলমানরা তাহলে কীভাবে রোজা রাখছেন?

সম্প্রতি এমনই কিছু সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ইন্দোনেশিয়ার এক সাংবাদিক নরওয়ের সর্ব উত্তরের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ট্রোমসো যান। ওখানকার মুসলমানদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে তিনি জানতে পারেন, কীভাবে তাঁরা মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিল রেখে সিয়াম সাধনা করছেন।

ট্রোমসো শহরটি ভৌগলিকভাবে আর্কটিক সার্কেল বা সুমেরু বৃত্তের প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। শহরের চারদিক বরাফাবৃত পর্বতমালা ও সমুদ্রের খাঁড়ি দিয়ে ঘেরা। প্রতি বছর মে মাসের শেষদিক থেকে শুরু করে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত শহরটির বাসিন্দারা ‘মিডনাইট সান’ বা ‘মধ্যরাতে সুর্য’ দেখার এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। সময়ের হিসেব কষে ঠিক এ বছরই ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ট্রোমসোর মুসলিম সম্প্রদায় পুরো রমজানে রাতের দেখা পাবেন না। তাহলে কীভাবে তারা রোজা রাখছেন? ১৯৮৬ সালেও এই একই সময়ে রোজা এসেছিল। কিন্তু সে সময়ে ট্রোমসো শহরে কোনো মুসলিমের বসবাস ছিল না বলে প্রশ্নটি সামনে আসেনি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে মুসলিমদের আগমনে বর্তমানে ট্রোমসো মুসলমানদের শহরে পরিণত হয়েছে। সেখানকার অধিবাসীরা জানিয়েছেন, সুর্য এখানে কখনোই ডোবে না, ২৪ ঘন্টাই আকাশের মাঝখানে অবস্থান করে।

তাই এ শহরে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হিসেব করে রোজা রাখা কখনোই সম্ভব নয়। এখানকার মুসলমানরা নিকটবর্তী এমন কোনো দেশের সঙ্গে সময় মিলিয়ে রোজা রাখেন যেখানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হয়। আবার সৌদি আরবের মক্কা নগরীর সময়ের সঙ্গে মিল রেখে দিনের হিসাব করেও রোজা রাখার নিয়ম রয়েছে। তবে সেটা তারা সম্মিলিতভাবে আলোচনা করে নির্ধারন করেন। এ বছর সৌদি আরবের মক্কার সময়ের সঙ্গে মিল রেখেই তারা রোজা পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। মক্কায় যদি ভোর পাঁচটায় সূর্যোদয় হয় তাহলে ট্রোমসোর মুসলিমরাও নরওয়ের স্থানীয় সময় ভোর পাঁচটা থেকেই দিনের সময় গণনা শুরু করবেন। মক্কার দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য খুবই ভারসাম্যপূর্ণ বলেই তারা ১৪০০বছর পরে এ নিয়মটি পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুধু রোজা নয়, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়ও তারা এভাবেই বিন্যস্ত করে পালন করছেন। এ তো গেল দিনের কথা।

ট্রোমসোর মুসলমানদের এর আগেও অনেকবার রোজা রাখার জন্যে সময় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সৃষ্টিশীলতার প্রমাণ দিতে হয়েছে। শীতকালে তাদেরকে এর ঠিক উল্টো অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। কারণ শীতকালে এখানে সারাক্ষণই রাত থাকে। সূর্যের দেখা মেলে না প্রায় ছয় মাস। তাই শীতকালের জন্যেও তারা মক্কার নিয়মই অনুসরণ করেন। গ্রীষ্মকালে যেমন সূর্য অস্ত যায় না তেমনি শীতকালে সূর্যোদয় হয় না। তাই মক্কার সময় অনুসরণ করাটাই তারা শ্রেয় মনে করেন।

এখন প্রশ্ন হলো:

১. ট্রোমসোর মুসলিমদের প্রচলিত এই মক্কামান সময়ে সালাত আদায় বা সাওম পালন কি ছহিহ ইসলাম সম্মত?

২. যদি ছহিহ শরীয়াসম্মত না হয়, তবে রোযা-নামাজের বিষয়ে তাদের জন্য বিকল্প পদ্ধতি কোনটি?

৩. আর যদি ট্রোমসোর পদ্ধতি ছহিহ ইসলাম সম্মতই হয়, তবে পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলসহ ফিনল্যান্ড, আলাস্কা, টরন্টো, আইসল্যান্ডে মক্কার সাথে মিলিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং রোযার সেহরী ইফতারের সময় নির্ধারণ কেন ছহিহ ইসলাম সম্মত হবে না? আর এই ছহিহ পদ্ধতিটার আগাম ধারনা ১৪০০ বছর আগের এক সর্বজ্ঞানের আধার দাবিকৃত আসমানি কিতাব খানায় কেন রইলো না? আমাদের সর্বজ্ঞানী মহানবীই বা কেন তার শত হাদিসের কোথাও এমন একটি মরু-মেরুর ভৌগলিক ধারণা এবং আহ্নিক বা বার্ষিকগতির আগাম ফায়সালা দিতে পারলেন না?

৪. আবার যদি তাই ছহিহ হয়, তবে রোযার সংজ্ঞা শাশ্বত বা সার্বজনীনই বা কেমনে হয়? যা স্থানকাল অবস্থাভেদে তার নিজস্ব সুবিধাবাদী সংজ্ঞা বদলায়। বদলে যাওয়া সংজ্ঞা ধ্রুবসত্য ধারণ করতে পারে না। আর যা ধ্রুবসত্য নয়, সেটা ঐশ্বরিক ধর্মসত্য কেমনে হয়?

৫. রোযার মাসে আল্লাহ শয়তানকে বন্দী করে রাখেন, যাতে সে কাউকে প্ররোচিত করতে না পারে। তাহলে বাকি ১১ মাস কেন বন্দী করে রাখা হয় না? তবে শয়তানকে বাকি ১১ মাস মুক্ত করে দিয়ে আল্লাহ নিজেই কি প্ররোচনার দায় নিচ্ছেন না? অথবা আল্লাহ বাকি ১১ মাস শয়তানকে বন্দী করে রাখতে অক্ষম? তবে আর আল্লাহ সর্বশক্তিমান হয় কী করে? তবে কি যে আল্লাহ. সে-ই কি শয়তান নয়?

ভবঘুরের অনুসিদ্ধান্ত:

একজন স্থুলদৃষ্টির দৃশ্যত সমতল পৃথিবী দৃষ্ট মরু-জ্ঞানীর পক্ষে মেরুর জ্ঞান ছিলো না বিধায়ই ইসলাম মধ্যযুগীয় মরুভুমির আঞ্চলিকতাদুষ্ট কুসংস্কারাচ্ছন্ন ঈশ্বর-শয়তানের গোলকধাঁধার কথিত ধর্ম। যা পৃথিবীর সকল অঞ্চলের জন্য একযোগে প্রয়োজনীয়তা হারায়, সেইসাথে রোজার নামে অবৈজ্ঞানিক উপোসের উপাসনা স্রেফ উপহাসের খোরাক যোগায় মাত্র। আর এমনি এক উপহাস্য (কু) সংস্কৃতির আগ্রাসন মরুসাম্রাজ্যবাদীদের হাত ধরে চিরায়ত নাতিশীতোষ্ণ লোকায়ত নীরিশ্বরবাদী চার্বাকের বাংলায় হাজার বছরের চাপানো দার্শনিক এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। এই স্থুল উপাসনার তাগিদেই চলে মাসব্যাপী অন্যের খাদ্য অধিকার হরণের মহোৎসব। রোজার মাসে আল্লাহ খাবারের হিসাব নেবে না, তাই সংযমের নামে ভুঁড়িভোজ, সংযমের নামে অপচয়, মিতব্যয়ের নামে অপব্যয়। রোজার মাসের সামগ্রিক লেনদেনের গ্রাফচিত্রটার উর্ধ্বমুখী উল্লম্ফিত চরিত্রটাই বলে দেয়, ধার্মিক তুমি কতোটা সংযমী। আর সংযমের নামে অন্যের ওপর কতোটা গরিষ্ঠের সহিংস বাড়াবাড়ি? তাই মুমিনীয় ধর্মের বাড়াবাড়িকে তাড়াতাড়ি দমন করতেই -

চীনে রোজা পালনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির কমিউনিস্ট সরকার। একই সঙ্গে রমজান মাসে সব ধরনের খাবারের দোকান ও রেস্টুরেন্ট খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  আল জাজিরার খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

একদিন সারা পৃথিবী রোজার নামে এ মুমিনীয় সংযমী ভণ্ডামি নিষিদ্ধের দাবি তুলবে, সেইদিন বেশি দূরে নয়। আমি সেই সুদিনের অপেক্ষায়।

* তথ্যসুত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, যুগান্তর, আমারদেশ, thedhakatimes24, উইকিপিডিয়াসহ অন্যান্য।

শনিবার, ২৭ জুন, ২০১৫

চিত্রপঞ্চক - ১২৩

ফেছবুক ছহীহ নহে 

Deny god, trust science

রোজ হাশরের ময়দানে আল্যাকে দেখানো হবে এই ছহীহ ছেলফি 

ঈশ্বরের দেয়া ঝড়ে দুমড়ে গেছে চার্চের ক্রুশ, ক্যামনে কী! 
ইউক্রেনের একটি শহরের এই ছবি পাঠিয়েছেন মোকাম্মেল


বিবিধ বীভৎস বিবাহবহুল ধর্মগুলোর সমকামী বিবাহবিরোধিতা

যে কোনও লিঙ্গের দু'জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ পরস্পরকে ভালোবেসে একসঙ্গে থাকতে চাইলে তাতে অন্য কারুর কী সমস্যা, ভেবে পাই না। তারা তো তাদের ভালোবাসার ধরনটি চাপিয়ে দিচ্ছে না অন্যদের ওপরে! তারা তো বলছে না, তাদের ভালোবাসার ধরনটাই একমাত্র ছহীহ!

তারা তাদের মতো করে পরস্পরকে ভালোবাসলে অন্যদের ভালোবাসা কি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কোনওভাবে বা কোনও ব্যাঘাত ঘটে অন্যদের জীবনচর্চায়? অধিকার খর্ব হয়?

হয় না। তবু তাদের ভালোবাসাবাসির ধরনটা আমার জন্য প্রযোজ্য নয় বলেই যদি আমি সেটার বিরোধিতা করি, বিদ্বেষ প্রকাশ করি, তাহলে আমি নিশ্চিতভাবেই কূপমণ্ডূক, হীন, সংকীর্ণমনা ও ছোটলোক।

গতকাল সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আমেরিকায় সমকামীদের বিয়ে করার অধিকার দেয়া হয়েছে। এতে জয় হয়েছে মানবতার, মানবাধিকারের। তবে মানবতার জয়, মানুষের সমান অধিকারের ব্যাপারগুলো ধর্মগুলো কখনওই হজম করতে পারে না। ফলে এমন বিয়ে ধর্মসম্মত নয় - এই জাতীয় অনুমেয় অনুযোগ ও ঘ্যানরঘ্যানর শুরু হয়েছে ইতোমধ্যেই। এ বিষয়ে আমেরিকায় এখন সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ খ্রিষ্টানেরা। 

তবে মজার কথা হচ্ছে, তাদের বাইবেলে যতো ধরনের কুৎসিত বিয়ের কথা উল্লেখ আছে, সে সম্পর্কে ধারণা নেই অধিকাংশ খ্রিষ্টানেরই, গড়পড়তাভাবে যারা হুইন্যা খ্রিষ্টান।

বাইবেলে বর্ণিত বিচিত্র বিবাহ বিষয়ে একটি পোস্টার:

বানিয়েছেন কৌস্তুভ
(পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে)

এবারে কোরান-হাদিস, নবীর জীবনী ও ইছলামের ইতিহাস থেকে ইছলামী বিবিধ বিবাহ সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করা যাক:
- এক পুরুষের ঘরে চার স্ত্রী (নবীর ঘরে তো একটা সময়ে একসঙ্গে গণ্ডা দুয়েক বিবি ছিলো)
- ৫১ বছরের পুরুষের সঙ্গে ৬ বছর বয়সী বন্ধু-কন্যার বিয়ে
- ঋতুমতী হয়নি, এমন মেয়েকে কোরান-অনুমোদিত বিয়ে (সুরা ৬৫:৪)
- চাচার সঙ্গে ভাতিজির ইনসেস্ট বিয়ে (নবী তার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে তার কন্যার বিয়ে দিয়েছিল)
- মুতাহ বিয়ে, যা মূলত ছহীহ উপায়ে নারীদের দেহভোগের লাইসেন্স
- যুদ্ধবন্দিনীকে বিয়ে
- ধর্ষিতা ও ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে
...
হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলোতেও উৎকট সব বিয়ের বর্ণনা আছে বলে মনে হয়। তবে সনাতন ধর্ম বিষয়ে আমার জ্ঞান খুবই অপ্রতুল বিধায় অন্য কেউ যদি আলোকপাত করতো এ বিষয়ে, ভালো হতো খুব।


মোদ্দা কথা এই:

ওপরে বর্ণিত কুৎসিত, অনৈতিক ও অমানবিক বিয়েগুলো যেসব ধর্মবিশ্বাসীর কাছে স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য, তাদের মুখে সমকামী বিয়ের বিরোধিতার কথা শুনলে স্রেফ ঘেন্না হয়।

দু'টি কোলাজ



শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০১৫

ইসলামের নবীদের যথেচ্ছাচারী যৌনজীবন

লিখেছেন শান্তনু আদিব

নাস্তিক বন্ধুরা, অনলাইনে স্থানে-অস্থানে বা যখন ইনবক্সের আদার ফোল্ডার খোলেন, তখন আপনারা নিশ্চয়ই দেখেন, কত আস্তিক ভায়া আপনার মাতা এবং ভগ্নীর সহিত সঙ্গম করিতে ইচ্ছুক। শুধু তাহাই নহে, তাহারা পারিলে, আপনাদেরকেও আপনাদের আপন মাতা/ভগ্নীর সহিত সঙ্গম করায়, নাউজুবিল্লা। তাহাদের এহেন আচরণের কোনো সদুত্তর না পাহিয়া আমি দ্বারস্থ হইলাম কুরান এবং তার পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর। ভাবিয়াছিলাম, কুরান-বাইবেল হইতে উদ্ধৃতি দিয়া তাহাদিগকে দেখাইবো যে, তোমরা যাহা বলিতেছো, তাগা তোমাদের ধর্ম সমর্থন করে না। 

ওহ ওয়েল, কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বের হয়ে এসেছে মোটামুটি।

বাইবেল এবং কুরানে ইনসেস্ট বা অজাচার মুখে সমর্থন না করিলেও নবী-রাসুলেরা নানা সময়ে তা পেকটিস করিয়াছিলেন। মুহাম্মাদ তাহার উম্মতদের জন্য তাহা মানা করিয়া গেলেও তাহাদের মনের আশ তো আর মেটে না, যেখানে নবী পয়ম্বরেরা নিজেরাই করিয়াছিলেন।

যাই হোক, আপনাদের কিছু উদাহরণ দেখাই ইসলামের নবীদের যৌনজীবনের…

১. আদম-হাওয়ার এবং তাদের পুত্র-কন্যারা: কোরানে অবশ্য আদম-হাওয়ার শুধু দুই পুত্র হাবিল-কাবিলের কথাই উল্লেখ আছে। অর্থাৎ বংশবৃদ্ধির জন্য হাবিল-কাবিলকে মাতাগমন করতে হয়েছে অবধারিতভাবে। ওদিকে বাইবেল বলে, কাবিলের বউ ছিল, কিন্তু কে এই বউ, তা জানা যায় না। এই বউ হতে পারে কাবিলের বোন অথবা তার মা হাওয়া।

২) হ্যাম এবং নোয়াহ: নুহ (আঃ) কে নেংটু দেখিয়া পুত্রের ঈমানদণ্ড দাঁড়াইয়া যায় বলে জানা যায় জেনেসিস ৯-এ। নুহ (আঃ) তার পুত্রের কাছে পুটু মারা খেয়েছিল কি না, সে ব্যাপারে কিছু আমরা জানি না।

৩) ইব্রাহিম এবং সারা: জেনেসিস ২০-এ ইব্রাহিম স্বীকার করে সারা তার সৎ বোন এবং স্ত্রী।

৪) লুত এবং তার কন্যারা: জেনেসিস ১৯-এ তাহাদের আদিম রঙ্গরসের কথা বিস্তারিত বলা হয়েছে। লুত (আঃ) তাহার দুই কন্যাকে নিয়া সোডম থেকে পালাইয়া লোকারণ্য থেকে অনেক দুরে বাসা বাধিল। এইদিকে দুই কন্যার উঠেছে যৌবনজ্বালা। আর লুতের চোখের সামনে এরাম দুইটা সেক্স বম্ব বড় হইতাছে দেখিয়াও হাত মারা ছাড়া লুত (আঃ)-এর আর কিছুই করার ছিল না। তথাপি দুই কন্যাই লুত (আঃ)-এর জন্য ব্যাপারটা সহজ করে দেয়, যাকে বলে একরকমের মুখে তুলে খাইয়ে দেওয়া।

গিল্ট-ফ্রি সেক্সের জন্য মানুষের ইতিহাসে সেই প্রথম ব্যবহৃত হয় মদ। তাহারা তাদের পিতা লুত (আঃ)-কে মদ খাইয়ে মাতাল করে মেতে ওঠে আদিম খেলায়, যে খেলায় দিন কাটত আদম-হাওয়ার। পিতার ঔরসে দুই কন্যার দুইখানা পুত্র জন্ম দেন বলে বাইবেলে বরাতে জানা যায়।

৫) মুহাম্মাদ (স):

ক) আবু বকর কি মুহাম্মাদের কিছু হইত? হউক বা না হউক, দোস্ত হইয়া গিয়াছিল শ্বশুর, যখন দ্বীনের নবী ৬ বছরের আয়সাকে বিবাহ করেন।

খ) চাচাত ভাই আলীর কাছে নিজ কন্যা ফাতেমাকে বিয়া দেয় মুহাম্মাদ। চাচা-ভাতিজি বিবাহ। চাচা হইয়াছে সোয়ামি, আর পিতা হইয়াছিল ভাসুর।

গ) আবু লাহাবের দুই পুত্র, যারাও কিনা মুহাম্মাদের চাচাতো ভাই ছিল, তাদের সাথে মুহাম্মাদের অপর দুই কন্যার বিবাহ হয়। এগেইন চাচা হইয়াছে সোয়ামি আর পিতা হইয়াছিল ভাসুর।

গ) পালিত পুত্রের বউকে আধা-নেংটু দেখিয়া মুহাম্মাদের ঈমানদণ্ড দাঁড়ায় এবং ছলে-বলে-কলে-কৌশলে পরবর্তীতে পুত্রবধূকে বিবাহ।

ঘ) সম্পর্কে ফুপু মাতার বয়েসী খাদিজাকে বিবাহ। যা থেকে মমিনদের মাইন্ড সেটের আইডিয়া পাওয়া যায় - কেন তারা ইনবক্সে মাতার বয়েসী মহিলাদের সাথে সঙ্গম করার ইচ্ছা ব্যক্ত করে। নবীর সুন্নত বলে কথা।

ইছলামী খায়েশ



বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০১৫

আমার "আমার অবিশ্বাস" পাঠ - ২৫

হুমায়ুন আজাদের 'আমার অবিশ্বাস' নামের বই থেকে ছেঁকে তোলা শ্রেষ্ঠ উদ্ধৃতির সংকলন।

১১৮.
মদ সম্বন্ধে মুসলমানের কপটতা ভালোভাবে ধরা পড়ে বর্তমানে উৎপাদিত 'ইসলামি বিয়ার' ও এ-ধরনের পানীয়তে। বিয়ার হচ্ছে বিয়ার, তাতে অ্যালকোহল থাকবে; কিন্তু ধার্মিক মুসলমান অ্যালকোহল খাবে না, মদের নাম খাবে। কী শোচনীয় এই নৈতিকতা!

১১৯.
ধনীরা ধর্মকে পাত্তা দেয় না, কিন্তু ধর্ম দিয়ে যেহেতু তারা প্রতারণা করতে পারে, তাই নানা খেলা খেলে তারা ধর্মের সাথে; এবং সবচেয়ে করুণ খেলাটি খেলে গরীবদের সাথে।

১২০.
আমি ভালো ক'রেই জানি, কিছু অপেক্ষা ক'রে নেই আমার জন্যে; কোনো বিস্মৃতির বিষণ্ণ জলধারা, কোনো প্রেতলোক, কোনো পুনরুত্থান, কোনো বিচারক, কোনো স্বর্গ, কোনো নরক; আমি আছি, একদিন থাকবো না, মিশে যাবো, অপরিচিত হয়ে যাবো, জানবো না আমি ছিলাম। নিরর্থক সব পুণ্যশ্লোক, তাৎপর্যহীন প্রার্থনা, হাস্যকর উদ্ধত সমাধি; মৃত্যুর পর যে-কোনো জায়গায়ই আমি প'ড়ে থাকতে পারি, - জঙ্গলে, জলাভূমিতে, পথের পাশে, পাহাড়ের চূড়োয়, নদীতে। কিছুই অপবিত্র নয়, যেমন কিছুই পবিত্র নয়; কিন্তু সব কিছুই সুন্দর, সবচেয়ে সুন্দর এই তাৎপর্যহীন জীবন। 

অমরতা চাই না আমি, বেঁচে থাকতে চাই না একশো বছর; আমি প্রস্তুত, তবে আজ নয়। চ'লে যাওয়ার পর কিছুই চাই না আমি; দেহ বা দ্রাক্ষা, ওষ্ঠ বা অমৃত; তবে এখনি যেতে চাই না; তাৎপর্যহীন জীবনকে আমার ইন্দ্রিয়গুলো দিয়ে আমি আরো কিছুকাল তাৎপর্যপূর্ণ ক'রে যেতে চাই। আরো কিছুকাল আমি নক্ষত্র দেখতে চাই, নারী দেখতে চাই, শিশির ছুঁতে চাই, ঘাসের গন্ধ পেতে চাই, পানীয়র স্বাদ পেতে চাই, বর্ণমালা আর ধ্বনিপুঞ্জের সাথে জড়িয়ে থাকতে চাই। আরো কিছুদিন আমি হেসে যেতে চাই। একদিন নামবে অন্ধকার - মহাজগতের থেকে বিপুল, মহাকলের থেকে অনন্ত; কিন্তু ঘুমিয়ে পড়ার আগে আমি আরো কিছুদূর যেতে চাই।

- শেষ -

অবিস্মরণ: থাবা বাবা, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবু, অনন্ত বিজয় - ০৯

I am Avijit - আমিই অভিজিৎ-এর জন্য বানিয়েছেন সামিনা চৌধুরী এ্যানি




দু'টি আধুনিক সূরা

লিখেছেন ধর্মব্যবসায়ী 

সূরা একবাপ

(বাপের মুখে অবতীর্ন)

আয়াত: ৪


১. বলো, আব্বা এক।
২. তিনি ব্যতীত অন্য কোনো আব্বা নাই।
৩. তিনি ব্যতীত অন্য কেউ তোমাকে জন্ম দেননি।
৪. এবং আব্বা ডাকার ক্ষেত্রে তাঁর সাথে কোনো অংশীদার স্থাপন করো না।


লিখেছেন বুদ্ধ মোহাম্মদ যীশু কৃষ্ণ

সূরা মোবাইল (মুঠোফোন)
নাস্তিক দেশে অবতীর্ণ
আয়াত: ১৭

সকল প্রশংসা তাহাদের, যাহারা মোবাইল আবিষ্কারক

০১. টিক ট্যাঁক টয়।
০২. চেয়ে দেখো, ঐ স্ক্রিনের দিকে যা আলোকময়।
০৩. যাহা তাহারা সাজাইয়াছে স্বচ্ছ রং ও আবর্তন দ্বারা।
০৪. যাহাতে তাহারা দিয়াছে উচ্চমানের র‍্যাম, প্রসেসর ও ব্যাটারি।
০৫. যাহা দ্রুত কাজ করিতে সক্ষম ও দীর্ঘস্থায়ী।
০৬. অথচ তোমরা ইহাকে অবহেলা করো।
০৭. তাহারা কি ভাবিয়া দেখো না, ইহাদের পূর্বসূরিদের তাহারা কীরূপে বিলুপ্ত করিতেছেন?
০৮. যাহারা এখন ঠাঁই পাইতেছে যাদুঘরে।
০৯. উহারা পারিত না তোমাদের মনোরঞ্জন করিতে।
১০. উহাদের ছিল না কোনো মাল্টিমিডিয়া এবং ইন্টারনেট সংযোগ শক্তি, যাহার দ্বারা তোমরা সংযুক্ত হইতে পারিতে অনলাইনে।
১১. উহারা ছিল কাফের ও অবিশ্বাসী মোবাইল বংশ।
১২. অতএব তোমরা ছুটিয়া যাও ডাস্টবিনে এবং উহাদের নিক্ষিপ্ত করো সর্বশক্তি দ্বারা।
১৩. অথবা উহা দান করিয়া দাও তোমাদের শত্রুদের নিকটে।
১৪. উহাদের আছে উচ্চমাত্রার অদৃশ্য তরঙ্গ, যাহা তোমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর।
১৫. নিশ্চয়ই ক্ষতিকর সবকিছু তোমাদের জন্য হারাম করা হইয়াছে।
১৬. যাহা আবিষ্কারকর্তানেন, তাহা তোমরা জানো না।
১৭. নিশ্চই আবিষ্কারকগণ পরম জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান।

বুধবার, ২৪ জুন, ২০১৫

এক জোড়া পোস্টার


হস্তমৈথুন করলে হাত গর্ভবান/গর্ভবতী হয়ে পড়বে - এক ইছলামবাজের দেয়া এই ঘোষণাটির কথা মনে আছে নিশ্চয়ই!

খন্দক যুদ্ধ - ৬: আলী ইবনে আবু তালিবের নৃশংসতা!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ৮২): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – ছাপ্পান্ন

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯ > পর্ব ৭০ > পর্ব ৭১ > পর্ব ৭২ > পর্ব ৭৩ > পর্ব ৭৪ > পর্ব ৭৫ > পর্ব ৭৬ > পর্ব ৭৭ > পর্ব ৭৮ > পর্ব ৭৯ > পর্ব ৮০ > পর্ব ৮১

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর অনুসারীরা খন্দক যুদ্ধে কীরূপ চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিলেন; মুহাম্মদের বহু অনুসারী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ওহুদ যুদ্ধের মতই খন্দক যুদ্ধেও কীভাবে মুহাম্মদের ওপর আস্থা হারিয়েছিলেন; অবস্থা দুঃসহ আকার ধারণ করার পর মুহাম্মদ ঘাতাফান গোত্রের দলপতি ইউয়েনা বিন হিসন ও আল-হারিথ বিন আউফ নামের দুই ব্যক্তির কাছে কী শর্তে উৎকোচ (ঘুষ) প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন; কী কারণে তিনি সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করেছিলেন - ইত্যাদি বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে। 

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনার পুনরারম্ভ: [1] [2]

পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ৮১) পর:

‘কোনোরূপ যুদ্ধ ছাড়াই অবরোধ অব্যাহত থাকে। কিন্তু কুরাইশদের কিছু অশ্বারোহী, যাদের মধ্যে ছিল আমর বিন আবদু উদ্দ বিন আবু কায়েস (Amr b. 'Abdu Wudd b. Abu Qays) নামের বানু আমির বিন লুয়াভির (B. 'Amir b. Lu'ayy) গোত্রের এক ভাই; মাখযুম গোত্রের ইকরিমাবিন আবু জেহেল ও হুবায়েরাবিন আবু ওহাব; কবি দিরারবিন আল-খাত্তাব ও বানু মুহারিব বিন ফিহির গোত্রের ইবনে মিরদাস নামের এক ভাই তাদের বর্ম-আবরণ পরিধান করে ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয়ে বানু কিনানা গোত্রের ঘাঁটিতে গমন করে ও বলে, "তোমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও ও তারপর জেনে নাও কারা আজ সত্যিকারের বীর যোদ্ধা।" [3]

খন্দকের কিনারে এসে থামার পূর্ব পর্যন্ত তারা দ্রুতগতিতে সামনে অগ্রসর হয়। যখন তারা তা দেখতে পায় তখন তারা বিস্ময়ে বলে ওঠে, "এটি একটি কৌশল, যা আরবরা কখনোই ব্যবহার করে নাই!"

তারপর তারা খন্দকের এক সংকীর্ণ অংশের কাছে আসে ও তাদের ঘোড়াদের তাড়ন করে সবেগে এমনভাবে ধাবন করায়, যাতে তারা তা অতিক্রম করে খন্দক ও সা'ল [পর্বত] এর মধ্যবর্তী জলাভূমি-সদৃশ (swampy) স্থানে এসে পৌঁছে।

যে স্থানটির ভেতর দিয়ে তারা অতিক্রম করেছিল, সেই স্থানটি আটকে রাখার জন্য কিছু মুসলমানদের সঙ্গে আলী সেখানে আসে; আর তাদের সম্মুখে দ্রুতবেগে এসে হাজির হয় ঐ অশ্বারোহীরা। আমর বিন আবদু উদ্দ ছিল সেই লোক, যে বদর যুদ্ধে জখম হয়ে বিকলাঙ্গ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যুদ্ধ করেছিল ও সেই কারণে সে ওহুদ যুদ্ধে অংশ নেয়নি। খন্দক যুদ্ধে সে তার পদমর্যাদা প্রকাশের জন্য এক বিশেষ রণসজ্জায় সজ্জিত হয়ে আসে। তার সঙ্গের লোকজনকে নিয়ে সে সেখানে এসে থামে ও মুসলমানদের যে কাউকে তার সাথে দ্বন্দ্বযুদ্ধের চ্যালেঞ্জ করে।

আলী সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে ও তাকে বলে, "আমর, তুমি কী আল্লাহর কসম কেটে প্রতিজ্ঞা করেছ যে, যদি কোনো কুরাইশ তোমাকে দু'টি বিকল্প প্রস্তাব করে, তবে তুমি তার যে কোন একটি গ্রহণ করবে?"

"হ্যাঁ, আমি তা করেছি," সে বলে।

আলী জবাবে বলে, "তাহলে, আমি তোমাকে আল্লাহ ও তার রসুল এবং ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার আহ্বান করি।"

সে বলে যে, এসবে তার কোনো প্রয়োজন নেই।

আলী বলে, "তাহলে, আমি তোমাকে যুদ্ধের জন্য তলব করি।"

সে জবাবে বলে, "হে আমার ভাতিজা, আমি তোমাকে হত্যা করতে চাই না।" (ইবনে হিশাম: 'আমর তাকে জিজ্ঞাসা করে জানতে চায় যে সে কে। যখন আলী তাকে তা জানায়, তখন সে বলে, "তোমার কোন আংকেল কে পাঠাও, যে কিনা তোমার চেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ; হে আমার ভাতিজা, আমি তোমার রক্ত ঝরাতে চাই না।”)

আলী বলে, "কিন্তু আমি তোমাকে হত্যা করতে চাই।"

এতে আমর এতই ক্রুদ্ধ হয় যে, সে তার ঘোড়া থেকে নেমে আসে ও ঘোড়াটির পেছনের পায়ের শিরা কেটে তাকে বিকলাঙ্গ করে (তাবারী: 'অথবা তার মুখে প্রহার করে'); তারপর সে আলীর দিকে অগ্রসর হয় ও তারা একে অপরের সাথে দ্বন্দ্ব যুদ্ধ করে। [4]

আলী তাকে হত্যা করে তার সঙ্গের অন্যান্য অশ্বারোহীরা খন্দকের ভেতর দিয়ে দ্রুতবেগে পলায়ন করে।’

আল-তাবারীর (৮৩৯-৯২৩ সাল) অতিরিক্ত বর্ণনা:

'আমরের সাথে আর যে-দু'জন ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়, তারা হলো: মুনাববি বিন উসমান বিন উবায়েদ বিন আল-সাববাক বিন আবদুল-দার (যে তীরবিদ্ধ হয়েছিল ও মক্কায় আসার পর মৃত্যুবরণ করেছিল); ও বানু মাখজুম গোত্রের নওফল বিন আবদুল্লাহ বিন আল-মুঘিরা। নওফল খন্দকের মধ্যে ঝাঁপ দেয় ও সেখানে আটকে পড়ে।

তারা তাকে পাথর বর্ষণ করে।
সে বলে, “হে আরববাসী, খুন করা এর চেয়ে অধিক শ্রেয়!"
তাই আলী নিচে নেমে আসে ও তাকে হত্যা করে।

মুসলমানেরা তার মৃতদেহ তুলে আনে। তারা আল্লাহর নবীকে জিজ্ঞাসা করে জানতে চায় যে, তারা এই মৃতদেহ তাদের কাছে বিক্রি করবে কিনা।

আল্লাহর নবী বলেন: "তার মৃতদেহ ও তার মূল্যের আমার কোনো প্রয়োজন নেই। তোমরা যা ভাল মনে করো, এটি দিয়ে তা-ই করো।" এভাবে তিনি এটি [তার মৃতদেহ] দিয়ে যা তাদের ইচ্ছা, তাইই করার অনুমতি প্রদান করেন।’

- অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ - লেখক।]

(‘------Ali accepted the challengeand said to him: "Amr, you swore by God that if any man of Quraysh offered you two alternatives you would accept one of them?'

'Yes, I did,' he said. Ali replied, 'Then I invite you to God and His apostle and to Islam.' He said that he had no use for them. Ali went on, 'Then, I call on you to dismount.

He replied, 'O son of my brother, I do not want to kill you.' (I.H: 'Amr asked him who he was, and when he told him he said:  'Let it be one of your uncles who is older than you, my nephew, for I don't want to shed your blood.')

Ali said, 'But I want to kill you.'

This so enraged 'Amr that he got off his horse and hamstrung it and (Tabari. or beat its face); then he advanced on 'Ali, and they fought, the one circling round the other.

Ali killed him and their cavalry fled, bursting headlong in flight across the trench”.) [1]

Al-Tabari added:

(‘Two men were killed along with Amr: Munabbih b. 'Uthman b. 'Ubayd b. al-Sabbaq b.'Abdu'l –Dar [he was hit by an arrow and died in Mecca]; and Naufal b. 'Abdullah b. al-Mughira of the Banu Makhzum.

Nawfal plunged into the trench and became trapped down in it.

They pelted him with stones.
He said, 'People of the Arabs, a slaying is better than this!'
So 'Ali went down and killed him.

The Muslims took the body. They asked the Messenger of God to sell them his body.  The Messenger of God said: “We have no need of his body or its price. Do with it as you like.” So he left them to do as they pleased with it.’) [2]

>>> আদি উৎসে ইসলামে নিবেদিতপ্রাণ বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই ওপরে উল্লেখিত বর্ণনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো:

খন্দক যুদ্ধে আমর বিন আবদু উদ্দ নামের এক কুরাইশ আলী ইবনে আবু তালিবের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে আলীকে রক্তাক্ত অথবা হত্যা করতে রাজি ছিলেন না। অন্যদিকে, আলী ইবনে আবু তালিব তাঁকে হত্যা করার জন্য ছিলেন উদগ্রীব, যদি না তিনি মুহাম্মদকে নবী হিসাবে স্বীকার করে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন।

মুহাম্মদের দীক্ষায় দীক্ষিত অনুসারীরা কীরূপ অবলীলায় তাদেরই একান্ত নিকটাত্মীয়দেরও প্রচণ্ড নিষ্ঠুরতায় খুন করার অভিপ্রায়ে উজ্জীবিত তার বিস্তারিত আলোচনা পর্ব: ৩৬-এ করা হয়েছে। আলী ইবনে আবু তালিবও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না।

কে এই আমর বিন আবদু উদ্দ? তাঁর সাথে কি আলীর কোনো রক্তের সম্পর্ক ছিল, যে সম্পর্কের কারণে তিনি আলীকে হত্যা করতে চাননি?

ইবনে হিশামের বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, আমর বিন আবদু উদ্দ ছিলেন আলীর পিতা আবু তালিবের বন্ধু! সেই সূত্রে আলী ছিলেন তাঁর "ভাতিজা সমতুল্য”; আলীর সাথে তাঁর কোনো রক্তের সম্পর্ক ছিল না। তথাপি, এই কুরাইশ তাঁর বন্ধুপুত্রের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে তাঁকে রক্তাক্ত অথবা হত্যা করতে চাননি।

>>> কোনো মুহাম্মদ অনুসারী তথাকথিত মডারেট (ইসলামে কোনো কোমল, মডারেট বা উগ্রবাদী শ্রেণীবিভাগ নেই) পণ্ডিত কিংবা অপণ্ডিতকে যখন “কুরান” নামক মুহাম্মদের স্বরচিত ব্যক্তিমানস জীবনীগ্রন্থে অবিশ্বাসী কাফেরদের বিরুদ্ধে মুহাম্মদের শত শত হিংস্র, অমানবিক ও নৃশংস নির্দেশ ও শাপ-অভিশাপ, হুমকি-শাসানী, ভীতি-প্রদর্শন এবং আদি উৎসের নিবেদিতপ্রাণ মুহাম্মদ অনুসারীদেরই (লেখক ও বর্ণনাকারী) বর্ণিত মুহাম্মদের জীবনীগ্রন্থ সিরাত ও হাদিস গ্রন্থে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের সংঘটিত সন্ত্রাস, খুন, জখম, নৃশংসতা ও দাসত্ব-বন্ধন (Enslavement) বিষয়ে আলোকপাত করা হয়, তখন তাঁরা প্রায় সঙ্গে সঙ্গে যে দু'টি অজুহাত পেশ করেন তা হলো:

১) ঐ সমস্ত নির্দেশ ও কার্যকলাপ শুধু মাত্র যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য।
২) তৎকালীন সমাজে এটিই ছিল রীতি!

প্রথম অজুহাত সম্পূর্ণ মিথ্যা, কারণ:

"ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ" এর গত পঞ্চান্নটি পর্বের আলোচনায় আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি, রাতের অন্ধকারে বাণিজ্যফেরত নিরীহ কুরাইশ বাণিজ্যবহরের ওপর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের আগ্রাসী আক্রমণ; আবু আফাক, আসমা-বিনতে মারওয়ান, ক্বাব বিন আল-আশরাফ ও আবু রাফিকে খুন; বনি কেইনুকা ও বনি নাদির ইহুদি গোত্রকে উচ্ছেদ (পর্ব: ৪৬-৫২) - ইত্যাদি অত্যন্ত অমানাবিক, গর্হিত ও নৃশংস কর্মকাণ্ডের কোনোটিই কোনো যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সম্পন্ন হয়নি।

তাঁরা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীকে কখনো কোনো শারীরিক আঘাত অথবা আক্রমণ করেননি। বনি কেইনুকা গোত্রকে উচ্ছেদের ঘটনায় প্রথম হত্যাকারী ব্যক্তিটি ছিলেন একজন মুহাম্মদ অনুসারী, বনি কেইনুকা গোত্রের লোকেরা নয় (পর্ব: ৫১)।

বদর যুদ্ধের উপাখ্যানের (পর্ব: ৩০-৪৩)বর্ণনায় আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি যে, মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরাই ছিলেন আগ্রাসী ও আক্রমণকারী, কুরাইশরা নয়।

ওহুদ যুদ্ধের কারণ হলো, বদর যুদ্ধে কুরাইশদের ওপর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের নৃশংসতার প্রতিশোধ স্পৃহায় কুরাইশদের প্রতি-আক্রমণ। আর খন্দক যুদ্ধের কারণ হলো, মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের দ্বারা বনি নাদির (ও বনি কেইনুকা) গোত্রকে উচ্ছেদ, ঘাতাফান গোত্রের ওপর আক্রমণ, বদর যুদ্ধের নৃশংসতা ও কুরাইশ বাণিজ্যবহরের ওপর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের অব্যাহত আক্রমণ! "ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ" এর পরবর্তী পর্বগুলোতে পাঠকরা এরূপ আরও অনেক উদাহরণ জানতে পারবেন।

প্রশ্ন হলো, “ইসলামের ইতিহাসের আদি উৎসে এমনই শত শত প্রামাণিক তথ্যের (Evidence) উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও মুহাম্মদ-অনুসারীরা কী কারণে দাবী করেন যে, মুহাম্মদের এই সকল হিংসাত্মক বাণী, আদেশ, নিষেধ ও কর্মকাণ্ড শুধু মাত্র যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য?"

উত্তর হলো, "দুটি কারণে।"

এক: সিংহভাগ মুহাম্মদ-অনুসারীই ইসলামের ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায় সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ!

দুই: ইসলামী পরিভাষার মারপ্যাঁচ! ন্যায়-অন্যায়ের সর্বজনগ্রাহ্য পরিচিত রূপ ও শব্দমালার অর্থ ইসলামিক পরিভাষায় সম্পূর্ণ বিপরীত অর্থ বহন করতে পারে। (পর্ব: ৩৩)। অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে ইসলাম-বিশ্বাসীদের আক্রমণাত্মক আগ্রাসী হামলা বা যুদ্ধ পরিচালনার পর যদি অবিশ্বাসীরা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও প্রতি-আক্রমণে সামিল হয়, তবে তা হবে "যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি"! সেই পরিস্থিতিতে একজন সাচ্চা মুহাম্মদ-অনুসারীর একান্ত কর্তব্য হলো 'জিহাদ’!

আর দ্বিতীয় অজুহাতও সত্য নয়, কারণ:

নিজ ধর্মের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায়ে তৎকালীন আরবের লোকেরা ভিন্ন ধর্ম মতাবলম্বী কোনো ব্যক্তি বা জনপদের ওপর আগ্রাসী আক্রমণ, খুন, জখম, লুট (গণিমত), দমন, নিপীড়ন ও দাস ও দাসী-করণের মত গর্হিত কর্মে সচরাচর লিপ্ত হতেন, এমন দাবি সম্পূর্ণরূপে অসত্য!(পর্ব: ৩২)।

বদর যুদ্ধ উপাখ্যানের বিস্তারিত বর্ণনায় আমরা আরও জেনেছি যে, যুদ্ধের সেই সময় ও তার পরবর্তী পরিস্থিতিতে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের আচরণের তুলনায় কুরাইশদের আচরণ ছিল অধিক শালীন ও মানবিক (পর্ব: ৩১ ও ৩৯); খন্দক যুদ্ধ উপাখ্যানের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা আবার ও সেই একই দৃশ্য দেখতে পেয়েছি।

>>> ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে মুহাম্মদের মৃত্যুর পর শুরু হয় ইসলামের ইতিহাসের খুলাফায়ে রাশেদিনের রাজত্বকাল (৬৩২-৬৬১ সাল); যা মূলত মুহাম্মদের দুই শ্বশুর ও দুই জামাইয়ের রাজত্বকাল (শ্বশুর: আবু বকর ও ওমর; জামাই: ওসমান ও আলী)।

আবু বকর ইবনে কাহাফা, ওমর ইবনে খাত্তাব ও ওসমান ইবনে আফফানের নেতৃত্বে মুহাম্মদ-অনুসারীরা ইসলাম প্রচার ও প্রসারের নামেপৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অবিশ্বাসী কাফের রাষ্ট্র ও জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ৬৩২ সাল থেকে ৬৫৪ সাল পর্যন্ত কমপক্ষে ১৯ টি আগ্রাসী ও আক্রমণাত্মক যুদ্ধ পরিচালনা করে। আবু বকরের দুই বছরের (৬৩২-৬৩৪ সাল) শাসন আমলে ৩টি, ওমর ইবনে খাত্তাবের দশ বছরের (৬৩৪-৬৪৪ সাল) শাসন আমলে ১২টি ও ওসমান ইবনে আফফানের বার বছরের (৬৪৪-৬৫৬) শাসন আমলে ৪টি। (বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তীতে করা হবে)।

যুদ্ধ মানেই হলো আক্রমণ, দমন, নিপীড়ন, খুন, জখম, রক্তপাত, লুট (গণিমত), দখল ও সেকালের দাস ও দাসী-করণ! উদ্দেশ্য যাইই হোক না কেন, ফলাফল প্রচুর রক্তপাত!

এই সব যুদ্ধে অগণিত অবিশ্বাসী কাফেরদের খুন, জখম ও দাস ও দাসী-করণের ফসল - ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠা নামের আড়ালে আরব সাম্রাজ্যবাদের সূচনা ও প্রতিষ্ঠা!

আবু বকর ও ওমর ছিলেন ভাগ্যবান! কারণ তাদের আমলে “মুসলমান-মুসলমানদের মধ্যে” কোনো বড় ধরণের সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ভাগ্যবান আবু বকর কোনো আততায়ীর ছুরির আঘাতে খুন হননি!

ওমর কোন মুসলমান আততায়ীর ছুরির আঘাতে খুন হননি; তিনি নির্মমভাবে খুন হয়েছিলেন আবু লুলু ফিরোজ নামের আদি পারস্যবাসী এক ক্রীতদাস কাফেরের ছুরির আঘাতে!

মুসলমান-মুসলমানদের মধ্যে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনার সূত্রপাত ও প্রসার ঘটে ওসমান ইবনে আফফান ও আলী ইবনে আবু তালিবের রাজত্বকালে (৬৪৪-৬৬১ সাল)। ওসমান ইবনে আফফানের শাসন আমলের শেষাংশ থকে শুরু হয়ে ক্রমান্বয়ে তা অত্যন্ত পাশবিক ও সহিংস রূপ ধারণ করে। পরিণতিতে ৬৫৬ সালে আবু বকর পুত্র মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর-এর নেতৃত্বে একদল মুহাম্মদ অনুসারী ৭৯ বছরের বৃদ্ধ ওসমান ইবনে আফফানকে কুরান পাঠ অবস্থায় নির্মমভাবে খুন করে

ওসমান হত্যার পর আরব সাম্রাজ্যবাদের অধিপতি হন আলী ইবনে আবু তালিব। আলীর ক্ষমতায় আহরণের পর মুসলমানদের মধ্যে প্রথম গৃহযুদ্ধ (ফিতনা) শুরু হয়। ক্ষমতায় আসার পর পরই এক রক্তাক্ত যুদ্ধের মাধ্যমে প্রথমেই আলীকে যার সাথে মোকাবিলা করতে হয়, তিনি হলেন তার নিজেরই শাশুড়ি; নবীপত্নী আয়েশা বিনতে আবু বকর ও তার অনুসারী। ইসলামের ইতিহাসে যা "উটের যুদ্ধ” (Battle of the Camel /‘Jange Zamal’) নামে সুবিখ্যাত। তারিখটি ছিল: ডিসেম্বর, ৬৫৬ সাল। আলী ও আয়েশার নেতৃত্বে দু'পক্ষের অসংখ্য মুহাম্মদ-অনুসারী হন খুন ও জখম। জয়লাভ হয় আলীর। [5]

এরপরেই আলীকে যুদ্ধের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হয় মুহাম্মদের আর এক বিশিষ্ট অনুসারী মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান ও তার অনুসারীদের সাথে। ইসলামের ইতিহাসে যা "সিফফিনের যুদ্ধ” (Battle of Siffin) নামে বিখ্যাত। তারিখটি ছিল: জুলাই, ৬৫৭ সাল। দুই পক্ষের অগণিত নিবেদিত প্রাণ মুহাম্মদ-অনুসারী হন খুন ও জখম।

এই যুদ্ধের শেষে আলীর সাথে মতভেদের কারণে একদল মুহাম্মদ অনুসারী আলী ও তার অনুসারীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ইসলামের ইতিহাসে যাদেরকে "খারেজী” (Kharijites) নামে আখ্যায়িত করা হয়। [6]

তারা বিদ্রোহ করে আলী ও তার অনুসারীদের (শিয়া মুসলমান) বিরুদ্ধে। তাদেরকে দমনের উদ্দেশ্যে ৬৫৮-৬৫৯ সালে (হিজরি: ৩৮ সাল) আলী ও তার অনুসারীরা যে যুদ্ধ পরিচালনা করে, ইসলামের ইতিহাসে তা "নাহরাওয়ানের যুদ্ধ” (Battle of Nahrawan) নামে বিখ্যাত। অমানুষিক নৃশংসতায় তারা ২৪০০ মুহাম্মদ অনুসারীকে (খারেজী) হত্যা করে। ২৮০০ জন খারেজীর মাত্র ৪০০জন জীবিত ফিরে যেতে সক্ষম হয়। [7]

সিফফিন যুদ্ধের পরে আলী ওসমান হত্যার নায়ক মুহাম্মদ ইবনে আবু বকরকে মিশরের গভর্নর নিযুক্ত করেন!

পরবর্তীতে মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ানের সেনাপ্রধান আমর বিন আল-আসের (Amr bin Al As) নেতৃত্বে মুয়াবিয়ার সৈন্যরা মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ও তাঁর সৈন্যদের পরাস্ত করে মিশরের শাসনভার গ্রহণ করে (জুলাই-আগস্ট, ৬৫৮ সাল)। আমর বিন আল-আসের সেনাদলের মুয়াবিয়া বিন হুদায়েজ (Muawiyah bin Hudayj) নামের এক সৈন্য মুহাম্মদ ইবনে আবু বকরকে নৃশংসভাবে খুন করে তার মৃতদেহ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে। [8]

মুহাম্মদ ইবনে আবু বকরকে হত্যার পর মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান, আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আল-হাদরামি (Abdallah bin Amr bin al-Hadrami) নামের তার এক প্রতিনিধিকে সিরিয়া থেকে বসরায় পাঠান। উদ্দেশ্য, সে যেন সেখানকার তামিম (Tamim) গোত্র ও অন্যান্য বসরা-বাসীকে আমর বিন আল-আস ও তার শাসন গ্রহণ করার আহ্বান জানায়।

ইবনে হাদরামি বসরায় এসে ওসমানের নির্মম হত্যার জন্য শোক প্রকাশ করে এবং তামিম গোত্রবাসী ও বসরার জনগণকে আলীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের আহ্বান করে। তারা তার প্রস্তাব সমর্থন করে ও আমর বিন আল-আস ও মুয়াবিয়ার আনুগত্যের শপথ নেয়।

সেই সাময় আলীর পক্ষে বসরার ডেপুটি গভর্নর ছিলেন যিয়াদ বিন আবিহি (Ziyad bin Abihi) নামের এক আলী-পৃষ্ঠপোষক। এক চিঠি মারফত তিনি আলীকে এই খবরটি অবহিত করান। তিনি আলীকে আরও জানান যে, তার পক্ষে বসরায় এমন কেউ নেই, যে তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারে। [9]

এই খবরটি পাওয়ার পর আলী আয়ান বিন দুবায়াহ আল-মুজাশি(Ayan bin Dubay’ah al-Mujashi) নামের এক তামিমি-কে বসরায় প্রেরণ করেন। উদ্দেশ্য সে যেন তার গোত্রের লোকদের ইবনে হাদরামির পক্ষ থেকে আলীর পক্ষে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। আয়ান  বসরায় এসে তার গোত্রের কিছু লোকদের একত্র করে ইবনে হাদরামি ও তার অনুসারীদের কাছে গমন করে ও ইবনে হাদরামির সমর্থকদের আলীর দলে ফিরে আসার আহ্বান জানায়। কিন্তু তারা তার প্রস্তাবে শুধু যে অসম্মতি প্রকাশ করে তাইই নয়, তারা তাকে গালাগালি করে ও তার সাথে দাঙ্গায় লিপ্ত হয়। আয়ান সেখান থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে সেখানকার একদল লোক আয়ানের ওপর চড়াও হয় ও তাকে হত্যা করে।

যিয়াদ আলীকে চিঠির মাধ্যমে এই খবরটি জানান। আলী ঘটনাটি জানার পর বানু তামিম গোত্রের ৫০জন (মতান্তরে ৫০০জন) লোককে সঙ্গে দিয়ে জারিয়া বিন কুদামা আল-সাদি (Jariyah bin Qudamah al-Sa’di) নামের তার এক প্রতিনিধিকে বসরায় পাঠান।

জারিয়া বসরায় এসে জিয়াদের সাথে পরামর্শ করে। তারপর সে তার নিজ গোত্রের লোকদের কাছে গমন করে ও আলীর দেয়া চিঠিটি তাদের পড়ে শোনায়। সে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি পাশে আবদ্ধ করে ও অধিকাংশ লোকই তার আহ্বানে সাড়া দেয়।

তারপর সে ইবনে হাদরামির কাছে আসে এবং ইবনে হাদরামি ও তার সমর্থকরা যে-বাড়িতে অবস্থান করছিল, সেই বাড়িটি ঘেরাও করে তাদেরকে আত্মসমর্পণ ও আলীর বশ্যতা স্বীকারের আহ্বান জানায়। তারা তাতে রাজি হয় না। তাই জারিয়া ঐ বাড়িটিতে আগুন দিয়ে ইবনে হাদরামী ও তার ৭০জন (মতান্তরে ৪০জন) সমর্থককে জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যা করে। যিয়াদ এই খবরটি আলীকে এক চিঠি মারফত অবহিত করায়। [10]

এ সমস্ত নৃশংস ঘটনার ধারাবাহিকতায় কুফা নগরীতে ৬৬১ সালের জানুয়ারি মাসে ইবনে মুলজাম আল-মুরাদি ও শাবিব বিন বাজারাহ নামের দুই মুহাম্মদ অনুসারীর (খারেজী) বিষ মিশ্রিত তলোয়ারের আঘাতে আলী ইবনে আবু তালিবের জীবনের নির্মম পরিসমাপ্তি ঘটে! [11] 

ক্ষমতায় আসার পর আলী, ওসমান হত্যার কোনো বিচার করেননি। ওসমানের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে তিনি যে কোনোরূপ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি তাইই নয়, হত্যাকারীকে তিনি মিশরের গভর্নর পদে নিযুক্ত করে করেছেন পুরস্কৃত! আলী ও তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান ও তার সমর্থকদের বিবাদ, যুদ্ধ ও সহিংসতার প্রধান কারণ হলো, "ওসমান হত্যার বিচার ও হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত না করা।"

আলী তার পাঁচ বছরের শাসন আমলে (৬৫৬-৬৬১ সাল) যে সমস্ত যুদ্ধ বিগ্রহের সাথে জড়িত ছিলেন, তার সিংহভাগই ছিল মুসলমান মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও নৃশংসতা!

ওপরের ঘটনাগুলো আলী ইবনে আবু তালিব ও তার সমর্থকদের দ্বারা সংঘটিত বহু নৃশংস ঘটনার অল্প কিছু উদাহরণ।

আবু তালিব ও আবু লাহাব সহ হাশেমী বংশের "কোনো পৌত্তলিক সদস্য" ধর্মের কারণেকোন মানুষকে কখনো হত্যা করেছেন, রক্তাক্ত করেছেন কিংবা নিদেনপক্ষে কাউকে কোনো শারীরিক আঘাত করেছেন, এমন ইতিহাস কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। একমাত্র ব্যতিক্রম, হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিব। (পর্ব-৬৩)

অন্যদিকে, মুহাম্মদের মতবাদে উদ্বুদ্ধ আবু তালিব পুত্র আলী ইবনে আবু তালিব বদর, ওহুদ, ও খন্দক সহ ইসলামের ইতিহাসের অন্যান্য বহু যুদ্ধ/হামলায় অংশ গ্রহণ করেন ও অমানুষিক নৃশংসতায় অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেন। আলী একান্ত শিশুকাল থেকেই মুহাম্মদ-খাদিজা পরিবারে আশ্রিত ও পালিত হন (পর্ব: ৩৮); তিনি মুহাম্মদের জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত ছায়ার মত তাঁর পাশে ছিলেন।

হামজা বিন আবদুল মুত্তালিবের মতই আলীর চরিত্রের এই বিশেষ পরিবর্তনের কারণ নিঃসন্দেহে, “মুহাম্মদের সান্নিধ্য ও তাঁর মতবাদে দীক্ষালাভ!"

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ:  A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা ৪৫৪-৪৫৭

[2] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৮, ইংরেজী অনুবাদ: Michael Fishbein, University of California, Los Angeles, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭, ISBN 0-7914-3150—9 (pbk), পৃষ্ঠা (Leiden) ১৪৭৫ -১৪৭৬

[3] অনুরূপ ও আরও বিস্তারিত বর্ণনা: কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক:  আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২), ed. Marsden Jones, লন্ডন ১৯৬৬, পৃষ্ঠা ৪৭০-৪৭২

[4] সওয়ারী তার ঘোড়াকে পিছনের পায়ের শিরা কেটে বিকলাঙ্গ (Hamstring) করেন ঐ সময়ে যখন তিনি এই মর্মে স্থিরসঙ্কল্প হন যে তিনি পলায়ন না করে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যুদ্ধ করবেন।

[5] কিতাব আল-তাবাকাত আল-কাবির – লেখক: মুহাম্মদ ইবনে সা'দ (৭৮৪-৮৪৫ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজী অনুবাদ: Aisha Bewley. Ta-Ha publication, London, 1997, ভলুউম ৭,
ISBN 1-897940-62—9 (pbk), পৃষ্ঠা xxi
[6] “The first Kharijites were those who separated from the body of the Muslims in the Great Fitna in the wake up of the Battle of Siffin, refusing to acknowledge Ali after he had agreed to arbitration. They broke away, hence their name, ‘al-khawarij’, and elected their own khalif.”

[7] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ১৭, ইংরেজী অনুবাদ: G. R Hawting, School of Oriental and African Studies, University of London, Published by - State University of New York press, Albany
ISBN 0-7914-2394—8 (pbk), পৃষ্ঠা (Leiden) ৩৩৮০-৩৩৯০ http://www.amazon.com/The-History-Al-Tabari-Eastern-Studies/dp/0791423948#reader_0791423948

[8] Ibid, পৃষ্ঠা ৩৪০৪-৩৪০৭ 

[9] আলীর মৃত্যুর পর যিয়াদ বিন আবিহি মুয়াবিয়ার আনুগত্য মেনে নেন। মুয়াবিয়া তাকে তার সৎ ভাই (half brother) হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করেন। পরবর্তীতে যিয়াদ ইরাকের বিখ্যাত গভর্নরদের একজন হিসাবে প্রসিদ্ধ লাভ করেন।

[10] Ibid, পৃষ্ঠা ৩৪১৩-৩৪১৮ 

[11] Ibid, পৃষ্ঠা ৩৪৫৯-৩৪৬০