আল্যা সর্বব্যাপী – তিনি বরাহেও আছেন, বিষ্ঠাতেও আছেন # আল্যা সর্বব্যাপী – তিনি বোরখাতেও আছেন, বিকিনিতেও আছেন # আল্যা সর্বব্যাপী – তিনি জলাশয়েও আছেন, মলাশয়েও আছেন # আল্যা সর্বব্যাপী – তিনি উটমূত্রেও আছেন, কামসূত্রেও আছেন # আল্যা সর্বব্যাপী – তিনি আরশেও আছেন, ঢেঁড়শেও আছেন # আল্যা সর্বব্যাপী – তিনি হাশরেও আছেন, বাসরেও আছেন

শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

আসল সৃষ্টিকর্তা


স্বপ্নেপ্রাপ্ত কাহিনী লিখেছেন জাগ্রত সত্ত্বা

রফিক খুব ধার্মিক মানুষ। সারা জীবন শুধু নামাজ আর ধর্মের মাঝে দিন কাটিয়েছে। কখনো কারও ক্ষতি করে নি। জামাত তাবলীগ ছাড়া অন্য কোথাও তাকে দেখা যায় নি। 

এক সময়ে সে মারা গেল। মৃত্যুর কিছু পরে তিন জন প্রহরী এল তাকে স্বর্গবাসী করে নিয়ে যাবার জন্য। তারা তাকে স্বর্গের সবচেয়ে নিচের ধাপে নিয়ে গেল ও তাকে বলল, আমাদের ৬৮৭২ টা স্বর্গের মাঝে আপনা্র জন্য ৬৮৭২ নম্বর স্বর্গ আমাদের সৃষ্টিকর্তা বরাদ্দ করেছেন। 

রফিক সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল সুবানআল্লাহ, যা হোক নরকে তো যেতে হয় নি! 

প্রহরী বলল, আপনি নরকে যাবেন কীভাবে? নরক তো এখানে নেই। সবই স্বর্গ, আর আপনি তার সবচেয়ে নিচের স্বর্গ পেয়েছেন। সৃষ্টিকর্তা নরক কেন বানাবেন আর তার সৃষ্টিকে কেনই বা কষ্ট দেবেন? কেউ কি তার সৃষ্টিকে কষ্ট দিতে পারে, আপনি কি পেরেছেন আপনার সন্তানকে কষ্ট দিতে? আর তার নিজের গড়া সৃষ্টিকে তিনি নিজে কীভাবে কষ্ট দেবেন। 

রফিক বলে উঠল, তাহলে আমকে কেন নিচের স্বর্গ দেয়া হল? আমি তো কখনো অন্যায় করি নি, সারাজীবন নামাজ পড়ে কাটিয়ে দিয়েছি! 

প্রহরী হাসতে হাসতে বলে উঠল, আপনি আমাদের সৃষ্টিকর্তার কথা শোনেন নি। ভুল পথে গিয়েছেন। তাকে মানেন নি এবং ঘৃণা করেছেন। তার কথা মত নিজের বুদ্ধিকে কাজে লাগান নি, বরং তার কাজের প্রতিবাদ করেছেন। একজন একজন নিম প্রহরী (প্রহরীদের প্রধানের একজন) কথায় তাকে সৃষ্টিকর্তা মেনেছেন। তাকে সেজদা করেছেন। 

রফিক: তাহলে তিনি (আসল সৃষ্টিকর্তা) আমাদের কাছে আসেন নি কেন? 

প্রহরী: তিনি আসার প্রয়োজন মনে করেন নি। কারণ তিনি প্রভুত্ব পছন্দ করেন না। সেজদা অনুরাগী তিনি না। তিনি শুধু চেয়েছেন তার সৃষ্টি যেন জ্ঞানে-বুদ্ধিতে বিকাশ পায়। নিজে নিজে নতুন কিছু সৃষ্টি করে, কোন গায়েবি আশায় না থাকে। আর আপনি নিজে বুদ্ধিকে কখনো কাজে লাগান নি, শুধু ধর্ম নিয়ে বসেছিলেন। আর একজন নিম প্রহরী আপনার বুদ্ধি বিকাশ করতে দেয় নি, একটি জায়গায় বুদ্ধিটাকে আটকিয়ে রেখেছে। এর জন্য আপনি সবার নিচে। আর মজার ব্যাপার হল যারা কোনো ধরনের সৃষ্টিকর্তাকে মানেই নি, ১ নম্বর স্বর্গে এই ধরনের মানুষই সবচেয়ে বেশি। কারণ, বেশির ভাগ বিজ্ঞানী, লেখক, সমাজসেবী নাস্তিক ছিল। তাতে আমাদের সৃষ্টিকর্তার কোনো সমস্যা নেই। কারণ স্বর্গে এসে সবাই সৃষ্টিকর্তাকে দেখে, বুঝতে পেরেছে সৃষ্টিকর্তা একজন ছিল। আগে থেকে জানতে হবে এমন কোনো কারণ নেই, উনি নিজেই তা চান নি। আর একটা কথা, সৃষ্টিকর্তা বলেছেন, স্বর্গে এসে সেজদা যেন কেউ তাকে না দেয়, অতিরিক্ত আনুগত্যের কারণে সে ত্যক্ত-বিরক্ত। আরও বলেছেন, সৃজনশীল কাজ, সৃষ্টি করে তাকে খুশি করতে, অন্য কিছুতে নয়। আপনি নতুন কিছু সৃষ্টি করলেই ওপরের স্বর্গে চলে যেতে পারবেন। 

রফিক: হুম, বুঝলাম। কিন্তু এত কিছু বললেন, সৃষ্টিকর্তা কে তা তো বললেন না? 

প্রহরী: এখনও বোঝেন নি? এই জন্যই তো আমদের সৃষ্টিকর্তা স্বয়ং শয়তান আপনাকে নিচের স্বর্গ প্রদান করেছেন। তিনি দুনিয়াতেও মানুষকে নতুন কিছু সৃষ্টি করার জন্য অনুপ্রেরণা দিয়ে গেছেন। কিন্তু আমাদের নিম প্রহরী নিজেকে সৃষ্টিকর্তা দাবি করে কিছু মানুষকে অলস করে রেখেছেন। 

রফিক: তাহরে তিনি নিম প্রহরীকে শাস্তি দিচ্ছেন না কেন? 

প্রহরী: নিজের সৃষ্টিকে তিনি কখনো শাস্তি দেন না। তিনি খুবই ভাল এবং সবাইকে ভালবাসেন। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন