লিখেছেন অধম পুরুষ
Nice study from the US-এ প্রচারিত “বিপজ্জনক প্রদেশসমূহ: কারা সবচেয়ে বেশি পর্নো ক্রয় করে?” নামক প্রবন্ধে পর্নো ক্রয় বা উপভোগ করার বিষয়ে আমেরিকার প্রদেশগুলোর একটি ক্রমতালিকা তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়টির ওপর আলোকপাত ও অনুসন্ধান করেছেন গবেষণাকারী বেঞ্জামিন এডেলম্যান। তিনি ২০০৬ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত একটি অনলাইন পর্নো সরবরাহকারী সাইট-এর থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং বেনামী ও নামহীন ক্রয় রশিদগুলো পর্যালোচনা করেন। বিচার বিশ্লেষণ করে পাওয়া তথ্য ও উপাত্তগুলো ছিল খুবই মজাদার ও আকর্ষণীয়।
এখানে একটি খণ্ডাংশ তুলে ধরা হল:
রিপোর্টের ভিত্তিতে দেখা গেছে যে, প্রতি রবিবারে চার্চে বা অন্যান্য ধর্মীয় আচারে মানুষের অংশগ্রহণ যখন ১.০% বেড়ে যায়, তখন অনলাইন সাইট থেকে পর্নো বেচাকেনা ০.১% কমে যায়। এই পর্যবেক্ষণ থেকে মোটের ওপর এটাই বোঝা যায় যে, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা তাদের ঐদিনে পর্নো কেনা কমিয়ে দেয়, যদিও সপ্তাহের অন্যান্য দিনে তাদের পর্নো ক্রয় ও উপভোগ করার হার একই রকম থাকে।
অর্থাৎ রবিবার চার্চে যাও, সোমবার মাল খসাও। এটা অন্তত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা প্রদর্শন করবে !!!
এডেলম্যান অ্যামেরিকার প্রদেশগুলির যে তালিকাই দেন না কেন, একটি প্রদেশ বাকি সবার থেকে পর্নো উপভোগ করার ক্ষেত্রে তার স্বকীয়তা বজায় রেখেছে। এটি হলো মরমনদের (মরমন: একটি বিশেষ ধর্মীয় গোষ্ঠী) শক্ত ঘাটি ইউটা। তাছাড়া অন্যান্য কিছু ফলাফলও লক্ষ্য করার মত:
যেসব প্রদেশে যৌনতার ওপর খুব বেশি কড়াকড়ি আরোপ করা আছে, সেই প্রদেশগুলোতেই পর্নো উপভোগ করার হার কিছুটা বেশি। যে ২৭টি প্রদেশে "বিবাহের সুরক্ষা" আইন সংশোধনী আনা হয়েছে যেগুলোর দ্বারা সমকামী সম্পর্ককে অবৈধ করে তোলা হয়েছে, সেসব প্রদেশেই পর্নোর গ্রাহক হবার হার বেশি - অন্য প্রদেশের তুলনায় প্রায় ১১% বেশি।
আরো উল্লেখ করা হয়েছে:
যেসব প্রদেশে অধিকাংশ মানুষ মনে করে ‘ঈশ্বর/খোদা এখনও তার লীলা দেখান’ বা ‘ঈশ্বর/খোদার অস্তিত্ব নিয়ে আমার কোনো সংশয় নেই’, সেসব প্রদেশে পর্নের বেচাকেনাও বেশি। এবং সেখানেও বেশি... যেখানে মানুষ মনে করে ‘এইডস হয়তো ঈশ্বর/খোদা প্রদত্ত যৌন অনাচারের শাস্তি’ বা যেখানে মানুষ বিবাহ ও পরিবার সম্পর্কে সনাতন ধারণা পোষণ করে।
হতভাগ্য রক্ষণশীল!!! পেটে ক্ষুধা, মুখে লাজ!!! তাদের এই অতৃপ্ত যৌনাকাঙ্ক্ষা পূরণ করার একটাই উপায় - সমকামীদের ঘৃণা কর আর বেশি করে পর্নো দেখ!!! সত্যিই হতাশাজনক। এমনকি এডেলম্যানের পর্যবেক্ষণ যদি পর্নো দেখা ও ধর্মের মধ্যে তেমন কোনো পারস্পরিক যোগাযোগ বা সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে নাও পারে, এই পর্যবেক্ষণ নিশ্চিতভাবেই এমন কোনো কিছু দেখায় না যাতে মনে হয় যে, সনাতনীয় বা ধর্মীয় অনুভূতি পোষণের সঙ্গে পর্নো কম দেখার কোনো সম্পর্ক আছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন